করের শরবিদ্ধ মধ্যবিত্ত: এ জীবন নির্বাহ হবে কীভাবে?

  সম্পাদকীয় ০৯ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাজেট
বাজেট। ফাইল ছবি

চলতি অর্থবছরে কর কাঠামো এমনভাবে বিস্তৃত করা হয়েছে যে, এর বেশিরভাগ ভার পড়েছে মধ্যবিত্ত ও চাকরিজীবীদের ওপর। জীবনধারণের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের বোঝা বইতে হবে তাদের।

বেশিরভাগ মধ্যবিত্তকে জীবনযাত্রার ব্যয় কী করে সংকুচিত করবে, তা ভেবে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিশেষ করে ভ্যাটের প্রভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় এক লাফে অনেক বেড়ে যাবে।

এক কেজি চিনিতে ধনী-গরিব নির্বিশেষে আগে যেখানে ট্যাক্স-ভ্যাট মিলিয়ে ১৪ টাকা দিতে হতো, এখন সেখানে দিতে হবে ২৩ টাকা। এক লিটার ভোজ্যতেলে সাড়ে ৯ টাকার পরিবর্তে এখন দিতে হবে সাড়ে ১৬ টাকা।

অনেক মধ্যবিত্তের আয়ের বড় অংশই আসে সঞ্চয়পত্র থেকে। এবার সঞ্চয়পত্রে মুনাফার ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করায় উল্লিখিত শ্রেণিভুক্ত ব্যক্তিরা কীভাবে জীবনযাত্রায় ব্যয় মেটাবে তা ভেবে দিশেহারা। যাদের আয়ের একমাত্র উৎস সঞ্চয়পত্র তারা কতটা চিন্তিত তা সহজেই অনুমান করা যায়।

ব্যাংকে সঞ্চয়ের মুনাফায় গত অর্থবছরে উৎসে কর ছিল ১০ শতাংশ যা চলতি অর্থবছরে বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৫ শতাংশ। এতে সীমিত আয়ের ব্যক্তিরা বিশেষভাবে চিন্তিত হয়ে পড়েছে।

যারা সারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে নিজের বাড়ি নির্র্মাণের স্বপ্ন দেখে এসেছে, রড ও সিমেন্টের দাম বৃদ্ধির কারণে তাদের অনেকের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে কিনা, এ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে মোবাইল ফোন ছাড়া জীবনের একটি মুহূর্তের কথা কল্পনাও করা যায় না।

এই নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবাটি গ্রহণ করতে আগে ১০০ টাকায় সব মিলিয়ে কর দিতে হতো ২২ টাকা, এখন এই সেবা পেতে সব মিলিয়ে কর দিতে হবে ২৭ টাকা। এখন পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের কাছেই একটি করে মোবাইল ফোন রয়েছে।

ফলে কেবল এ খাতেই বছরে অতিরিক্ত অনেক টাকা ব্যয় হবে। এছাড়া জীবন ধারণের প্রতিটি ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি,এটিও এক বড় সমস্যা।

সঠিকভাবে করজাল বিস্তৃত করতে না পারার কারণে নির্দিষ্ট কিছু খাতে অতিরিক্ত কর আরোপ করতে হচ্ছে। ভোক্তা যে ভ্যাট প্রদান করছেন তা ঠিকমতো সরকারি কোষাগারে যাচ্ছে কিনা এটাও এক বড় প্রশ্ন।

প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের বিভিন্ন বোঝা বইতে নিম্ন-মধ্যবিত্তের যত কষ্টই হোক; সব বোঝা বইবার পর স্বাভাবিকভাবে একজন ব্যক্তি রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থার কাছে কিছু সেবা আশা করে। কিন্তু বাস্তবতা হল সরকারি বিভিন্ন সংস্থায় প্রত্যাশিত সেবা সময়মতো পাওয়া যায় না।

পেশাগত কারণে এখন প্রত্যেককেই নির্দিষ্ট সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে হয়। একজন নিম্ন-মধ্যবিত্তের কর্মজীবী সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে বর্তমানে অ্যাপভিত্তিক রাইড বেছে নিতে বাধ্য হয়। অথচ গণপরিবহনে ন্যূনতম শৃঙ্খলা থাকলে এই বাড়তি খরচ হতো না।

বর্তমানে বেসরকারি খাতের চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়ে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক নিম্ন-মধ্যবিত্ত নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত অতীতে যেমন বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে, আগামীতেও যাতে তেমন অবদান রাখতে পারে, সে জন্য তারা সবসময়ই প্রস্তুত থাকে।

কিন্তু জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে গিয়ে হিমশিম খেলে তারা সেই দায়িত্ব পালন করবে কীভাবে?

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×