ঢাকা ওয়াসায় দুর্নীতি: লুটপাটের সংস্কৃতি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিন

  সম্পাদকীয় ২০ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ওয়াসা
ওয়াসা। ফাইল ছবি

সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠান ঢাকা ওয়াসার বিরুদ্ধে বিস্তর অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের প্রতিবেদনে ওয়াসার বিভিন্ন প্রকল্পসহ অন্তত ১১ খাতে দুর্নীতি চিহ্নিত করা হয়েছে।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই শতকোটি টাকার বিল তুলে নেয়া, অযৌক্তিক কারণে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি ইত্যাদি। জানা গেছে, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, প্রকল্প পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদারসহ একটি সিন্ডিকেট জড়িত। দুদক অবশ্য ওয়াসার দুর্নীতি ঠেকাতে ১২ দফা সুপারিশ প্রণয়ন করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছে।

তবে এতে কাজ কতটা হবে, বলা মুশকিল; পদ-পদবি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে যারা আসন অলংকৃত করে আছেন, তারা যে ধোয়া তুলসি পাতা নন, দেশে ক্রমপ্রসারমান দুর্নীতির চিত্র তার বড় প্রমাণ। বস্তুত কেবল সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা নয়, দেশের সর্বত্র দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে লুটপাটের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তার মূলোৎপাটন করতে হলে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নাগরিকদের মধ্যে ন্যায়-নীতিবোধ, সততা ও দেশপ্রেম জাগ্রত করার পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে দুর্নীতির তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হতেই থাকবে।

আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা টিআইবি দেশের সরকারি সেবা খাতের ঘুষ-দুর্নীতি-অনিয়ম ও হয়রানির চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে সরকারি সেবা সম্পর্কিত জাতীয় খানা জরিপ-২০১৭ প্রকাশ করেছিল।

সেখানে দেখা গেছে, সেবা খাতে ২০১৭ সালে ঘুষের লেনদেন হয়েছে অন্তত ১০ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা। কাকতালীয়ভাবে ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই দুদক হটলাইনের মাধ্যমে অভিযোগ গ্রহণের কার্যক্রম শুরু করার মধ্য দিয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধে ‘এনফোর্সমেন্ট’ অভিযান পরিচালনা শুরু করেছিল।

সে সময় বিআরটিএ, পাসপোর্ট অধিদফতর, বিআরটিসি, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি), রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), শিক্ষাভবন, বিভিন্ন হাসপাতাল, সিএজি, বিএসটিআই, ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরসহ দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করেছিল দুদক। এসব অভিযানেও শিউরে ওঠার মতো দুর্নীতির চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে এবং এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে দুদক যথারীতি সুপারিশও পেশ করেছিল। প্রশ্ন হল, এর ফলে কি অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়েছে?

সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোয় লাগামহীন দুর্নীতি ও অনিয়ম সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার খর্ব করছে এবং এর ফলে প্রান্তিক ও পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠী ক্ষতির শিকার হচ্ছে। মূলত দুর্নীতি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে মানুষের মৌলিক অধিকার অর্জনে বড় বাধা। এসব মৌলিক অধিকার রক্ষায় সরকারের আন্তরিক ভূমিকা কাম্য হলেও উদ্বেগের বিষয় হল, এ ব্যাপারে সরকারের তরফ থেকে কার্যকর ও দৃশ্যমান শক্ত কোনো পদক্ষেপ লক্ষ করা যাচ্ছে না।

দুর্নীতি দেশের উন্নয়ন মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে, এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণের অবকাশ নেই। কাজেই দুর্নীতি রোধে সরকারের আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে দুর্নীতির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সাধারণ মানুষ ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া উচিত।

রাজধানী ও নারায়ণগঞ্জের নির্ধারিত এলাকায় নিরবচ্ছিন্নভাবে পানি সরবরাহের দায়িত্ব ওয়াসার। পানির প্রাপ্যতা সমস্যার পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির সংকট নিয়ে দিনের পর দিন গ্রাহকদের দুর্ভোগ পোহানোর অভিযোগ রয়েছে সংস্থাটির বিরুদ্ধে। এ জন্য বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি যে অনেকাংশে দায়ী, তা বলাই বাহুল্য। স্যুয়ারেজ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ চাহিদা অনুযায়ী নিরাপদ পানি প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে ঢাকা ওয়াসা অনিয়ম ও দুর্নীতির নাগপাশ ছিন্ন করতে তৎপর হবে, এটাই প্রত্যাশা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×