পাইলট নিয়োগে দুর্নীতি

বিমানকে কলঙ্কমুক্ত করুন

  সম্পাদকীয় ২৫ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পাইলট নিয়োগে দুর্নীতি

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রাথমিক অনুসন্ধানে বিমানে পাইলট নিয়োগে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনেও এর সত্যতা মিলেছে।

প্রতিবেদনের সুপারিশ ও সার্বিক বিষয়াদি বিবেচনায় নিয়ে পাইলট নিয়োগ কমিটির সবাইকে অনুসন্ধানের আওতায় আনার যে সিদ্ধান্ত দুদক নিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে যথার্থ ও সময়োপযোগী। পাইলট নিয়োগে যে বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া হয়েছিল, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

বিজ্ঞপ্তি সংশোধন ও গ্রেস নম্বর দিয়ে পাসের হার বাড়িয়ে অদক্ষ ও কম যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করার যে প্রবণতা নীতি-নৈতিকতা বিবর্জিত কিছু মানুষের যোগসাজশে তৈরি হয়েছে, তা অনভিপ্রেত।

অবশ্য বিমানে এ ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের ঘটনা এটাই প্রথম নয়; ইতিপূর্বে কেবিন ক্রু ও জুনিয়র ট্রাফিক সহকারীসহ অন্তত ৩ শাখায় নিয়োগ নিয়ে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল।

নিয়োগপ্রত্যাশী প্রার্থীদের কাছ থেকে গড়ে ৫ লাখ টাকা ঘুষ নেয়া হয়েছে বলে সেসময় অভিযোগ উঠেছিল। বিষয়টি নিয়ে নিয়োগবঞ্চিত একাধিক প্রার্থী সেসময় উচ্চ আদালতের দ্বারস্থও হয়েছিলেন।

বস্তুত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রধান সমস্যাই দুর্নীতি। বিমানকে দুর্নীতির অভয়ারণ্য বললেও অত্যুক্তি হয় না। বিমান সম্পর্কে দুদক চেয়ারম্যান যথার্থই বলেছেন- প্রতিষ্ঠানটি সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছে না দুর্নীতির কারণে। প্রকৃতপক্ষে সম্ভাবনাময় এ সংস্থাটি বর্তমানে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে বগ্লাহীন দুর্নীতির কারণেই।

আশার কথা, পাইলট নিয়োগ কেলেঙ্কারি ছাড়াও বিমানের বিভিন্ন খাতে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদক থেকে চারটি টিম একযোগে কাজ করছে। আমরা আশা করব, দুদক বিমানের ছোট-বড় সব দুর্নীতিবাজকে তদন্তের আওতায় এনে বিচারের কাঠগড়া পর্যন্ত নিয়ে যেতে সক্ষম হবে।

সরকারি এয়ারলাইন্স হল জাতীয় পতাকার আবরণে একটি দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বিশ্বব্যাপী তুলে ধরার স্বীকৃত উপায় বা মাধ্যম। এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে রাষ্ট্র কেবল আর্থিকভাবেই লাভবান হয় না; একইসঙ্গে সংস্থাটির প্রতীক দেশের মানুষের অহংকারের বস্তুরূপে পরিগণিত হয়।

বাংলাদেশ বিমান যাতে বাঙালির অহংকারের বস্তুতে পরিণত হয়, সে পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। এজন্য সবার আগে বাংলাদেশ বিমানকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে।

সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দুর্নীতির যাবতীয় তথ্য উদ্ঘাটন করে সংস্থাটিকে দুর্নীতিমুক্ত করা এবং সেই সঙ্গে একে ঢেলে সাজানোর কাজটিও সুচারুভাবে সম্পন্ন করা উচিত।

স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত এতগুলো বছর ধরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সমুদয় সম্ভাবনা বিনষ্ট করতে করতে এখন একেবারে শূন্যের কোঠায় এসে পৌঁছেছে। এ অবস্থায় রাষ্ট্রায়ত্ত এ প্রতিষ্ঠানটিকে দুর্নীতিমুক্ত করার ব্যাপারে দুদকের পদক্ষেপ ও কার্যক্রম অবশ্যই প্রশংসনীয়।

তবে শুধু বিমান নয়, দেশ থেকে সব ধরনের দুর্নীতি হঠাতে সরকার কতটা আন্তরিক ও আপসহীন- এ প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ। সরকার যদি বিরাজমান দুর্নীতিসহ অনিয়ম ও অরাজক পরিস্থিতি পরিবর্তনে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার পরিচয় দেয়, তবে তা পরিবর্তন না হওয়ার কোনো কারণ নেই।

পাইলট নিয়োগ প্রক্রিয়াসহ সব ধরনের দুর্নীতির তথ্য উদ্ঘাটন এবং দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার পাশাপাশি বাংলাদেশ বিমানকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার উদ্যোগ নেয়া হবে, এটাই প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×