ডিসি সম্মেলন: প্রাধান্য দিতে হবে জনস্বার্থকে, শ্রেণিস্বার্থকে নয়

প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সম্পাদকীয়

ডিসি সম্মেলন: প্রাধান্য দিতে হবে জনস্বার্থকে, শ্রেণিস্বার্থকে নয়

জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) পাঁচ দিনব্যাপী সম্মেলন শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার। দেশের শাসন ব্যবস্থায় ডিসি সম্মেলন বেশ গুরুত্ব বহন করে। ডিসিরা তাদের কর্মক্ষেত্রে যেসব সমস্যা মোকাবেলা করেন, সেসব থেকে উত্তরণের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়ে থাকেন।

বরাবরের মতো এবারও ডিসিরা মাঠপর্যায়ের সমস্যা সমাধানে ৩৩৩টি প্রস্তাব দিয়েছেন। অবশ্য এসব প্রস্তাবের মধ্যে মূলত তাদের নিজস্ব ক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর অভিপ্রায়ই ব্যক্ত হয়েছে। সার্বিক দিক বিবেচনা করে তাদের অধিকাংশ প্রস্তাবই আমলে নেয়া হয়নি। বরং তারা প্রধানমন্ত্রীর ৩১ দফাসহ প্রায় সাড়ে তিনশ’ নির্দেশনা পেয়েছেন সরকারের নীতিনির্ধাকরদের কাছ থেকে। সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে কাক্সিক্ষত সাড়া না পেয়ে ডিসিদের অনেকের মধ্যেই হতাশার জন্ম হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর। ডিসিরা তাদের সংশ্লিষ্ট জেলায় সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকেন। জেলার উন্নতি এবং জেলাবাসীর জীবনমানের উন্নয়নই তাদের কর্মপদ্ধতির মূল চালিকাশক্তি। এটা ঠিক, নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে গিয়ে তারা পদ্ধতিগত নানা সমস্যায় পড়তে পারেন এবং সেই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সরকারের কাছে দাবি-দাওয়াও তুলে ধরতে পারেন। বস্তুত ডিসি সম্মেলনের উদ্দেশ্যই তাই।

কিন্তু আমরা লক্ষ করে আসছি, ডিসিরা প্রতিবারই এমন কিছু দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন, যেগুলোর সঙ্গে জেলাবাসীর জীবনমানের উন্নয়ন যতটা না সম্পর্কিত, সেখানে ততোধিক থাকে তাদের সুযোগ-সুবিধার কথা। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি।

যেমন, তারা তাদের অধীনে সার্বক্ষণিক একটি বিশেষায়িত পুলিশ ফোর্স গঠন, জেলায় কর্মরত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের ম্যাজেস্ট্রেসি ক্ষমতা দেয়ার এখতিয়ার তাদের ওপর ন্যস্তকরণ, মাদকদ্রব্য আইন ও ২০১৮ সালের মোবাইল কোর্ট আইনের তফসিলভুক্তকরণ, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানদের স্কুলে ভর্তির ব্যাপারে কোটা সংরক্ষণ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাদের (পিআইও) এসিআর ইউএনওদের হাতে দেয়া এবং ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার হলে প্যানেল চেয়ারম্যানকে আর্থিক ক্ষমতা দেয়াসহ নানা প্রস্তাব করেছেন। তারা প্রশাসন ক্যাডারের জন্য আলাদা ব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয়ও চেয়েছেন। আমাদের কথা হল, এসব দাবি ডিসিদের গোষ্ঠীস্বার্থকেই রক্ষা করবে, জনগণের স্বার্থকে নয়।

তবে এটাও বলতে হবে, ডিসিদের ৩৩৩টি দাবির মধ্যে যেগুলো যৌক্তিক, সেগুলো মানা যেতে পারে অবশ্যই। সবচেয়ে বড় কথা, এমন সব দাবিই পূরণ হওয়া উচিত, যা ডিসিদের কর্মপরিবেশকে সহজ ও স্বচ্ছন্দ করবে। প্রাধান্য দিতে হবে জনস্বার্থকে, কোনো বিশেষ শ্রেণিস্বার্থকে নয়।