বন্দরে পণ্য খালাসে ধীরগতি: বিরোধসহ কোনো অজুহাতই কাম্য নয়

  সম্পাদকীয় ১৮ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বন্দরে পণ্য খালাসে ধীরগতি

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও পরিবহন মালিক-শ্রমিক বিরোধের অজুহাতে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসে ধীরগতি তৈরি হয়েছে।

জানা যায়, বন্দরের নিরাপত্তার স্বার্থে সেখানে প্রবেশকারী পরিবহনগুলোর চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও জাতীয় পরিচয়পত্র এবং চালকের সহকারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র বা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন পরীক্ষা করার উদ্যোগ নেয়।

এজন্য চালক ও সহকারীদের ‘পাস’ ও ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু একে কেন্দ্র করে কর্তৃপক্ষ ও পরিবহন শ্রমিক-মালিক দ্বন্দ্বে সোমবার বিকাল থেকে কিছু চালক ও হেলপার ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং তারা পণ্য পরিবহনে অনীহা দেখাতে থাকেন।

এতে করে বন্দরের ভেতরে ও বাইরে অচলাবস্থার তৈরি হয়। পণ্য খালাস আটকে থাকে অনেকক্ষণ। পরে অবশ্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।

কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে আগ থেকেই ধীরগতিতে চলা পণ্য খালাসে এর প্রভাব পড়ে এবং মঙ্গলবারও তার প্রভাবে পণ্য খালাসে ধীরগতি দেখা যায়।

চট্টগ্রাম বন্দর আমাদের প্রধান আমদানি-রফতানির দ্বার। এতে যে কোনো ধরনের অচলাবস্থা, ধীরগতি, বিরোধ ইত্যাদি দেখা দিলে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়। বন্দরে অচলাবস্থা তৈরি হলে সেখানে কনটেইনার ভর্তি পণ্য রাখার দায়ে আমদানি ও রফতানিকারকদের বাড়তি মাশুল গুনতে হয়।

নিজেদের দায় না থাকার পরও এ ধরনের ক্ষতি মেনে নেয়ার কোনো যুক্তি নেই।

নিরাপত্তার স্বার্থে চালক ও তাদের সহকারীদের ডাটাবেজ যেমন থাকা দরকার, তেমনই লরির মতো বড় গাড়ি চালকদের দীর্ঘসময় লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখারও কোনো যুক্তি নেই। কারণ তাদের এমনিতেই দীর্ঘ পথ ভ্রমণ করতে হয় যেখানে যানজট লেগেই থাকে।

এর বাইরে যদি কাগজপত্র চেক ও ডাটাবেজ তৈরির জন্য বাড়তি সময় বন্দরে লাইন দিয়ে থাকতে হয় তবে ধৈর্যধারণ কঠিন বৈকি। তারপরও নতুন একটি পদ্ধতি চালু করার ক্ষেত্রে সব পক্ষকেই কিছুটা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া যেমন দরকার, তেমনই এতে করে যাতে আমদানি-রফতানি কাজে ধীরগতি বা অচলাবস্থা তৈরি না হয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। আশার কথা, উভয় পক্ষ ছাড় দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছে।

তবে চালক ও সহকারীদের ডাটাবেজ তৈরিকে কেন্দ্র করে যেন এ ধরনের পরিস্থিতি ভবিষ্যতে আর তৈরি না হয় সেটা নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। চট্টগ্রাম বন্দর আমদানি-রফতানির সিংহদ্বারের পাশাপাশি আমাদের রাজস্ব আহরণের অন্যতম প্রধান খাত।

এতে কোনো ধরনের ঢিলেমি, ব্যবসায়ীদের হয়রানি ও অনিয়ম-দুর্নীতি কাম্য নয়। বন্দরটির সব কার্যক্রম অবিলম্বে অটোমেশনের আওতায় এনে সমস্যাগুলোর সমাধান করা সময়ের দাবি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×