সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার সাতকাহন

  ড. পরিতোষ চন্দ্র রায় ১২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সম্পাদকীয়

বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ভর্তিচ্ছু পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি ও ব্যয় কমানোর জন্য দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে শিক্ষাবিদ এবং সচেতন অভিভাবকরা সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তাব দিয়ে আসছেন।

কিন্তু কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সদিচ্ছা ও সম্মতির অভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ সত্ত্বেও সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে সামনে অনুষ্ঠেয় ভর্তি পরীক্ষা গুচ্ছভাবে নেয়ার সিদ্ধান্তে আপাতত একমত হয়েছে কৃষি অনুষদ আছে এমন আট বিশ্ববিদ্যালয়।

এটি অবশ্যই ভর্তি পরীক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের ভোগান্তি থেকে মুক্তি দেয়ার কিছুটা পূর্বাভাস। তবে এই আট বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে যদি কৃষি অনুষদ সংবলিত আরও কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে থাকে, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানকেও এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা উচিত এবং ওই প্রতিষ্ঠানেরও এই আট বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শামিল হওয়া উচিত। নইলে এ প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।

শিক্ষার্থীরা কৃষি বিষয়ে পড়তে আগ্রহী হয়ে থাকলে তাদেরকে আরও একটি প্রতিষ্ঠানের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। তাই পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি ও অপব্যয় কমাতে চাইলে এমন প্রতিষ্ঠানকেও এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করতেই হবে।

যেমন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মহাবিদ্যালয়েও স্নাতক পর্যায়ে কৃষি পড়ানো হয়।

এ মহাবিদ্যালয়ে কৃষিতে স্নাতক ভর্তির পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস অনুসরণ করে চার বছর মেয়াদি অনার্স কোর্স সম্পন্ন করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই সনদপত্র প্রদান করা হয়।

এই চার বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস অনুসারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রণীত প্রশ্নপত্রেই শিক্ষার্থীদের ফাইনাল পরীক্ষা নেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাই ফাইনাল পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করেন।

মোটকথা, এই মহাবিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত স্নাতক শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যকলাপ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ীই হয়ে থাকে। কিন্তু স্নাতক ভর্তির সময় ভর্তিচ্ছুদের দুই প্রতিষ্ঠানে আলাদাভাবে দুটো পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়।

তাই ভর্তি পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি ও ব্যয় কমাতে চাইলে সরকারি শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মহাবিদ্যালয়কেও এই সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত করা উচিত।

তাছাড়া দুই প্রতিষ্ঠানে আলাদাভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার আরও একটি নেতিবাচক দিক আছে। সেটা হল, একদিকে আট বিশ্ববিদ্যালয়ে লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে অনেকে মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও কৃষির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে।

পক্ষান্তরে এই মহাবিদ্যালয়ে অল্পসংখ্যক পরীক্ষার্থীর সঙ্গে আলাদাভাবে প্রতিযোগিতা করে তুলনামূলকভাবে কম মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও অনেকে বিএসসি.এজি (অনার্স) ডিগ্রি অর্জন করার সুযোগ পাবে। কৃষিপ্রধান এই দেশে মেধাবীদের বঞ্চিত করে অপেক্ষাকৃত দুর্বল ছাত্রদের কৃষিবিদ তৈরি করার জন্য দায়ী হবে এই আলাদা ভর্তি পরীক্ষা।

তাই কৃষি অনুষদের একজন শিক্ষক হিসেবে আমি মনে করি, যারা এই মহাবিদ্যালয়ে কৃষি পড়তে ইচ্ছুক, তাদেরও ওই আট বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ পরীক্ষার প্রতিযোগীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে উত্তীর্ণ হয়েই আসা উচিত।

তাহলে একমাত্র মেধাবীরাই যেমন কৃষিতে স্নাতক পড়ার সুযোগ পাবে, তেমনি তারা আরেকটি অতিরিক্ত পরীক্ষা দেয়ার ব্যয় ও ভোগান্তি থেকেও রেহাই পাবে।

তাই আমরা যদি আন্তরিকভাবে চাই ভর্তিচ্ছু পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমুক, তাদের অভিভাবকদের ব্যয় কমুক, তুলনামূলকভাবে মেধাবীরাই কৃষিতে স্নাতক পড়ুক, তাহলে সরকারি শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মহাবিদ্যালয়কেও এই গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় যুক্ত করতে হবে।

আর যুক্ত করার এই প্রক্রিয়ায় মহাবিদ্যালয়টির অভিভাবক হিসেবে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কেই যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।

ড. পরিতোষ চন্দ্র রায় : শিক্ষক, সরকারি শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মহাবিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×