ওয়াসার পানিতে কলিফর্ম: দূষণের উৎস চিহ্নিত করে নিতে হবে ব্যবস্থা

  সম্পাদকীয় ০৯ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ওয়াসা
ওয়াসা। ফাইল ছবি

ঢাকা ওয়াসার ১০টি বিতরণ জোনের মধ্যে তিনটি এলাকার পানিতে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর মলের জীবাণু বা কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া পেয়েছে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত চার সদস্যের কমিটি। একটি এলাকায় পাওয়া গেছে নন-প্যাথজেনিক ব্যাকটেরিয়া।

১০টি জোনের পানিতেই মাঝারি বা অতি মাত্রায় পানি শোধনে ব্যবহৃত রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এগুলোও হতে পারে নগরবাসীর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ। উল্লেখ্য, গত ২০ মে এক আদেশে ঢাকা ওয়াসার ১০টি জোনের বিভিন্ন এলাকা ও পানির চারটি উৎস (বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, ভূগর্ভস্থ ও ভূ-উপরিস্থ) থেকে পানি পরীক্ষার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

এরপর ১০টি জোনের বিভিন্ন এলাকা থেকে দৈবচয়নের ভিত্তিতে এবং দূষণের অভিযোগ রয়েছে এমন ৩৪টি স্থান থেকে পানির নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে আটটি নমুনায় ব্যাকটেরিয়া দূষণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে যে চারটি উৎস থেকে ওয়াসা পানি সংগ্রহ করে, তার কোনোটিতেই ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়নি।

ঢাকা ওয়াসার পানির বিষয়ে নগরবাসীর অভিযোগের শেষ নেই। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মানুষ অপরিষ্কার ও দুর্গন্ধযুক্ত পানির অভিযোগ করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। শুধু অভিযোগ নয়, ইতিপূর্বে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাতেও ওয়াসার পানিতে ক্ষতিকর অ্যামোনিয়া ও ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

অবশ্য ওয়াসা কর্তৃপক্ষ বলে থাকে, তাদের পানি ঠিকই আছে, তবে পাইপলাইনে ত্রুটি থাকায় কিছুটা দূষিত হচ্ছে পানি। যেহেতু পরীক্ষায় পানির চার উৎসে ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়নি, সেহেতু ধরে নেয়া যায় ওয়াসার বক্তব্যে কিছুটা হলেও সত্যতা আছে।

সেক্ষেত্রে পাইপলাইনে কী কারণে দূষণ ঘটছে তা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। পাইপলাইনের ত্রুটি ও দূষণের অন্যান্য কারণ দূর করার উদ্যোগ নেয়া দরকার অবিলম্বে। এর সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের প্রশ্ন জড়িত বিধায় এ নিয়ে হেলাফেলার সুযোগ নেই।

বিশুদ্ধ পানির সমস্যা কেবল রাজধানীবাসীর নয়। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে সাত কোটি মানুষ অপরিচ্ছন্ন ও অনিরাপদ উৎসের পানি পান করছে।

পাইপলাইনের পানির ৮২ শতাংশেই রয়েছে ই-কোলাই, যা পাকস্থলী ও অন্ত্রের রোগ সৃষ্টি করে। এ পরিস্থিতির পরিবর্তন জরুরি। বিশুদ্ধ পানি প্রাপ্তি জনগণের মৌলিক অধিকার। তাই এর সরবরাহ নিশ্চিত করতে দেশের প্রতিটি স্থানের কর্তৃপক্ষকে তৎপর হতে হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×