সামাজিক মাধ্যম কতটা সামাজিক

  মো. আশিকুর রহমান ১৭ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সামাজিক মাধ্যম কতটা সামাজিক
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বায়নের এই যুগে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি আলোড়ন সৃষ্টি করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো। সর্বস্তরের মানুষ এখন এগুলোর মধ্যে তাদের জীবনের বড় একটা অংশ অতিবাহিত করে।

তাদের আবেগ-অনুভূতি, মতামত, বন্ধুত্ব সবকিছু এসবকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে। অনেকে এটিকে পুঁজি করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে, এমনকি প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে সমাজে।

নানা সামাজিক-রাজনৈতিক পরিবর্তনের নেপথ্যেও এটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে, যার উদাহরণ হচ্ছে ‘আরব বসন্ত’। তিউনিসিয়ার সিদি বওজিদ শহরে বেকার কম্পিউটার গ্রাজুয়েট বুয়াজিজি আত্মহননের মধ্য দিয়ে অন্যায়-অত্যাচারের যে প্রতিবাদ করেছিলেন, তা পরিণত হয়েছিল ‘আরব বসন্তে’।

এ ঘটনায় দেশটির প্রায় ৩০ শতাংশ বেকার যুবক বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিল। এই প্রতিবাদের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছিল তিউনিসিয়া থেকে মিসর, ইয়েমেন ও লিবিয়ায়। একের পর এক পতন ঘটেছিল স্বৈরাচারী সরকারের। এসবের নেপথ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছিল।

তাছাড়া উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে প্রতিবেশী দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলের আর্মেনিয়া, জর্জিয়া, আজারবাইজান, ইউরোপের আলবেনিয়া, স্পেন, ক্রোয়োশিয়া, সাব সাহারান অঞ্চলের বারকিনো ফাসো, জিবুতি, উগান্ডা এবং এশিয়ার মালদ্বীপ ও চীনেও সামাজিক মিডিয়া ব্যবহার করে আন্দোলন সংগঠিত হয়েছিল।

এসব দেশের তরুণ আন্দোলনকারীরা তাদের চিন্তা, ধারণা, কৌশল পরস্পরের সঙ্গে লেনদেন করেছে, একে অপরকে নীতিগত সমর্থন দিয়েছে। এটি দেশগুলোতে মিথ্যা ও দুর্নীতি উন্মোচিত করে ভীতির দেয়াল ভেঙে ফেলতে সহায়তা করেছিল।

বাংলাদেশে ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন’ এবং ‘নিরাপদ সড়ক আন্দোলন’ সফল হওয়ার পেছনেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

এর পাশাপাশি ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব পরিলক্ষিত হয় ব্যাপকভাবে। এর মাধ্যমে বিশ্বের এক প্রান্তের মানুষ অন্য প্রান্তে সহজে যোগাযোগ ও ভাব বিনিময় করতে পারে।

এটি পুরো বিশ্বকে একটি ডিজিটাল বৈশ্বিক গ্রামে পরিণত করেছে। এর মাধ্যমে মানুষ পৃথিবীকে নতুন আঙ্গিকে উপলদ্ধি করার পাশাপাশি নিত্যনতুন তথ্য-উপাত্ত ও সহায়ক উপকরণ পেয়ে যাচ্ছে অতি সহজেই।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বিভিন্ন দেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে সচেতনতা অবলম্বন করা হলেও বাংলাদেশে তা লক্ষ করা যায় না। বর্তমান প্রজন্মের সামাজিকতা যেন সব ফেসবুকের ওয়ালে সীমাবদ্ধ।

একবিংশ শতাব্দীতে এসে যেন সামাজিকতার ধরনই বদলে যাচ্ছে এসব যোগাযোগ মাধ্যমের বদৌলতে। বর্তমান ব্যস্ততম সময়ে মানুষের মাঝে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে- এমন বার্তা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সৃষ্টি।

কিন্তু অপব্যবহারের কারণে মানুষ আজ ভুলেই গেছে এগুলোর উপকারিতা সম্পর্কে। অনেকে এ যোগাযোগ মাধ্যমগুলো দ্বারা বিভিন্নভাবে প্রতারণা ও ছলনার শিকার হচ্ছে।

এগুলোর পেছনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় করছে অনেকে, অথচ পরিবারকে দেয়ার মতো সময় নেই তাদের। এভাবে পরিবারে দেখা দিচ্ছে বিচ্ছেদ এবং ভেঙে যাচ্ছে অনেক সংসারও।

আমাদের মনে রাখতে হবে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জীবন নয়, জীবনের অতি ক্ষুদ্র একটা অংশ। সুতরাং ব্যক্তি, রাষ্ট্র ও বৈশ্বিক জীবনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যথাযথ সুফল পাওয়ার জন্য সর্বস্তরের মানুষকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে।

মো. আশিকুর রহমান : শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×