বন্যায় মহাসড়কের ক্ষতি

ঈদের আগেই যেন মেরামত সম্পন্ন হয়

  সম্পাদকীয় ২৬ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বন্যা

চলতি বন্যায় মানুষের ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, মজুদ খাদ্যশস্য, ক্ষেতের ফসল, গৃহপালিত পশু, হাঁস-মুরগি, মাছের খামার ইত্যাদির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের সড়ক-মহাসড়কও।

বস্তুত পাঁচ বিভাগের ৩৫ জেলার ৯৮ উপজেলাই বন্যায় আক্রান্ত। এ কারণে সড়ক-মহাসড়কের ক্ষতির পরিমাণটি বেশ বড়ই বলতে হয়। গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এবারের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার সড়ক-মহাসড়ক।

সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের আওতাধীন ১৩১টি সড়কের ক্ষতি হয়েছে বেশি। অনেক সড়কের উপর দিয়ে এখনও পানি প্রবাহিত হচ্ছে। কয়েকটি সড়কের কিছু কিছু অংশ ভেঙে গেছে স্রোতের তোড়ে। কোথাওবা বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিছু সেতু ও কালভার্টও।

এ পরিস্থিতিতে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ঈদযাত্রা নিয়ে। পবিত্র ঈদুল আজহা আসন্ন। বিপুলসংখ্যক মানুষ আত্মীয়-পরিজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের জন্য ঘরমুখো হবেন।

ক্ষতিগ্রস্ত মহাসড়কের কারণে ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন তারা। অবশ্য বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-মহাসড়কগুলোর চলমান জরুরি মেরামত কাজ ঈদের এক সপ্তাহ আগেই সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

আমরা জানি, প্রতি বছর ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে তিনি অক্লান্ত চেষ্টা করেন। এবারও আমরা আশা করব, তিনি নির্দেশ দিয়েই ক্ষান্ত হবেন না, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-মহাসড়কগুলোর মেরামতের কাজ যাতে ঈদের আগে বাস্তবিকই সম্পন্ন হয়, সেজন্য তিনি জোর তদারকির ব্যবস্থা নেবেন। তবে এ ক্ষেত্রে সময়মতো অর্থায়নের বিষয়টিতে গুরুত্ব দিতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। নয়তো শত চেষ্টায়ও কাজ হবে না।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলোর সার্বিক অবস্থা উন্নত হওয়ায় গত ঈদুল ফিতরের সময় মানুষের ঘরমুখো যাত্রা অনেকটাই নির্বিঘ্ন হয়েছে। কয়েকটি মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু সংস্কারের কাজ সম্পন্ন হওয়ায় তুলনামূলক স্বল্প সময়ে এবং কম ভোগান্তিতে মানুষ তাদের গন্তব্যে যেতে পেরেছে।

আসন্ন ঈদুল আজহার সময় মানুষের যাত্রা কতটা নির্বিঘ্ন হয় সেটাই এখন দেখার বিষয়। জানা যায়, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে চট্টগ্রাম জেলার সড়ক-মহাসড়কগুলো। এ জেলার আওতায় অন্তত ৫০টি সড়ক ভেঙে গেছে।

এরপরই রয়েছে সিরাজগঞ্জ জেলা। এ জেলার ১৮৬ কিলোমিটার সড়ক ভেঙে গেছে। উল্লেখ্য, এ জেলার উপর দিয়েই বেশিরভাগ যানবাহন উত্তরাঞ্চলে যাতায়াত করে। কাজেই এ দুই জেলার সড়ক-মহাসড়ক মেরামতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

বন্যা, অতি বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা এসব আমাদের নিত্যসঙ্গী। প্রতি বছরই এসব দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হয় আমাদের। এর ফলে সড়ক-মহাসড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় ঘনঘন। এসব সড়ক বছর বছর মেরামত করা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। তাই সড়ক-মহাসড়কগুলো এমনভাবে নির্মাণ ও মেরামত করা উচিত যাতে সেগুলো যথেষ্ট মানসম্পন্ন হয়, বন্যা-জলাবদ্ধতায় সহজে ভেঙে না যায়।

আমরা আশা করব, এসব নির্মাণ ও মেরামতের সময় মানের দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেয়া হবে। তাছাড়া এসব কাজে যারা সংশ্লিষ্ট থাকেন, তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে প্রায়ই।

বলা হয়ে থাকে, এ দেশে সড়ক, সেতু, ফ্লাইওভার ইত্যাদি নির্মাণে যে ব্যয় হয়, এমনটি আর কোথাও হয় না। তাই সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণ ও মেরামতের কাজে যাতে কোনো ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়ম না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে মন্ত্রণালয়কে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×