ফিটনেসবিহীন গাড়ি

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সুরাহা করতে হবে

প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সম্পাদকীয়

ফাইল ফটো

ফিটনেস নবায়ন ও এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই দেশে ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৩২০টি গাড়ি চলাচল করছে। আদালতে উপস্থাপন করা বিআরটিএ’র একটি প্রতিবেদনের তথ্য এটি।

প্রকৃতপক্ষে ফিটনেসবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ ও লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ির সংখ্যা এর বেশি বৈ কম হবে না।

এতে করে এসব গাড়ি যে মানুষের জন্য চলন্ত বোমা হয়ে ঘুরছে, তা বলাই বাহুল্য। দেশে প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির অন্যতম একটি কারণ যে ফিটনেসবিহীন লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ি, এতে সন্দেহ নেই।

আশার কথা, এসব গাড়ির ফিটনেস নবায়ন করে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছেন হাইকোর্ট। এ সময়সীমার মধ্যে নবায়নে ব্যর্থদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমরা আশা করব, আদালতের নির্দেশ তামিল করে যথাসময়ে তথা ১৫ অক্টোবরের মধ্যে এ সংক্রান্ত রিপোর্ট দাখিলে বিআরটিএ ও পুলিশ প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

বিপুলসংখ্যক গাড়ি ফিটনেসবিহীন চলাচলের পরও বিআরটিএ, ট্রাফিক পুলিশ, পুলিশ প্রশাসন, সর্বোপরি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এতদিন কেন দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি, সেটাই বিস্ময়ের ব্যাপার। আদালতকে এতগুলো ফিটনেসবিহীন গাড়ির তথ্য জানতে হয়েছে স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করে।

একটি পত্রিকার রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে রুলটি জারি করেছিলেন আদালত। দেশের সবচেয়ে বিশৃঙ্খল খাত হল পরিবহন খাত। এখানে শৃঙ্খলা ও নিয়মনীতির বালাই তো নেই-ই, উল্টো ইচ্ছামতো ভাড়া আদায়, যাত্রীদের হয়রানি ও জিম্মি করা, গাড়ি থেকে ফেলে দিয়ে হতাহত করা, গাড়িতে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি করা, এমনকি আদালতের আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো নৈমিত্তিক বিষয়।

আর এসব অনিয়ম করা হয় অনেক ক্ষেত্রে ফিটনেস ও যথাযথ কাগজপত্রবিহীন গাড়ি নিয়ে! অনেকটা ‘মগের মুল্লুক’ হয়ে পড়েছে যেন সেক্টরটি। অথচ একটি সভ্যসমাজে মানসম্মত পরিবহন বিভাগের বিকল্প নেই।

পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর কথাবার্তা অনেক হয়েছে। সরকার বিভিন্ন কমিটি, টাস্কফোর্স বিভিন্ন সময়ে গঠন করেছে। তারা রিপোর্ট দিয়েছে এবং এখনও নানা কমিটি কাজ করছে। বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়রের নেতৃত্বাধীন কমিটি ঢাকার পরিবহন খাতের বিশৃঙ্খলা রোধে কাজ করছে।

দুই বছরের মধ্যে সমস্যাটির সমাধান করা যাবে বলে আশ্বস্ত করছেন তিনি। ফিটনেস সংক্রান্ত আদালতের আদেশ থেকে নিয়ে পরিবহন সংক্রান্ত কাজে যারাই জড়িত, তারা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করলে মানসম্মত পরিবহন খাত নিশ্চিত করা কঠিন হবে না।

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফিটনেস সমস্যা, চালকদের লাইসেন্স ও সড়কের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।