সাঙ্গ হল ক্রিকেট মেলা

নতুন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে অভিনন্দন

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সম্পাদকীয়

বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। ফাইল ছবি

ক্রিকেট যে অনিশ্চয়তার খেলা- বহু উচ্চারিত এ কথাটিকে সত্য প্রমাণ করে আইসিসি বিশ্বকাপের এক চরম রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন হল ক্রিকেটের জন্মদাতা ইংল্যান্ড।

নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে এ ফাইনাল ম্যাচে কোন্ দল জয়ী হবে, তা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বলার উপায় ছিল না। খেলার ফলাফলও ছিল অমীমাংসিত। নিউজিল্যান্ডের ২৪১ রানের জবাবে ইংল্যান্ডের ইনিংসও ২৪১ রানে শেষ হয়ে যায়।

এরপর হয় সুপার ওভারের খেলা। এক ওভারের এ খেলায়ও দু’দল করে ১৫ রান করে। ক্রিকেটের ইতিহাসে, বিশেষত বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন ঘটনা আগে ঘটেনি। ফলে এবারই প্রথমবারের মতো টাইব্রেকারের নিয়ম প্রয়োগ করে চ্যাম্পিয়ন নির্ধারিত হল সুপার ওভারসহ ম্যাচে বেশি বাউন্ডারি মারার খতিয়ান দিয়ে।

এভাবেই আইসিসি বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০১৯-এর নতুন চ্যাম্পিয়ন হল ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপের ৪৪ বছরের ইতিহাসে এমন নাটকীয় ফাইনাল এর আগে কেউ দেখেনি। এটি দর্শকদের বাড়তি আনন্দ দিয়েছে সন্দেহ নেই। সব মিলিয়ে জয় হয়েছে ক্রিকেটের। শিরোপা জয়ের জন্য ইংল্যান্ড দলের প্রতি রইল আমাদের অভিনন্দন।

এবারের বিশ্বকাপ ছিল বৃষ্টিবিঘ্নিত। বৃষ্টির কারণে বেশ কয়েকটি খেলা পরিত্যক্ত হওয়ায় অংশগ্রহণকারী সংশ্লিষ্ট দলগুলোর মধ্যে পয়েন্ট ভাগ করে দিতে হয়েছে। এতে যে দলগুলোর পয়েন্টের সার্বিক হিসাবে প্রভাব পড়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রকৃতির ওপর কারও হাত নেই সত্য।

তবে বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ নির্ধারণের সময় সেই দেশটির ঋতু ও আবহাওয়া কী থাকবে তা আগে থেকে জানা সম্ভব। এটি মাথায় রেখেই আয়োজক দেশ নির্ধারণ করা উচিত।

আশা করি, বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আগামীতে ভেন্যু নির্ধারণ করবে আইসিসি। গতবারের মতো এবারের বিশ্বকাপেও আম্পায়ারিং নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নজর দিতে হবে এদিকটিতেও।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স নিয়ে দেশে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। টাইগাররা দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয় পেলেও অন্য দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলার পরও জয়ী হতে পারেনি। শ্রীলংকার সঙ্গে ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পয়েন্ট ভাগাভাগি হয়েছে।

তাই শুরুর দিকে পয়েন্ট তালিকায় বাংলাদেশ দলের অবস্থান আশাব্যঞ্জক হলেও পরে তারা পিছিয়ে পড়ে। ফলে সমর্থকরা সেমিফাইনালের প্রত্যাশা করলেও পরে হতাশ হয়েছেন। বিশেষ করে টাইগাররা তাদের শেষ ম্যাচে পাকিস্তান দলের বিপক্ষে যেভাবে পরাজিত হয়েছে, তা সমর্থকরা মেনে নিতে পারেননি।

বাংলাদেশ দলের বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে দুর্বলতা লক্ষ করা গেছে। তবে গোটা টুর্নামেন্টে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের পারফরম্যান্স ছিল অনন্য। ব্যাটিং ও বোলিং দুই ক্ষেত্রেই তিনি কৃতিত্ব দেখিয়েছেন।

মুশফিকুর রহিম ও মোস্তাফিজুর রহমানও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ভবিষ্যতে টাইগারদের সাফল্য অর্জনের জন্য আরও পরিশ্রম করতে হবে। দৃষ্টি দিতে হবে অধিনায়কত্ব ও কোচিংয়ের ওপরও।