বড়পুকুরিয়া কয়লা কেলেঙ্কারি, উদ্ঘাটিত হোক জাতীয় সম্পদ চুরির ঘটনা

  সম্পাদকীয় ১৯ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বড়পুকুরিয়া

বহুল আলোচিত বড়পুকুরিয়া কয়লা কেলেঙ্কারির ঘটনার পেছনে মূলত দুর্নীতিই দায়ী। পেট্রোবাংলার তদন্ত প্রতিবেদনে সিস্টেম লসের কারণে কয়লার ঘাটতির কথা বলা হলেও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে প্রমাণ মিলেছে, কর্মকর্তাদের দুর্নীতির কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে। উল্লেখ্য, বড়পুকুরিয়া খনির কয়লা চুরির ঘটনা কর্তৃপক্ষের নজরে প্রথম আসে গত বছরের জুনে।

অভিযোগ ওঠে, সেখানে ১ লাখ ৪২ হাজার টন কয়লা গায়েব হয়ে গেছে। তবে ধারণা করা হয় প্রকৃত চুরির পরিমাণ এর চেয়ে অনেক বেশি। দেশের একমাত্র কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে এ খনি থেকেই কয়লা সরবরাহ করা হয়। ফলে কয়লা চুরির ঘটনা দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়। পেট্রোবাংলা ও দুদক পৃথকভাবে এ ঘটনার তদন্ত শুরু করে। মামলা দায়ের করা হয় অপসারণকৃত ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে। নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় তাদের বিদেশ গমনের ওপর।

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া খনি থেকে উত্তোলিত কয়লা চুরির ঘটনা একটি বড় ধরনের কেলেঙ্কারি অবশ্যই। ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের প্রত্যেকেরই সাজা হওয়া উচিত।

অভিযোগ আছে, কয়লা খনিতে দুর্নীতির অন্যতম প্রধান কারণ হল ডিও (ডিমান্ড অর্ডার) বাণিজ্য, যার সঙ্গে তৎকালীন মন্ত্রী-এমপি, রাজনৈতিক নেতা ও কর্মকর্তারা জড়িত ছিলেন। কাজেই খনি থেকে উত্তোলিত কয়লার মধ্যে যে কয়লার ডিও বাণিজ্য হয়েছে, সেই ডিও প্রদানকারী এবং ডিও ব্যবসায়ীদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।

এই বিপুল পরিমাণ কয়লা চুরি যে একদিনে হয়নি, তা বলাই বাহুল্য। দীর্ঘদিন ধরেই কয়লা চুরি করে আসছিল দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তারা। ঘটনাটি এর আগে কারও নজরে আসেনি কেন, সেটিও এক বড় প্রশ্ন। এ কারণেও ঘটনাটির একটি ব্যাপকভিত্তিক তদন্ত প্রয়োজন। জানা গেছে, দ্রুত তদন্ত শেষ করে এর প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করবে দুদক।

দুর্নীতির কারণে দেশের বিভিন্ন সেক্টর থেকে জাতীয় সম্পদ লোপাট হয়ে যাচ্ছে, এটি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। এর ফলে দেশের উন্নয়ন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে সমাজের মুষ্টিমেয় লোকের হাতে অল্প কিছুদিনের মধ্যে বিপুল পরিমাণ অর্থ এসে পড়ছে। এসব অর্থের বেশিরভাগই আসছে দুর্নীতি থেকে। এর ফলে সমাজে বৈষম্য বাড়ছে। কাজেই দুর্নীতি রোধে সরকারের কঠোর হওয়া প্রয়োজন। যারা জাতীয় সম্পদ চুরি করেছে তাদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাতেই হবে। কয়লা খনির দুর্নীতির বিষয়টি নিয়ে দুুদক কাজ করছে। তবে দুদকের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জোরালো রাজনৈতিক ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি জবাবদিহি আদায়ে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে যে কোনো ধরনের প্রভাবমুক্ত থেকে স্বাধীন ও কার্যকরভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।

সরকারি কাজে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে দুর্নীতির প্রশ্নে কোনো ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত সবার বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করা হবে, এটাই কাম্য।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×