প্রকৃতি বনাম মানব লড়াই

  খায়রুল আহসান মারজান ২২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্কটা মানব সৃষ্টির শুরু থেকেই। তবে প্রকৃতি বনাম মানুষের লড়াইটা শুরু হয়েছিল তখনই, যখন মানুষ গাছ কেটে ঘরবাড়ি; পাহাড় কেটে রাস্তা কিংবা নদীতে বাঁধ বানিয়ে নতুন নতুন সভ্যতার সূচনা করেছিল। তবে সেই লড়াইটা ছিল টিকে থাকার; বেঁচে থাকার। তাই হয়তো ধরিত্রীও তা মেনে নিয়েছিল কোনোরূপ প্রতিক্রিয়া ছাড়াই।

এটা তখনই সংঘর্ষে রূপ নেয়, যখন মানুষ বনাঞ্চল উজাড় করে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নামে কয়লা পুড়িয়ে বায়ুমণ্ডলে কার্বনের অদৃশ্য ছাদ তৈরি করে। আর তাতে সূর্যের তাপ (অতি বেগুনী রশ্মি) আটকে রেখে ধরিত্রীকে করে তোলে উষ্ণ থেকে উষ্ণতর। তাই ধরিত্রীও হিমালয় কিংবা আটলান্টিকের বরফ গলিয়ে তার প্রতিশোধ নিচ্ছে। কেননা ধরিত্রী তো সর্বংসহা নয়।

কথায় আছে, বিপদ ঘাড়ে না চাপলে অনেকেরই টনক নড়ে না। তাই বিপদ এবার গায়ে জুড়ে বসেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কুফল নিয়ে বহু বছর ধরে আলোচনা চললেও এ বছর এর চরম প্রভাব লক্ষ করেছে বিশ্ব। কুয়েতের তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৬৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এমনকি শীতপ্রধান ইউরোপের দেশ ফ্রান্সেও গত ১ জুলাই তাপমাত্রা ছিল ৪৫.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস; চালু করা হয়েছিল রেড অ্যালার্ট। এ তো গেল ভিনদেশের খবর। বাংলাদেশের তাপমাত্রাও এ বছর উঠেছিল ৩৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

প্রকৃতি বনাম মানুষের এ লড়াইটা প্রথম খেয়াল করেছিলেন বিজ্ঞানীরা ১৯৫০ সালে। পৃথিবীর গতিশীল উষ্ণায়নের ফলে আটলান্টিকের বরফ গলে সমুদ্রের উচ্চতা বাড়বে; সমুদ্র তটবর্তী শহরগুলো ডুবে যাবে এবং গ্রীষ্মকালে তাপদাহ প্রচণ্ডরকম বাড়বে- এমন সব আশঙ্কার কথা তারা তখনই জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন এর কারণ ও সমাধানের কথাও।

গবেষকরা গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ এবং বন ধ্বংস করাকেই বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবুও বিংশ শতাব্দীতে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবেলায় সফল কোনো উদ্যোগ তো নেয়া হয়ইনি, বরং একবিংশ শতাব্দীতে এসে কার্বন নিঃসরণ ও বন ধ্বংসকরণ বেড়ে চলেছে জ্যামিতিক হারে।

উন্নত দেশগুলোর এ নিয়ে মাথাব্যথা না থাকাটাই স্বাভাবিক। কারণ এর সঙ্গে তাদের অর্থনৈতিক বিষয়টি জড়িত। পুরো বিশ্বকে ডুবিয়ে হলেও তারা তাদের অর্থনৈতিক লাভটাকেই বেছে নেবে। তবে বাংলাদেশের মতো ভুক্তভোগী দেশকে এ বিষয়ে ভাবতেই হবে। কারণ বিশ্ব জলবায়ু ঝুঁকি সূচক ২০১৮ অনুযায়ী বাংলাদেশ ষষ্ঠ ঝুঁকিপূর্ণ দেশ।

প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই না করে বরং প্রকৃতিকে আরও সবুজ করতে হবে, সুন্দর করতে হবে। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে হবে আমাদের।

খায়রুল আহসান মারজান : শিক্ষার্থী, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×