আদালত কক্ষে খুন: বিচারালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

  সম্পাদকীয় ১৭ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আদালত কক্ষে বিচারকের সামনে যেভাবে এক আসামি আরেক আসামিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। এ ঘটনায় স্বভাবতই দেশের আদালত অঙ্গন ও বিচারকদের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত

আদালত কক্ষে বিচারকের সামনে যেভাবে এক আসামি আরেক আসামিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। এ ঘটনায় স্বভাবতই দেশের আদালত অঙ্গন ও বিচারকদের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, সোমবার দুপুরে কুমিল্লায় অতিরিক্ত ৩য় দায়রা জজ আদালতে হত্যা মামলার শুনানি চলাকালে ঘটনাটি ঘটে। আমাদের প্রশ্ন, বিচারালয়ের মতো স্পর্শকাতর স্থানে হত্যা মামলার একজন আসামি ছুরি নিয়ে আদালত কক্ষে প্রবেশ করল কীভাবে?

আদালত প্রাঙ্গণে সবসময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপিস্থিতি থাকার কথা। কারও দেহ তল্লাশি না করে এজলাসে ঢুকতে দেয়ার কথা নয়। তাহলে একজন আসামি ছুরি নিয়ে প্রবেশ করল কী করে?

নিশ্চয়ই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল। সেক্ষেত্রে এ ঘটনার জন্য কেবল হত্যাকারীকে শাস্তি দিলে চলবে না, নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল যারা, তাদেরও জবাবদিহিতা ও শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

বস্তুত আদালত ও বিচারাধীন মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে মামলার সাক্ষীরাও নিরাপদ নন। সম্প্রতি নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় এক হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী আদালতে যাওয়ার পথে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

মামলার সাক্ষী ও আদালতের সুরক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে দেশে সংঘটিত হাজারও অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কাজেই কুমিল্লার ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্ত তৈরি করতে হবে। তা না হলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থেকেই যাবে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোটেও ভালো নয়। খুনখারাবি যেন বর্তমানে নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য শত্রুতার বশে মানুষ হত্যা করছে মানুষকে। পত্রপত্রিকা ও টেলিভিশনে বিচিত্র উপায়ে মানুষ হত্যার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে জনজীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে। কেন ঘটছে একের পর এক হত্যাকাণ্ড, কেন মানুষের অপরাধপ্রবণতা বেড়েছে তা সমাজবিজ্ঞানীদের গবেষণার বিষয়।

এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে অপরাধের মূলে হাত দেয়া তথা অপরাধের কারণগুলো খতিয়ে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। তবে আশু কর্তব্য হবে অপরাধ করে কেউ যাতে পার না পায় সেই দৃষ্টান্ত তৈরি করা। এর ফলে কেউ গুরুতর অপরাধ করার আগে অন্তত তার পরিণাম নিয়ে ভাববে। তার মনে ভীতির সঞ্চার হবে। এতে অপরাধের সংখ্যা কমে আসবে বলে আশা করা যায়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×