দায়িত্বপ্রাপ্তদের দায়িত্বহীনতা
jugantor
অরক্ষিত রেলপথেই ঘটছে দুর্ঘটনা
দায়িত্বপ্রাপ্তদের দায়িত্বহীনতা

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৮ জুলাই ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রেল দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ সংস্কারহীন, জরাজীর্ণ রেলপথ। রেলপথ সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রয়েছেন ওয়েম্যান-গেটম্যান-ট্রলিম্যান পদের কর্মচারী। কিন্তু আশ্চর্যই বলতে হবে, এসব পদের কর্মচারীরা তাদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন না করে কাজ করছেন অফিস কিংবা বসদের বাসায়। ফলে অরক্ষিত হয়ে পড়েছে রেলপথ, যার অনিবার্য পরিণতি হল ছোট-বড় অনেক দুর্ঘটনা। এই কিছুদিন আগেও লেভেল ক্রসিংয়ে গেটম্যান না থাকার কারণে এক বড় দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন মাইক্রোবাসে থাকা বর-কনেসহ আরও কয়েকজন।

রেলপথ সুরক্ষার জন্য বর্তমানে যে লোকবল রয়েছে, তা প্রয়োজনের চেয়ে অনেক কম। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি মিলিয়ে রেল বিভাগে শূন্যপদের সংখ্যা ১৪ হাজার ৭৩২। রেলপথ তদারকির জন্য যেখানে আরও লোকবল নিয়োগ দেয়ার কথা, সেখানে কর্মকর্তারা উল্টো ওয়েম্যান ও ট্রলিম্যানদের অফিস ও বাসায় কাজে ব্যস্ত রাখছেন। ফলে যা হওয়ার তা-ই হচ্ছে। রেলপথের নাট-বল্টু, হুক-ক্লিপ, পাথর উধাও হয়ে যাচ্ছে। ঘটছে দুর্ঘটনা।

রেলের উন্নয়নে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। প্রচুর অর্থ বিনিয়োগও হচ্ছে এ খাতে। বর্তমান সরকার গত ১১ বছরে রেলের উন্নয়নে প্রায় ৬৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছে, লোকবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে ১৩ হাজার। বর্তমানে আরও অনেক প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ে যখন রেলের উন্নয়নে এত আগ্রহ, তখন রেল বিভাগের কর্মকর্তা পর্যায়ে চলছে অনিয়মের রাজত্ব।

যার যা দায়িত্ব, তিনি তা পালন না করে অন্য দায়িত্ব পালন করলে তার খেসারত দিতে হবে বৈকি। এটা কোনো কথা হতে পারে না যে, রেলপথের সুরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিতরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বাসায় কিংবা অফিসে কাজ করবেন। ২০১৭ সালে রেলভবনে মাসিক পর্যালোচনা সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল ওয়েম্যান-গেটম্যান-ট্রলিম্যানদের মধ্যে যারা অফিস ও বাসায় কাজ করছেন, তাদেরকে স্ব স্ব কর্মস্থলে ফেরত যেতে হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত মানা হয়নি।

রেলপথ এমন এক অবকাঠামো, যা প্রতিনিয়তই চোখে চোখে রাখতে হয়। রেলের প্রতিটি নাট-বল্টু, পাত, ফিশপ্লেট, ক্লিপ-হুক যথাস্থানে থাকতে হয়। এগুলো এদিক-সেদিক হলেই ঘটতে পারে বিপর্যয়। সবচেয়ে বড় কথা, সারা দেশে বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে যেসব লেভেল ক্রসিং রয়েছে, সেগুলোর প্রতিটিতেই গেটম্যান থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তা নেই। এমতাবস্থায় রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তথা রেল মন্ত্রণালয়ের উচিত হবে প্রতিটি অনিয়ম দূর করে রেলপথকে নিরাপদ রাখার ব্যবস্থা করা। তা না করে একটি দুর্ঘটনা ঘটার পর নিছক তদন্ত কমিটি গঠন করে দায় সারা কোনোভাবেই সঙ্গত নয়।

অরক্ষিত রেলপথেই ঘটছে দুর্ঘটনা

দায়িত্বপ্রাপ্তদের দায়িত্বহীনতা

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৮ জুলাই ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রেল দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ সংস্কারহীন, জরাজীর্ণ রেলপথ। রেলপথ সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রয়েছেন ওয়েম্যান-গেটম্যান-ট্রলিম্যান পদের কর্মচারী। কিন্তু আশ্চর্যই বলতে হবে, এসব পদের কর্মচারীরা তাদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন না করে কাজ করছেন অফিস কিংবা বসদের বাসায়। ফলে অরক্ষিত হয়ে পড়েছে রেলপথ, যার অনিবার্য পরিণতি হল ছোট-বড় অনেক দুর্ঘটনা। এই কিছুদিন আগেও লেভেল ক্রসিংয়ে গেটম্যান না থাকার কারণে এক বড় দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন মাইক্রোবাসে থাকা বর-কনেসহ আরও কয়েকজন।

রেলপথ সুরক্ষার জন্য বর্তমানে যে লোকবল রয়েছে, তা প্রয়োজনের চেয়ে অনেক কম। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি মিলিয়ে রেল বিভাগে শূন্যপদের সংখ্যা ১৪ হাজার ৭৩২। রেলপথ তদারকির জন্য যেখানে আরও লোকবল নিয়োগ দেয়ার কথা, সেখানে কর্মকর্তারা উল্টো ওয়েম্যান ও ট্রলিম্যানদের অফিস ও বাসায় কাজে ব্যস্ত রাখছেন। ফলে যা হওয়ার তা-ই হচ্ছে। রেলপথের নাট-বল্টু, হুক-ক্লিপ, পাথর উধাও হয়ে যাচ্ছে। ঘটছে দুর্ঘটনা।

রেলের উন্নয়নে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। প্রচুর অর্থ বিনিয়োগও হচ্ছে এ খাতে। বর্তমান সরকার গত ১১ বছরে রেলের উন্নয়নে প্রায় ৬৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছে, লোকবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে ১৩ হাজার। বর্তমানে আরও অনেক প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ে যখন রেলের উন্নয়নে এত আগ্রহ, তখন রেল বিভাগের কর্মকর্তা পর্যায়ে চলছে অনিয়মের রাজত্ব।

যার যা দায়িত্ব, তিনি তা পালন না করে অন্য দায়িত্ব পালন করলে তার খেসারত দিতে হবে বৈকি। এটা কোনো কথা হতে পারে না যে, রেলপথের সুরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিতরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বাসায় কিংবা অফিসে কাজ করবেন। ২০১৭ সালে রেলভবনে মাসিক পর্যালোচনা সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল ওয়েম্যান-গেটম্যান-ট্রলিম্যানদের মধ্যে যারা অফিস ও বাসায় কাজ করছেন, তাদেরকে স্ব স্ব কর্মস্থলে ফেরত যেতে হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত মানা হয়নি।

রেলপথ এমন এক অবকাঠামো, যা প্রতিনিয়তই চোখে চোখে রাখতে হয়। রেলের প্রতিটি নাট-বল্টু, পাত, ফিশপ্লেট, ক্লিপ-হুক যথাস্থানে থাকতে হয়। এগুলো এদিক-সেদিক হলেই ঘটতে পারে বিপর্যয়। সবচেয়ে বড় কথা, সারা দেশে বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে যেসব লেভেল ক্রসিং রয়েছে, সেগুলোর প্রতিটিতেই গেটম্যান থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তা নেই। এমতাবস্থায় রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তথা রেল মন্ত্রণালয়ের উচিত হবে প্রতিটি অনিয়ম দূর করে রেলপথকে নিরাপদ রাখার ব্যবস্থা করা। তা না করে একটি দুর্ঘটনা ঘটার পর নিছক তদন্ত কমিটি গঠন করে দায় সারা কোনোভাবেই সঙ্গত নয়।