ভালো ফলাফল মানেই কি সাফল্য?

  নাজমুল হক ১৮ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভালো ফলাফল মানেই কি সাফল্য?

২০০১ সালে প্রথম গ্রেডিং পদ্ধতিতে আমি এসএসসি পাস করেছি। তখন পাসের হার ছিল ৩৫.২২ শতাংশ, যা ২০১৯ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ৮২.২ শতাংশে। তখন জিপিএ ৫ (এ+) পেয়েছিল মাত্র ৭৬ জন, যা ২০১৯ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ১,০৫,৫৯৪ জনে।

কালের পরিক্রমায় এ+ প্রায় ১৪০০ গুণ বেড়েছে। অপরদিকে ২০০৩ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ২৯ শতাংশ, যা ২০১৯ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ৭৩.৯৩ শতাংশে। তখন জিপিএ-৫ (এ+) পেয়েছিল মাত্র ২০ জন, যা ২০১৯ সালে দাঁড়িয়েছে ৪৭,২৮৬ জনে।

অর্থাৎ এইচএসসিতে এ+ বেড়েছে প্রায় ২৪০০ গুণ। তাহলে কি বিগত ১৮ বছরে দেশে মেধাবী শিক্ষার্থী বেড়েছে ১৪০০-২৪০০ গুণ? আসলে কি ব্যাপারটা তেমন?

গত কয়েক বছরের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সিংহভাগ জিপিএ-৫ বা এ+ পাওয়া শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পায়নি। এতেই বোঝা যায় জিপিএ-৫ বা এ+ বা গোল্ডেন এ মেধা যাচাইয়ের চূড়ান্ত মানদণ্ড নয়।

তাছাড়া সাধারণ ফলাফল নিয়ে দেশের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার ভূরি ভূরি রেকর্ড রয়েছে। তাই বেসিক বা আউট নলেজ খুবই গুরত্বপূর্ণ।

পাসের হার বা জিপিএ-৫ বা এ+ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে ঠিকই; কিন্তু লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান টাইমস হায়ার এডুকেশনের তথ্যমতে এশিয়ার শ্রেষ্ঠ ৪০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় নেই বাংলাদেশ।

কাজেই শিক্ষার মান বেড়েছে নাকি কমেছে তা অনেকটা স্পষ্ট। অন্যদিকে যারা অকৃতকার্য হয়েছে বা আশানুরূপ ফলাফল করতে পারেনি, তারা কি জীবনে ব্যর্থ?

আসলে শুধু ভালো রেজাল্টই সফলতার শেষ কথা নয়। প্রতিটি পাবলিক পরীক্ষার পর, বিশেষ করে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার পর ফলাফলে অসন্তুষ্ট হয়ে অনেকেই জীবনের সবচেয়ে ভুল বা হতাশাজনক সিদ্ধান্ত নিয়ে আত্মহত্যার মতো ভয়ংকর পথ বেছে নেয়।

২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার পরদিন পত্রিকায় দেখলাম ১৯ জন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে, যাদের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। গত বছরও এইচএসসি পরীক্ষার পর পাঁচজন আত্মহত্যা করেছে (বাংলা ট্রিবিউন)।

যে মানসিক চাপ বা ব্যর্থতা থেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়া হয় তা সমস্যা না কমিয়ে বরং বাড়িয়ে দেয়। পরিবারের একজন সদস্যের আত্মহত্যার জন্য আত্মহত্যাকারীর মা-বাবাসহ গোটা পরিবারটি এলোমেলো হয়ে যায়। আসলে আত্মহত্যা কোনো সমাধান নয়, বরং এটি একটি মানসিক ব্যাধি।

জীবনে যারা কখনও স্কুলের গণ্ডিও পেরোয়নি, এমন সফল ব্যক্তি পৃথিবীজুড়ে হাজার হাজার পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্বখ্যাত কবি, লেখক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্র পরিচালক, রাষ্ট্রদূত, নোবেলজয়ী, সফল উদ্যোক্তা, এমনকি রাষ্ট্রপ্রধানও।

তাই জীবনে সফল হওয়ার জন্য শুধু ভালো রেজাল্টই যে একমাত্র পথ, এ ধারণাটি ভুল। সফলতার জন্য ভালো ফলাফল একটি ধাপ এগিয়ে দেয় মাত্র। জীবনে সফল হওয়ার জন্য সময়ানুবর্তিতা, অধ্যবসায় ও একনিষ্ঠতার কোনো বিকল্প নেই। ভালো ফলাফল যে সফলতার একমাত্র মাপকাঠি নয়, সারা বিশ্বে তা প্রমাণিত।

নাজমুল হক : শিক্ষক; ত্রয়োদশ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় কলেজ পর্যায়ে ফিন্যান্স ব্যাংকিং বিষয়ে প্রথম স্থান অর্জনকারী

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×