সাজানো টেন্ডারে অর্থ লোপাট

হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ক্রয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে

  সম্পাদকীয় ১০ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সাজানো টেন্ডারে অর্থ লোপাট

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যন্ত্রপাতি ক্রয়ে বড় ধরনের দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, সাজানো টেন্ডারের মাধ্যমে ১৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকার কার্যাদেশের মধ্যে ১৬ কোটি ৬১ লাখ টাকাই লোপাট করা হয়েছে।

বাকি প্রায় ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা কার্যাদেশপ্রাপ্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ভ্যাট-ট্যাক্স বাবদ কেটে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ লোপাট হয়েছে শতভাগ সরকারি অর্থই। দুদকের অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে যন্ত্রপাতি কেনাকাটার নামে ভুয়া রেজিস্টার দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের রাস্তা তৈরি করেন সাতক্ষীরার তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. তওহীদুর রহমান।

তার তত্ত্বাবধানে ঠিকাদারসহ আট সদস্যের একটি সিন্ডিকেট এ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। বিষয়টি উদ্বেগজনক। আমরা আশা করব, এ দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদক যে আইনগত ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে, তার মধ্য দিয়ে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত হবে।

সরকারি হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ক্রয়ে দুর্নীতির ঘটনা ঘটছে প্রায়ই। সম্প্রতি রংপুর মেডিকেল কলেজের যন্ত্রপাতি ক্রয়েও বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে, ৫ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ক্রয়ের নামে সোয়া ৩ কোটি টাকাই লোপাট করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কার্যাদেশ দেয়ার চারদিনের মাথায় জাপান, ইতালি, জার্মানিসহ বেশ কয়েকটি দেশ থেকে যন্ত্রপাতি এনে তা মেডিকেল কলেজে সরবরাহ করা হয়েছে।

স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে, মাত্র চারদিনে এতগুলো দেশ থেকে পণ্য ক্রয় ও তা পরিবহন করে মেডিকেল কলেজে সরবরাহ করা কি আদৌ সম্ভব? শুধু তাই নয়, অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, পারস্পরিক যোগসাজশে যন্ত্রপাতির মূল্য কয়েক গুণ বাড়িয়ে লেখা হয়েছে। আরও অভিযোগ উঠেছে, এমন কিছু যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে, যা মেডিকেল কলেজের প্রয়োজন নেই।

বস্তুত সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্রয়ে দুর্নীতি ও অপচয় একটি সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। যে কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানে কেনাকাটায় স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়টি তাই অত্যন্ত জরুরি।

ক্রয় সংক্রান্ত কমিটিতে কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রেও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। ইতিপূর্বে দুদকের এক সুপারিশে বলা হয়েছিল, সরকারি হাসপাতালে ওষুধ ও মেডিকেল যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ করার জন্য ক্রয় কমিটিতে বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা যেতে পারে।

এছাড়া হাসপাতাল পর্যায়ে যন্ত্রপাতি রিসিভ কমিটিতে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ সংস্থার প্রতিনিধিদের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে যন্ত্রপাতি গ্রহণের ব্যবস্থা, যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার স্বার্থে দক্ষ জনবল নিয়োগ দিয়ে যন্ত্রপাতি সরবরাহের বিধান করা ইত্যাদি পদক্ষেপের কথাও বলা হয় দুদকের সুপারিশে।

দুদকের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ হল, হাসপাতালে বিদ্যমান মেডিকেল ইকুইপমেন্টের হালনাগাদ তথ্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা। এ ক্ষেত্রে ইলেক্ট্রনিক স্টক রেজিস্টারের সঙ্গে একটি ডিসপ্লে যুক্ত করা যেতে পারে। হাসপাতালে ই-রেজিস্টার চালু করা যেতে পারে।

আমরা মনে করি, সরকারি হাসপাতালে ওষুধ ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ের ক্ষেত্রে দুদকের এসব সুপারিশ আমলে নেয়া উচিত। মোদ্দা কথা, সরকারি ক্রয়ের সর্বক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য যা কিছু করা প্রয়োজন তা করতে হবে। সেই সঙ্গে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠা মাত্র তার সুষ্ঠু তদন্ত করে নিতে হবে ব্যবস্থা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×