যে গুজব হত্যাকাণ্ড ঘটায়

  আর কে চৌধুরী ২৬ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

যে গুজব হত্যাকাণ্ড ঘটায়

বিপজ্জনক গুজবে অসহায়-নিরীহ ব্যক্তি শুধু নির্যাতনই নয়, খুনের মতো ভয়ংকর ঘটনারও শিকার হচ্ছে।

কারও মধ্যে কথাবার্তায় সামান্য অসঙ্গতি পাওয়া গেলেই তাকে ছেলেধরা অপবাদ দিয়ে গণপিটুনিতে নাজেহাল ও ক্ষতবিক্ষত করা হচ্ছে, এমনকি একেবারে প্রাণে মেরে ফেলার মতো অঘটনও ঘটেছে।

সম্প্রতি রাজধানীর উত্তর-পূর্ব বাড্ডায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক নারী তার মেয়ের ভর্তির ব্যাপারে জানতে গেলে তাকে ছেলেধরা বলে সন্দেহ করা হয়।

সঙ্গে সঙ্গে চুলের মুঠি ধরে তাকে নির্যাতন করে কয়েক ব্যক্তি। ভদ্রমহিলার মাথা ফেটে রক্তক্ষরণ শুরু হলেও তিনি শেষ অবধি রেহাই পাননি। অজ্ঞান অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।

লাঠির পিটুনিতে তিনি মারা যান। এছাড়াও ছেলেধরা সন্দেহে ঢাকার কেরানীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে দুই যুবককে পিটিয়ে হত্যা করে আশপাশের কয়েকজন।

ছেলেধরা সন্দেহে নিরীহ ও নিরপরাধ ব্যক্তিকে কোনো সত্যতা যাচাই ছাড়া মারধর করা আইনের প্রতি চরম অবজ্ঞাই নির্দেশ করে। পুলিশ বলছে, অকারণে গুজব রটনা এবং নিরপরাধকে নির্মমভাবে হত্যা করা আইন ও বিধি পরিপন্থী।

সংঘটিত নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে পুলিশি তদন্ত চলছে। অপরাধী শনাক্ত হলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। একাধিক গ্রেফতারের খবরও আছে।

কাগজে-কলমে দেশে শিক্ষার হার বাড়ছে, জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিকাশ ও চর্চায় আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। তারপরও এ ধরনের ঘটনা ঘটছে! আরেকটি বিষয় আমাদের ভাবাচ্ছে, যা হল- আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া।

কারও আচার-আচরণ ও কার্যক্রমে যদি সন্দেহ জাগে তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেয়া উচিত। তা না করে নিমর্মভাবে পিটিয়ে হত্যা করতে হবে!

বলতে দ্বিধা নেই, প্রকৃত শিক্ষার অভাবেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। সেই সঙ্গে আইনের প্রতি ভরসার জায়গা কমতে থাকলেও এরকম পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

এ পর্যন্ত যাদের ওপর অত্যাচার চালানো হয়েছে কিংবা নিপীড়নের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে, তাদের অপরাধী বলে শনাক্ত করা যায়নি। হতভাগাদের মধ্যে চারজনই মানসিক প্রতিবন্ধী।

পদ্মা সেতুর কারণে গলাকাটা মাথা লাগবে এমন গুজবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জোরালোভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে। নিছক সন্দেহের বশে নিরীহ ও অসহায় মানুষের ওপর অমানবিক নৃংশসতা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

অপরাধীর শাস্তি হওয়ার আগেই অপরাধের কর্মবিধি সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা নিয়ম। অন্যায় ও জবরদস্তির মনোবিকৃতি নিয়ে অন্যের ওপর পাশবিক হামলা আইন ও বিধি মোতাবেক মোটেই কাম্য নয়।

যথার্থ অপরাধী শনাক্ত না করা পর্যন্ত কাউকেই আটক কিংবা হত্যার পর্যায়ে নেয়া আইনশৃঙ্খলার পরিপন্থী। আর যে এমন অনৈতিক ও অসঙ্গত কাজ করবে, সেও শাস্তি থেকে রেহাই পেতে পারে না।

আর কে চৌধুরী : সাবেক চেয়ারম্যান, রাজউক; মুক্তিযুদ্ধে ২ ও ৩ নং সেক্টরের রাজনৈতিক উপদেষ্টা

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×