অপ্রতিরোধ্য গতির খুন ও ধর্ষণ

সমাজটা যাচ্ছে কোথায়?

  সম্পাদকীয় ১২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সম্পাদকীয়

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে বললে অত্যুক্তি হবে না। খুন ও ধর্ষণ বর্তমান সময়ে নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংবাদপত্রের পাতা ও টেলিভিশনের পর্দা খুললেই দেখা যাচ্ছে খুন ও ধর্ষণের খবর। সর্বশেষ গতকালের যুগান্তরে ছাপা হয়েছে মা-ছেলেসহ তিনজনকে কুপিয়ে হত্যার এক নির্মম ঘটনার খবর।

কুমিল্লার দেবিদ্বারে এক ব্যক্তির দায়ের কোপে নিহত হয়েছেন তারা। এলোপাতাড়ি কোপের আঘাতে এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। ঘটনার অব্যবহিত পর খুনিকে আটক করে জনতা। গণপিটুনিতে তারও মৃত্যু ঘটে। বস্তুত খুন ও ধর্ষণের সব ঘটনার বর্ণনা দিতে গেলে এই সম্পাদকীয়তে অন্য কিছু লেখার জায়গা থাকবে না।

কেন বাড়ছে খুন ও ধর্ষণের ঘটনা। কেন ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর করা হল হত্যা? কেনই বা মাদ্রাসার শিক্ষক একের পর এক ধর্ষণ করছে শিশু অথবা কিশোরী?

এসব প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সমাজের সর্বত্রই। তবে কি দেশের জনগোষ্ঠীর একটি অংশ বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছে? অনেকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কথা বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতিই অপরাধ বৃদ্ধির কারণ বলে থাকেন অনেকে।

আসলেই কি শুধু দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই পারে খুন ও ধর্ষণের মতো অপরাধ দূর করতে? বস্তুত সমাজটা এখন এমন জায়গায় চলে গেছে, যেখানে শুধু বিচারব্যবস্থা কোনো কাজে আসবে না। পুরো বিষয়টি এক বড় গবেষণার বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে।

এখন দরকার পড়েছে সমাজতত্ত্ববিদ-মনোবিজ্ঞানীসহ দেশের বুদ্ধিজীবী মহলের সুচিন্তিত গবেষণা, যা মানুষের অপরাধপ্রবণতার কারণগুলো উদ্ঘাটন করে প্রতিকার-ব্যবস্থার সুপারিশ করতে পারবে।

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার পর দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ হয়েছে। হত্যাকারী ও যৌন নিপীড়ক মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে বিচারের সম্মুখীনও করা হয়েছে। কিন্তু থেমে নেই পুড়িয়ে হত্যা বা হত্যাচেষ্টা।

রাফির ঘটনার পর আরও কয়েকটি পুড়িয়ে হত্যা বা হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এ থেকে বুঝতে অসুবিধা হয় না, রাফির ঘটনা থেকে অপরাধীরা কোনো শিক্ষা গ্রহণ করেনি।

প্রকৃতপক্ষে অপরাধীরা বর্তমানে এতটাই বেপরোয়া হয়ে পড়েছে যে, তারা দেশের আইন-কানুন, বিচারব্যবস্থা- কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করছে না। এই অপ্রতিরোধ্য অপশক্তি দমনে সমগ্র দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে অবশ্যই।

দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে এখন। এটা ঠিক, জনবহুল এই দেশের কে কোথায় কীভাবে অপরাধ সংঘটিত করবে, তা আগাম আন্দাজ করা কঠিন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এত জনবল নেই যে, তারা দেশের প্রত্যেক নাগরিককে নজরদারিতে রাখতে পারে।

তারপরও আমরা বলব, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো গেলে সহনীয় মাত্রায় অপরাধ দমন করা সম্ভব। বরগুনার নয়ন বন্ড গ্রুপের সদস্যরা দিনে দিনে সন্ত্রাসী হয়ে উঠেছে। আদালত বলেছেন, তারা একদিনে বেড়ে ওঠেনি।

স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, বরগুনার প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাহলে কী করেছিল? তারা যদি প্রথম থেকেই এই দুর্ধর্ষ বাহিনীর সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করত, তাহলে রিফাত শরীফকে অকালে প্রাণ হারাতে হতো না।

আমাদের কথা হল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অপরাধপ্রবণদের বিরুদ্ধেও সক্রিয় হতে হবে। অপরাধপ্রবণরা যাতে সত্যিকার অপরাধী হয়ে উঠতে না পারে, সেদিকটায় খেয়াল রাখলে সমাজ অনেক অঘটন থেকে বেঁচে যাবে, সন্দেহ নেই।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×