যাত্রী হয়রানি-কালোবাজারি রোধ করতে হবে

ঈদযাত্রার আগাম টিকিট

  যুগান্তর ডেস্ক ২৮ জুলাই ২০১৯, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

২৬ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে ঈদ উপলক্ষে বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি। প্রথম দিনেই গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। এছাড়া ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হবে ২৯ জুলাই থেকে। এরই মধ্যে বাস ও ট্রেনে পছন্দের দিন ও সময়ের টিকিট পাবেন কিনা, টিকিট কালোবাজারি ও দালালদের দৌরাত্ম্য কী আগের মতোই থাকবে- এমন প্রশ্ন-সন্দেহের তৈরি হয়েছে।

কারণ ট্রেনের তো বটেই, বাসেরও টিকিটের জন্য কাউন্টারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন দিয়েও খালি হাতে বাড়ি ফেরার অভিজ্ঞতা মানুষের কম নয়। প্রতি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা তথা রমজান ও কোরবানির ঈদে এমন পরিস্থিতির শিকার হতে হয় কর্ম ও অন্যান্য প্রয়োজনের কারণে ঢাকায় থাকা মানুষদের। বিষয়টি যেন নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিবারই আগাম টিকিট ছাড়া হলে ট্রেনের বেলায় দেখা যায় সারা রাত কাউন্টারে দাঁড়িয়ে থেকে সকালে টিকিট ছাড়া বাসায় ফিরতে হলেও কালোবাজারি এবং দালালদের হাতে টিকিট ঠিকই থাকে ও তারা বাড়তি দাম হাঁকান। পরিবহন খাতের বিশৃঙ্খলার এটিও অন্যতম কারণ। এছাড়া বাসগুলোতে নিয়মিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়ায় টিকিট কিনতে বাধ্য করাকে পরিবহন খাতের লোকজন নিজেদের ‘অধিকার’ বানিয়ে নিয়েছে।

টিকিট কালোবাজারি, বাড়তি ভাড়া আদায় ও দালালদের দৌরাত্ম্যের মতো সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে অবিলম্বে। আশার কথা, এবার ঈদযাত্রায় টিকিট নিয়ে যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম না হয় তা নিশ্চিত করতে তিন স্তরের নজরদারির উদ্যোগ নিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। সংস্থাটি এরই মধ্যে ৯ সদস্যের তদারকি সেল গঠন করেছে।

তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা থাকবেন; অনিয়ম পেলে যাতে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেয়া যায়। বাস কাউন্টারগুলোতে বাড়তি ভাড়া আদায় রোধে তাদের উপস্থিতির পাশাপাশি ট্রেনের টিকিট যাতে কালোবাজারি ও দালালদের হাতে যেতে না পারে সেজন্য আগে থেকে ব্যবস্থা নেয়ার বিকল্প নেই।

রাজধানীর গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড এবং কমলাপুর রেলস্টেশনে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের টিমের সার্বক্ষণিক উপস্থিতির পাশাপাশি পুলিশ-র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা দৃশ্যমান হলে বাড়তি ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানি কমিয়ে নির্বিঘ্নে ঈদযাত্রা নিশ্চিত করা অসম্ভব নয়।

প্রতি ঈদের ছুটির ৮-১০ দিন আগ থেকেই বিভিন্ন রুটে অযৌক্তিকভাবে ভাড়া বাড়ানো হয় এবং সায়েদাবাদ থেকে কুমিল্লা, নোয়াখালী ও ফেনীর উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া গাড়িগুলো এক্ষেত্রে সব সীমা ছাড়িয়ে দ্বিগুণেরও বেশি ভাড়া আদায় করে থাকে। এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনে টিকিটে কম লিখলেও প্রকৃতপক্ষে বেশি আদায় করার নজিরও দেখা গেছে গত ঈদে। ফলে ভোক্তা অধিকারের উদ্যোগের পাশাপাশি বাড়তি ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানির বিরুদ্ধে দুদকও ভূমিকা নিতে পারে।

মূলত, পরিবহন শ্রমিক-মালিকরা মানুষকে জিম্মি করে পার পেয়ে যাওয়ার কারণে তারা মনে করে কেউ হস্তক্ষেপ করে কিছু করতে পারবে না। তাদের এ মানসিকতা পরিবর্তনে ও মানুষের ঈদযাত্রা হয়রানিমুক্ত এবং নির্বিঘ্ন করতে সর্বাত্মক উদ্যোগ নিতে হবে। ভোক্তা অধিকারের নেয়া উদ্যোগ প্রশংসনীয়; তবে সেটি যেন ফলপ্রসূ হয় তা নিশ্চিত করতে হবে যে কোনো মূল্যে।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত