নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক দাম: স্থিতিশীল রাখার উদ্যোগ নিন
jugantor
নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক দাম: স্থিতিশীল রাখার উদ্যোগ নিন

  সম্পাদকীয়  

২৭ জুলাই ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গত ১৫ দিনের ব্যবধানে দেশে, বিশেষ করে রাজধানীতে নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সবজির দাম। এ ছাড়া মাছ, ডিম ও মসলার দামও বেড়েছে।

মাত্রাতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে ব্যবসায়ীরা অবশ্য গত কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টি এবং বেশ কয়েকটি জেলার বন্যা পরিস্থিতিকে দায়ী করছেন। এ অজুহাত কিছুটা সত্য হলেও দেশে নিশ্চয়ই এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি যেজন্য ডিম, মাছ, মসলাসহ অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে।

অতীতেও দেখা গেছে, রমজান অথবা অন্য কোনো অজুহাত সামনে এনে নিত্যপণ্যের দাম কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এবারও তেমনটাই ঘটেছে বলে আমাদের বিশ্বাস।

নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির ঘটনায় সাধারণ মানুষের উদ্বিগ্ন হওয়াটাই স্বাভাবিক। বাজারে জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে না বলেই মানুষ, বিশেষত নিুআয়ের শ্রমজীবীরা অসহায় বোধ করেন।

আমরা মনে করি, যে কোনো উৎসব অথবা দুর্যোগকালে বাজারদর স্থিতিশীল রাখার জন্য সরকারের উচিত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া। পরিতাপের বিষয় হল, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তেমন উচ্চবাচ্য করা হচ্ছে না।

অভিযোগ রয়েছে, বাজার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সরকারের শক্ত কোনো ভূমিকা নেই। যদি থাকত, তাহলে টিসিবিকে কার্যকর করাসহ নানামুখী পদক্ষেপ নেয়া হতো। দেখা গেছে, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ে কথা উঠলে পাইকারি ব্যবসায়ী ও খুচরা ব্যবসায়ীরা পরস্পরকে দায়ী করে থাকেন, এবারও যার ব্যতিক্রম ঘটেনি।

এভাবে একপক্ষ অপরপক্ষকে দোষারোপ করলেও এটি যে মূলত ব্যবসায়ীদের একচেটিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণের ফন্দি, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

আমরা দেখেছি, অতীতে সময় ও সুযোগের সদ্ব্যবহার করে বাজারকে অস্থিতিশীল করার অপপ্রয়াস চালানো হয়েছে বারবার। যোগসাজশের মাধ্যমে বাজার ব্যবস্থার স্বাভাবিক গতি যদি বাধাগ্রস্ত করা হয়, তবে একদিকে যেমন ভোক্তাস্বার্থের হানি ঘটে, অন্যদিকে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এর বিরূপ প্রভাব পড়ে।

ব্যবসায় মুনাফা অর্জন স্বতঃসিদ্ধ ও স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। তবে মুনাফা অর্জনের নামে নীতিহীন কর্মকাণ্ড সমর্থনযোগ্য নয়। ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষের দুর্দশা লাঘবে আন্তরিক হলে বছরের ১২ মাসই দ্রব্যমূল্যের বাজার স্থিতিশীল থাকবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সরকার ও ব্যবসায়ীরা আন্তরিকতার পরিচয় দেবেন, এটাই প্রত্যাশা।

নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক দাম: স্থিতিশীল রাখার উদ্যোগ নিন

 সম্পাদকীয় 
২৭ জুলাই ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গত ১৫ দিনের ব্যবধানে দেশে, বিশেষ করে রাজধানীতে নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সবজির দাম। এ ছাড়া মাছ, ডিম ও মসলার দামও বেড়েছে।

মাত্রাতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে ব্যবসায়ীরা অবশ্য গত কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টি এবং বেশ কয়েকটি জেলার বন্যা পরিস্থিতিকে দায়ী করছেন। এ অজুহাত কিছুটা সত্য হলেও দেশে নিশ্চয়ই এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি যেজন্য ডিম, মাছ, মসলাসহ অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে।

অতীতেও দেখা গেছে, রমজান অথবা অন্য কোনো অজুহাত সামনে এনে নিত্যপণ্যের দাম কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এবারও তেমনটাই ঘটেছে বলে আমাদের বিশ্বাস।

নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির ঘটনায় সাধারণ মানুষের উদ্বিগ্ন হওয়াটাই স্বাভাবিক। বাজারে জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে না বলেই মানুষ, বিশেষত নিুআয়ের শ্রমজীবীরা অসহায় বোধ করেন।

আমরা মনে করি, যে কোনো উৎসব অথবা দুর্যোগকালে বাজারদর স্থিতিশীল রাখার জন্য সরকারের উচিত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া। পরিতাপের বিষয় হল, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তেমন উচ্চবাচ্য করা হচ্ছে না।

অভিযোগ রয়েছে, বাজার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সরকারের শক্ত কোনো ভূমিকা নেই। যদি থাকত, তাহলে টিসিবিকে কার্যকর করাসহ নানামুখী পদক্ষেপ নেয়া হতো। দেখা গেছে, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ে কথা উঠলে পাইকারি ব্যবসায়ী ও খুচরা ব্যবসায়ীরা পরস্পরকে দায়ী করে থাকেন, এবারও যার ব্যতিক্রম ঘটেনি।

এভাবে একপক্ষ অপরপক্ষকে দোষারোপ করলেও এটি যে মূলত ব্যবসায়ীদের একচেটিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণের ফন্দি, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

আমরা দেখেছি, অতীতে সময় ও সুযোগের সদ্ব্যবহার করে বাজারকে অস্থিতিশীল করার অপপ্রয়াস চালানো হয়েছে বারবার। যোগসাজশের মাধ্যমে বাজার ব্যবস্থার স্বাভাবিক গতি যদি বাধাগ্রস্ত করা হয়, তবে একদিকে যেমন ভোক্তাস্বার্থের হানি ঘটে, অন্যদিকে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এর বিরূপ প্রভাব পড়ে।

ব্যবসায় মুনাফা অর্জন স্বতঃসিদ্ধ ও স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। তবে মুনাফা অর্জনের নামে নীতিহীন কর্মকাণ্ড সমর্থনযোগ্য নয়। ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষের দুর্দশা লাঘবে আন্তরিক হলে বছরের ১২ মাসই দ্রব্যমূল্যের বাজার স্থিতিশীল থাকবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সরকার ও ব্যবসায়ীরা আন্তরিকতার পরিচয় দেবেন, এটাই প্রত্যাশা।