রেল সংস্কারে তোড়জোড়: কর্মচাঞ্চল্য অব্যাহত রাখতে হবে

  সম্পাদকীয় ০৮ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কুলাউড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও সেইসঙ্গে জরাজীর্ণ রেললাইন ও সেতু নিয়ে যুগান্তরে বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশের প্রেক্ষিতে ঝুঁকিপূর্ণ রেলপথ ও সেতু সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ার সংবাদ ইতিবাচক।
ফাইল ছবি

কুলাউড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও সেইসঙ্গে জরাজীর্ণ রেললাইন ও সেতু নিয়ে যুগান্তরে বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশের প্রেক্ষিতে ঝুঁকিপূর্ণ রেলপথ ও সেতু সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ার সংবাদ ইতিবাচক।

উদ্যোগটি যেন লোক দেখানো না হয়, এমনটাই প্রত্যাশা থাকবে আমাদের। সাধারণত কোনো দুর্ঘটনার পর ‘তৎপর’ হওয়ার যে সংস্কৃতি বিরাজ করছে আমাদের মধ্যে, তা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি।

অভিযোগ রয়েছে, রেলপথ ও সেতু মেরামত-সংস্কারে নামমাত্র বরাদ্দ থাকায় এ কাজে নাকি উৎসাহ কম উর্ধ্বতনদের; তারা বরং উচ্চব্যয়ের প্রকল্প গ্রহণের ব্যাপারেই বেশি উৎসাহী। বলাবাহুল্য- এর কারণ একটাই; প্রকল্পে ‘নয়ছয়’ করে বিপুল পরিমাণ টাকা পকেটস্থ করার সুযোগ রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত প্রায় সাড়ে ৯ বছরে রেলওয়ে অন্তত ৪২টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, ত্রুটিপূর্ণ রেললাইন ও সেতুর কারণে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে না পারায় উন্নয়ন প্রকল্পের কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।

রেলওয়ের কিছু কিছু সেতু পাকিস্তান ও বাংলাদেশ আমলে তৈরি হলেও অধিকাংশই ব্রিটিশ আমলের এবং এগুলোর বয়স ৮০ থেকে ১০০ বছর পার হয়ে গেছে। সাধারণভাবে একটি সেতুর মেয়াদ (লাইফ টাইম) সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ৬০ বছর বলে ধরা হয়।

সেই হিসাবে ব্রিটিশ আমলে তৈরি কোনো রেলসেতুরই মেয়াদ নেই। মেয়াদোত্তীর্ণ এসব সেতুর স্থলে সম্পূর্ণ নতুন সেতু তৈরির নিয়ম থাকলেও এ কাজে গড়িমসি করা হচ্ছে, যা জনস্বার্থ বিরোধী। দেশে প্রচলিত যোগাযোগ ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ছিল রেলওয়ে খাত।

এ সম্ভাবনা বিনষ্ট করতে করতে একেবারে শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসা হয়েছে। এর ফলে রেলওয়ের অস্তিত্বই এখন হুমকির সম্মুখীন। জনবল সংকটের কারণে একটার পর একটা রেলস্টেশন বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংস্কার না করায় সারা দেশের রেলপথ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

দেশের ২৮ হাজার ৭৮ কিলোমিটার রেলপথ ৩ হাজার ৬২৯টি ছোট-বড় সেতুর ওপর দিয়ে গেছে। এর মধ্যে অন্তত ৩ হাজার ২৪০টি সেতু মেয়াদোত্তীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ।

ঝুঁকিপূর্ণ এসব সেতুর ওপর দিয়ে নানা কায়দায় ট্রেন চলাচল করলেও তার গতিবেগ থাকে ঘণ্টায় মাত্র ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার। ঘণ্টায় ৩শ’ থেকে ৪শ’ কিলোমিটার গতিবেগ নিয়ে বিশ্বের নানান জায়গায় যখন ট্রেন চলছে; তখন আমাদের এখানে ঘণ্টার গতিবেগকে ৬০ কিলোমিটারের ওপরে তুলতে না পারাটা দুর্ভাগ্যজনক।

জরাজীর্ণ রেললাইন ও সেতুর প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়াও বিরাজমান চুরি-দুর্নীতি রোধসহ রেল খাতে বিরাজমান সমস্যাগুলোর ত্বরিত সমাধান করে অচলপ্রায় রেলকে সচল করার পদক্ষেপ নেয়া হবে, এটাই প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×