রেমিটেন্সে প্রণোদনা: চিহ্নিত ঝুঁকি মোকাবেলা সাপেক্ষে দিতে হবে

  সম্পাদকীয় ০৮ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স বৈধ পথে পাঠাতে উৎসাহী করে তোলার লক্ষ্যে এ ক্ষেত্রে প্রণোদনা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শতকরা দুই টাকা হারে রেমিটেন্সে প্রণোদনা দেয়ার ঘোষণা ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে দেয়া হয়।
ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স বৈধ পথে পাঠাতে উৎসাহী করে তোলার লক্ষ্যে এ ক্ষেত্রে প্রণোদনা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শতকরা দুই টাকা হারে রেমিটেন্সে প্রণোদনা দেয়ার ঘোষণা ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে দেয়া হয়।

চলতি বছর রেমিটেন্স আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ১৫ শতাংশ বাড়িয়ে ধরে ১ হাজার ৭২৩ কোটি ডলার বা ১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা ধরে এ খাতে প্রণোদনা দেয়ার জন্য ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বৈধ পথে তথা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিটেন্স পাঠালে প্রতি ডলারে ৮৫ টাকা পাওয়া যায়।

অন্যদিকে কার্ব মার্কেটের মাধ্যমে পাঠালে পাওয়া যায় ৯০ টাকা। ফলে প্রবাসীরা যাতে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিটেন্স পাঠাতে উদ্বুদ্ধ হন প্রণোদনা দেয়ার মাধ্যমে সে চেষ্টা করা ইতিবাচক উদ্যোগ।

তবে যে কোনো উদ্যোগ নেয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকি পর্যালোচনা ও সম্ভাব্য লাভ-ক্ষতি বিবেচনায় নেয়া হলে সেটি ফলপ্রসূ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি। বিষয়টি মাথায় রেখে দুই শতাংশ হারে রেমিটেন্সে প্রণোদনা দেয়ার ক্ষেত্রে পাঁচটি ঝুঁকি চিহ্নিত করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

এগুলো হল- একাধিকবার প্রণোদনা নেয়ার জন্য রেমিটেন্সের মাধ্যমে পাঠানো অর্থ ফের বিদেশে নিয়ে যাওয়া, অনিয়ম করে নেয়া প্রণোদনার অর্থ ফেরত নেয়া যাবে কিনা, প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব, রফতানিকারকরা কৌশলে সুবিধাটি ভোগের শঙ্কা এবং ভবিষ্যতে সুবিধাটি প্রত্যাহারের নেতিবাচক প্রভাব। মন্ত্রণালয়ের ফিজিবিলিটি স্টাডি প্রশংসার দাবি রাখে।

কারণ আমাদের দেশে অনেক সময় সম্ভাব্যতা যাচাই না করে প্রকল্প নেয়ার আক্কেল সেলামির উদাহরণ কম নেই। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাজ হবে চিহ্নিত পাঁচটি সমস্যা মোকাবেলা করে কীভাবে রেমিটেন্সে প্রণোদনা দেয়া যায় তা নিশ্চিত করা।

বিশেষত, একই অর্থ বিদেশে নিয়ে একাধিকবার প্রণোদনা নিতে না দেয়া, রফতানিকারকরা যাতে কৌশলে প্রণোদনা নিতে না পারে তা নিশ্চিত করা এবং বিধিবহির্ভূতভাবে নেয়া প্রণোদনার অর্থ ফেরত নেয়ার পথ সুগম করার ওপর জোর দেয়া দরকার।

প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ যাতে হুন্ডির মাধ্যমে না এসে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আসে সেটি যেমন নিশ্চিত করা দরকার, তেমনি তাদের বৈধ পথে রেমিটেন্স পাঠানোর জন্য উৎসাহী করে তোলাও জরুরি। এক্ষেত্রে প্রণোদনা ছাড়াও অন্যান্য উদ্যোগের বিষয় ভাবা যায়। যেমন- বিমানবন্দরে হেনস্তা বন্ধ করা, আমাদের দূতাবাসগুলো যেন প্রবাসী কর্মীদের সঙ্গে সুন্দর আচরণ করে তাদের সমস্যায় হাসিমুখে পাশে দাঁড়ায় তা নিশ্চিত করা।

এছাড়া সরকার দূতাবাসের মাধ্যমে প্রবাসীদের উপার্জিত অর্থ তথা রেমিটেন্স প্রেরণে সহায়তার উদ্যোগ নিতে পারে। এতে করে প্রবাসীরা প্রণোদনা ছাড়াও বৈধ চ্যানেলে রেমিটেন্স পাঠাতে উৎসাহী হবে। মোদ্দাকথা, প্রবাসীদের মধ্যে ইতিবাচক মানসিকতা তৈরি করা গেলে ভালো কাজ দেবে।

এছাড়া প্রণোদনার ক্ষেত্রে চিহ্নিত ঝুঁকিগুলো মোকাবেলা, অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে রেমিটেন্সে প্রণোদনার ফলপ্রসূ বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×