ইংরেজি শেখার গুরুত্ব

  ইফতেখার হোসেন সিদ্দিকী ২১ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইংরেজি

বাংলা আমাদের মাতৃভাষা হলেও ইংরেজি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ। বলা যায় ইংরেজি আমাদের দ্বিতীয় ভাষা। এটি ঠিক, ব্রিটিশরা প্রায় দু’শ বছর এই উপমহাদেশ শাসন করে তাদের ভাষা ইংরেজি এখানে প্রবর্তন করেছিলেন। ব্রিটিশ আমলে এদেশের পাঠ্যপুস্তক ইংরেজিতেই পঠিত হতো। ব্রিটিশ সরকার তাদের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে গতি আনার জন্য ইংরেজি ভাষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে হিন্দু ধর্মের অনুসারীরা যেভাবে স্বাগত জানিয়েছিল, মুসলিমরা সেভাবে জানায়নি।

আজ একবিংশ শতাব্দীতে এসে নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে যখন প্রত্যাশিত মানের ইংরেজি ভাষাজ্ঞান না পাই তখন মনটা ব্যথিত হয়। আমরা জানি, চারটি মানদণ্ডের ওপর ইংরেজি ভাষার দক্ষতা নির্ভর করে। এগুলো হল শোনা, বলা, পড়া ও লেখা। আমাদের শিক্ষার্থীদের মাঝে এগুলোর চর্চা কম। তাই আমরা দেখছি এদেশের প্রাথমিক বা মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ইংরেজির ভিত অত্যন্ত দুর্বল। জাতীয় পর্যায়ের এক জরিপে দেখা যায়, প্রাথমিকে তৃতীয় থেকে চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ইংরেজি বিষয়ের পঠন-পাঠন আশানুরূপ নয়।

উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থীর ইংরেজি ভাষাজ্ঞান অত্যন্ত দুর্বল। তারা ভালো করে ইংরেজি পড়তে ও লিখতে পারে না। আর মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে এটা তো ঠিক যে, বিশেষজ্ঞ ইংরেজি শিক্ষকের অনেক চাহিদা। তারা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ইংরেজি বিষয়ে শ্রেণীকক্ষে শিক্ষা দেয়ার চেয়ে কোচিং সেন্টারে দিতেই বেশি আগ্রহী। তাই অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা এসব কোচিং সেন্টারে রীতিমতো লাইন দিয়ে তাদের (শিক্ষার্থীদের) নাম রেজিস্ট্রেশন করিয়ে থাকেন। একটি ব্যাচে অনেক শিক্ষার্থী নিয়ে একজন শিক্ষকের পক্ষে পাঠদান যতটুকু না সম্ভব হয়, তার থেকে সেখানে শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য হয় বেশি।

বিশেষজ্ঞ শিক্ষকের কাছে ইংরেজি শিখতে পাঠিয়ে অভিভাবকরা একটু তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলেন। কিন্তু শিক্ষাথীরা কতটুকু ইংরেজি শিখছে তা একটি পরিসংখ্যান থেকে সহজে অনুধাবন করা যায়। ২০১৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ভর্তি পরীক্ষায় ৪০ হাজার ৫৬৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র দু’জন ইংরেজি বিভাগে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছিল। ২০১৬ সালে ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৯০ ভাগ পরীক্ষার্থী ফেল করে ইংরেজিতে। দেশের ইংরেজি বিষয়ের এই তথৈবচ অবস্থা দেখে শিক্ষাবিদরাও হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

প্রকৃতপক্ষে একটি শিক্ষাজীবন শেষে (একাডেমিক ইয়ার) শিক্ষার্থীরা যখন ইংরেজিতে দুর্বল থেকে যায়, তখন তা হয় দেশের জন্য বোঝাস্বরূপ। বর্তমান যুগ জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগ। এখানে ইংরেজি ভাষাজ্ঞান প্রয়োগ করেই আমাদের বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে হয়। বিদেশে কর্মসংস্থান (ইংরেজি জ্ঞান ভালো হলে এটি দক্ষতা হিসেবে ভাবা হয়), গবেষণা, ব্যবসা-বাণিজ্য, উচ্চশিক্ষা প্রতিটি সেক্টরে রয়েছে ইংরেজির গুরুত্ব।

ইংরেজি ভাষাজ্ঞান আমাদের এতই দুর্বল যে, আজকাল ফেসবুকেও দেখি একের সঙ্গে অন্যের মনের ভাব প্রকাশ করার ক্ষেত্রে বাংলা ভাষাকে ইংরেজিতে রূপ দিয়ে লেখা হচ্ছে। মনের ভাব প্রকাশে প্রকৃত ইংরেজি ভাষার ব্যবহার খুব কম দেখা যায়। এটাও সত্য, অনেকে বিএ, এমএ পাস করেও ইংরেজিতে কথা বলতে পারে না। এটি কি শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটি নাকি ইংরেজি ভাষা শিক্ষায় অনীহা তা ভেবে দেখা প্রয়োজন।

আজকাল আধুনিক যেসব মাধ্যম আমাদের হাতের নাগালে আছে, যেমন- ফেসবুক, ইউটিউব, বিভিন্ন অ্যাপ ইত্যাদি ব্যবহার করে; ইংলিশ মুভি, বিবিসি, সিএনএন, আলজাজিরা ইত্যাদি চ্যানেল নিয়মিত দেখেশুনে একজন ইংরেজিতে দক্ষ হয়ে উঠতে পারে। ইংরেজি ভাষায় সাবলীলতা অর্জনের জন্য পরিবেশও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিজ পরিবার, বিদ্যালয় বা চারপাশের মানুষজনের সঙ্গে ইংরেজিতে বেশি করে কথা বলার আগ্রহ থেকে ইংরেজি ভাষা প্রয়োগের একটি পরিবেশ তৈরি হতে পারে। শ্রেণীকক্ষেও শিক্ষককে যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে হবে। এছাড়া ইংরেজি ভাষার প্রসারে সরকারের উদ্যোগে বয়স উপযোগী বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেয়া যেতে পারে।

ইফতেখার হোসেন সিদ্দিকী : প্রাবন্ধিক

[email protected]

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×