ডেঙ্গুর প্রকোপ: প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজন সচেতনতা

  যুগান্তর সম্পাদকীয় ২২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডেঙ্গু জ্বর

এ বছর ডেঙ্গুজ্বরে মস্তিষ্কে প্রদাহ (এনক্যাফালাইটিস) ছাড়াও রোগীর বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দ্রুত অকার্যকর (মাল্টি অর্গান ফেইলিওর) হয়ে যাওয়ার সংবাদ গভীর উদ্বেগজনক।

উল্লেখ্য, আগের বছরগুলোয় মূলত ডেঙ্গুজ্বরের দুটি ধরন বা সেরোটাইপ দ্বারা দেশবাসী আক্রান্ত হয়েছিল, যে ক্ষেত্রে সাধারণত রক্তক্ষরণজনিত জ্বরে (হেমোরেজিক ফিভার) মানুষের মৃত্যু ঘটত।

বলা হচ্ছে, এবারের নতুন সেরোটাইপ-৩ আরও ভয়াবহ এবং এর ফলে আক্রান্তদের হার্ট, কিডনি, লিভার স্বল্পসময়ে অকার্যকর হয়ে পড়ে, যা আক্রান্ত একজন রোগীকে দ্রুত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পর্যবেক্ষণে বর্তমান পরিস্থিতিকে বিপজ্জনক বলে অভিহিত করা হয়েছে। ডেঙ্গুর এই নতুন সেরোটাইপ ও মাল্টি অর্গানে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি যেহেতু নতুন; তাই এ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেতে হলে ব্যাপক গবেষণার পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন জরুরি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অন্তত ৩ হাজার ৯৬০ জন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী এ রোগে ৫ জন মারা গেছে বলা হলেও বেসরকারি হিসাব অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা কমপক্ষে ২২।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক সাধারণ ও মারাত্মক ধরনের ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তথ্য-উপাত্ত বলছে- বিশ্বের কোথাও না কোথাও ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে যারা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে, তাদের অধিকাংশই শিশু। এ বছর থেমে থেমে বৃষ্টিপাত দেশব্যাপী ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তাই কেউ শরীরে জ্বর অনুভব করলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করে পরীক্ষার মাধ্যমে ডেঙ্গু কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

দেরিতে হলেও ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন সক্রিয় হয়েছে। তবে ডেঙ্গুর উপদ্রব কেবল রাজধানীতেই সীমাবদ্ধ বলে মনে করা হলেও বিভিন্ন জেলা শহর, এমনকি গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়াও বিচিত্র কিছু নয়। এমনিতেই প্রলয়ঙ্করী বন্যার কবলে পড়ে দেশের মানুষ দুর্ভোগ ও ক্ষতির শিকার হচ্ছে। তার ওপর ডেঙ্গু দেশজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে, যা থেকে মুক্তি পাওয়া জরুরি। লক্ষ করা গেছে, বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর রাজধানীসহ সারা দেশে মশার উপদ্রব অনেক বেশি। রাজধানীতে মশক নিধনে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও নগরবাসী এর কোনো সুফল পাচ্ছে না। বিষয়টি দুঃখজনক। মশার ওষুধ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের গাফিলতি শুধু নয়; একই সঙ্গে এর কার্যকারিতা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, যার সুরাহা হওয়া উচিত।

যেহেতু ডেঙ্গুজ্বর থেকে রক্ষা পাওয়ার কোনো প্রতিষেধক বা টিকা নেই; তাই সুরক্ষিত থাকার একমাত্র উপায় হল, মশার কামড় থেকে নিজেকে রক্ষার ব্যবস্থা করা; যেমন- ঘরের বারান্দা, আঙিনা বা ছাদ পরিষ্কার রাখতে হবে, যাতে পানি তিন দিনের বেশি জমে না থাকে। এসি বা ফ্রিজের নিচে যেন পানি না থাকে; সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়; তাই দিনের বেলায় কেউ ঘুমালে অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে। ছোট্ট সোনামণিদের হাফপ্যান্টের বদলে ফুলপ্যান্ট পরাতে হবে। আর খেয়াল রাখতে হবে, মশা যেন কোনোভাবেই ডিম পাড়ার সুযোগ না পায়; তাহলেই এই ভয়ংকর রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। নিরাপদ ও সুস্থ থাকার জন্য সবাই এডিস মশা সম্পর্কে সচেতন ও সতর্ক থাকব, এটাই প্রত্যাশা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×