অব্যাহত গণপিটুনি: সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে

  সম্পাদকীয় ২৬ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অব্যাহত গণপিটুনি: সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে

দেশে চলমান গণপিটুনির প্রেক্ষাপটে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক। তিনি সবার প্রতি আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আমরা কাউকে ছাড় দেব না, প্রত্যেককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে গণপিটুনির যে ধারা চলছে বর্তমানে, তা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক বড় বিপদ হিসেবে দেখা দিয়েছে। পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজে শিশুদের মাথা লাগবে- এই গুজবের বশবর্তী হয়ে ছেলেধরা সন্দেহে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

এই গণপিটুনির ধারা বন্ধ করতে না পারলে সমাজ এক গভীর সংকটে নিপতিত হবে, সন্দেহ নেই। গণপিটুনির অপসংস্কৃতি শুরু হওয়ার সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তৎপর হতে দেখা যায়নি।

তবু ভালো বেশ কয়েকটি ঘটনার পর তারা তৎপর হয়েছেন। ইতিমধ্যেই গণপিটুনি বন্ধে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। গুজব ছড়ানোর অভিযোগে এ পর্যন্ত ৬০টি ফেসবুক আইডি, ২৫টি ইউটিব চ্যানেল এবং ১০টি অনলাইন পোর্টাল বন্ধ করা হয়েছে।

গুজব রটানো ও পিটিয়ে হত্যায় মামলা হয়েছে ৩১টি, গ্রেফতার করা হয়েছে ১০৩ জনকে। গতকাল থেকে শুরু হয়েছে গুজববিরোধী সচেতনতা সপ্তাহ।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের মহাপরিদর্শক বলেছেন, গুজব ও পিটিয়ে হত্যার সঙ্গে সরকারবিরোধী রাজনীতির যোগসূত্র আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গুজব ও গণপিটুনি মানুষের মানবিক বৈকল্য থেকে উৎসারিত, নাকি এর সঙ্গে সমাজকে অস্থিতিশীল করার কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে- এ বিতর্ক এড়িয়ে একটা কথা খুব স্পষ্ট করেই বলা যায়- গণপিটুনি বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার সঙ্গে এখন বড় ধরনের সামাজিক আন্দোলনের প্রয়োজন পড়েছে। এ ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে। আওয়ামী লীগ অবশ্য ঘোষণা দিয়েছে গুজব প্রতিরোধে মনিটরিং সেল গঠন করা হবে। আমাদের কথা হল, গুজব ও এর ধারাবাহিকতায় গণপিটুনি প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে জনগণের সম্মিলিত শক্তি।

জনগণকে সব ধরনের কুসংস্কারমুক্ত হয়ে যুক্তির নিরিখে সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা প্রদান করাও সবার দায়িত্ব। গণপিটুনি প্রতিরোধে পুলিশের ট্রিপল নাইনে ফোন করে তাদের তৎপর হওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে।

আমরা চাই, শুধু সরকার তথা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেই কঠোর হলে চলবে না, জনগণকেও নিতে হবে কঠোর অবস্থান। এ পর্যন্ত গণপিটুনির শিকার হয়ে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের কেউই ছেলেধরা হিসেবে শনাক্ত হননি।

অর্থাৎ গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন নিরপরাধরাই। এই অনাচার বেশিদিন চলতে পারে না। সবচেয়ে বড় কথা, কোনো পরিস্থিতিতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া সমীচীন নয়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×