লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি: অবৈধ অভিবাসন বন্ধে পদক্ষেপ নিন

  যুগান্তর ডেস্ক    ২৯ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

লিবিয়া উপকূলে নৌকা ডুবে বেশ কয়েকটি দেশের অভিবাসন প্রত্যাশী ৫৫ জনের মৃত্যুর ঘটনা মর্মন্তুদ। তিন শতাধিক শরণার্থী নিয়ে জলযানটি ইউরোপের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল।
ছবি: এএফপি

লিবিয়া উপকূলে নৌকা ডুবে বেশ কয়েকটি দেশের অভিবাসন প্রত্যাশী ৫৫ জনের মৃত্যুর ঘটনা মর্মন্তুদ। তিন শতাধিক শরণার্থী নিয়ে জলযানটি ইউরোপের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল।

পথিমধ্যে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি থেকে ১২০ কিলোমিটার পূর্বে কোমাস নামক স্থানে এটি ডুবে যায়। এটিকে চলতি বছরের ‘ভূমধ্যসাগরের সবচেয়ে শোচনীয় ঘটনা’ বলে বর্ণনা করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর।

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটলে অভিবাসন প্রত্যাশী বাংলাদেশীসহ মিসর, মরক্কো ও শাদসহ আফ্রিকার কয়েকটি দেশের ৫১ নাগরিকের সলিল সমাধি ঘটে। উদ্বেগজনক হল, অবৈধ অভিবাসীদের নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেয়াকালে প্রায়ই নৌকাডুবি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।

জাতিসংঘের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের প্রথম চার মাসে লিবিয়া থেকে ইউরোপ পাড়ি দেয়ার সময় নৌকা ডুবে অন্তত ১৬৪ জন মারা গেছেন।

বৈধভাবে সুযোগ না পেয়ে অতীতে আমাদের এখান থেকে অনেকেই অবৈধ পন্থায় বিভিন্ন দেশে যাওয়ার প্রয়াস চালিয়েছে। থাইল্যান্ডের গহিন অরণ্যে অবৈধ অভিবাসন প্রত্যাশীদের গণকবর আবিষ্কৃত হলে বিশ্বজুড়ে হইচই শুরু হয়।

সে সময় থাইল্যান্ড ছাড়াও মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে এদেশীয় অবৈধ অভিবাসীদের উদ্ধার করা হয়েছিল। দেশে বেকারত্বের হার ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। এ অবস্থায় বহির্বিশ্বে নতুন শ্রমবাজার খোঁজার পাশাপাশি প্রাপ্ত শ্রমবাজারগুলোয় নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করা উচিত। মূলত বৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার পথ রুদ্ধ হওয়ার কারণেই মানুষ অবৈধ উপায়ে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করে থাকে।

এটি করতে গিয়ে তারা প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্তই হচ্ছে না, মৃত্যুমুখেও পতিত হচ্ছে।

বৈধভাবে বৈদেশিক শ্রমবাজারে আমাদের প্রবেশ যাতে সহজ হয়, সেজন্য কূটনৈতিক তৎপরতাসহ নানা উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা গ্রহণ করা উচিত। একইসঙ্গে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ব্যাপারেও মনোযোগ দিতে হবে।

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত দক্ষ জনশক্তির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে আমাদের দেশ থেকে সাধারণত আধাদক্ষ বা অদক্ষ পর্যায়ের জনশক্তি রফতানি হয়।

অদক্ষ হওয়ায় এসব শ্রমিকের মজুরির পরিমাণ হয় খুবই কম। ফলে জমিজমা বিক্রি বা ঋণ করে বিদেশে পাড়ি দেয়ার পর উদয়াস্ত পরিশ্রম করেও খরচের টাকা উঠানোই তাদের জন্য দুরূহ হয়ে পড়ে।

অবৈধ অভিবাসনের ঝুঁকি ও ভয়াবহতা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করাসহ এটি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার পাশাপাশি সরকার দক্ষ জনবল গড়ে তোলার উদ্যোগ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×