মশা মারতে অকার্যকর ওষুধ, উচ্চ আদালতের নির্দেশ মেনে চলুন

  সম্পাদকীয় ১৯ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডেঙ্গু

এবারের ডেঙ্গু পরিস্থিতি এককথায় ভয়াবহ। প্রথমত, এবার ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগীর মধ্যে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বেশি। দ্বিতীয়ত, জ্বরের মাত্রা কম, দৃশ্যমান র‌্যাশ অর্থাৎ দাগ না হওয়া, এমনকি শরীরে পর্যাপ্ত ব্যথা না হওয়ায় অনেকেই বুঝতেই পারছেন না তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন কিনা। তৃতীয়ত, দুই সিটি কর্পোরেশন ডেঙ্গুবাহী এডিস মশা নিধনে যে ওষুধ ছিটাচ্ছে, তা অকার্যকর।

আশ্চর্যই বলতে হবে, মশা মারার ওষুধ নিয়েও উচ্চ আদালতকে কথা বলতে হচ্ছে। উচ্চ আদালত এডিস মশা নিধনে অকার্যকর ওষুধ আমদানি, সরবরাহ ও বিপণনে জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনকে নির্দেশ দিয়েছেন। আদেশে কার্যকর ওষুধ আমদানি করে তা দ্রুত ছিটানোরও ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, আদেশ পালনের অগ্রগতি প্রতিবেদন দুই কর্পোরেশনকে আগামী ২০ আগস্ট আদালতে উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে। এটা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় যে, এবার যখন ডেঙ্গুর সংক্রমণ এবং এই রোগের মৃত্যুর হার বেশি, তখন ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন মশার অকার্যকর ওষুধ ছিটাচ্ছে।

এই অকার্যকর ওষুধ কারা আমদানি করেছে? ওষুধ কিনতে ২০ থেকে ২২ কোটি টাকা খরচ করতে হয়েছে। অনুমান করা চলে, ওষুধ ক্রয়ে বড় ধরনের দুর্নীতি হয়েছে। আমাদের কথা হল, ওষুধ ক্রয়ের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে সিটি কর্পোরেশন এখন পর্যন্ত ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেন? উচ্চ আদালতও বলেছেন, ওষুধ কেনায় দুর্নীতি হয়ে থাকলে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি বর্তমানে যা দাঁড়িয়েছে, তাতে নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে রোগটি মহামারীর আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঢাকায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গত ১৭ দিনে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮১ এবং মৃতের সংখ্যা ৫। ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা পেতে হলে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে আনার কোনো বিকল্প নেই। সিটি কর্পোরেশন বলছে, নতুন ওষুধ এনে তা কার্যকর করতে ৬ মাস সময় লাগবে। সময়টা দীর্ঘ। তাই জরুরি প্রয়োজন বিবেচনায় টেন্ডার ও আইনের বাইরে গিয়ে যত দ্রুত সম্ভব ওষুধ কেনার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। আমরা বলব, সবকিছুর বাইরে মানুষকে বাঁচানোই বড় কথা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×