দুধে ভেজাল চিরতরে দূর হোক, পাঁচ সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞা

  সম্পাদকীয় ৩০ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দুধ
দুধ। ফাইল ছবি

১৪ কোম্পানির পাস্তুরিত দুধ উৎপাদন ও বিপণন পাঁচ সপ্তাহের জন্য বন্ধের যে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট, তা প্রতিপালনে সংশ্লিষ্টদের নিয়মিত বাজার মনিটরিং প্রয়োজন। কেননা এসব দুধ কোনোভাবেই বাজারজাত করা যাবে না।

তবে আমরা আশা করব, কোম্পানিগুলো নিজ দায়িত্বেই বাজার থেকে দুধ সরিয়ে নেবে। উল্লেখ্য, পাস্তুরিত দুধে অ্যান্টিবায়োটিক, সিসা, ডিটারজেন্ট, ফরমালিন, ব্যাকটেরিয়াসহ ক্ষতিকর উপাদান থাকায় এর বিরুদ্ধে গত বছর রুল জারি করেন আদালত।

আশা করা হয়েছিল, এ রুল জারির পর দুধ উৎপাদনকারী এবং সংশ্লিষ্ট তদারক প্রতিষ্ঠান দুধ পরিশুদ্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। কিন্তু তারা তা করেনি। তাই আদালতের আদেশ দেয়ার প্রয়োজন হয়। আদালতের নির্দেশের পর চারটি ল্যাবে দুধের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পরীক্ষায় দুধে অ্যান্টিবায়োটিক ও সিসার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

দুধে ক্ষতিকর উপাদান মেশানো বা বাজারে ভেজাল দুধ বিক্রির বিষয়টি নতুন নয়। অনেক আগে থেকেই এ অভিযোগ রয়েছে। কীভাবে ভেজাল দুধ তৈরি করা হয়, এক বছর আগেই যমুনা টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে তার ওপর একটি প্রতিবেদন সম্প্রচারিত হয়েছিল।

এখন দেখা যাচ্ছে, দেশের নামিদামি ব্র্যান্ডের দুধও একই অভিযোগে দুষ্ট। যেসব ব্র্যান্ডের দুধে ডিটারজেন্ট, অ্যান্টিবায়োটিক ইত্যাদি ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া গেছে এবং তার উৎপাদন ও বিপণন স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত, সেগুলোর সবই নামিদামি কোম্পানির। দুর্ভাগ্যের বিষয়, নামিদামি ব্র্যান্ডগুলোতেও আর আস্থা রাখা যাচ্ছে না এখন।

তাই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, ভেজালমুক্ত দুধ পাওয়ার উপায় কী, বিশেষত সাধারণ মানুষ এখন কী করবে? দুধ একটি পুষ্টিকর পানীয়। বিশেষ করে শিশুদের জন্য অপরিহার্য পানীয় এটি। মাতৃদুগ্ধ উত্তম হলেও সব শিশুর ভাগ্যে তা জোটে না।

তাই বাজারের গরুর দুধ অন্যতম শিশুখাদ্য হিসেবে পরিচিত। এ খাদ্যেও যারা ভেজাল দেয়, তারা জাতির শত্রু। খাদ্যে ভেজাল দেয়ার এ প্রবণতা রোধ করতে হবে শক্ত হাতে।

বিশুদ্ধ দুধের উৎপাদন নিশ্চিত করতে হলে দেশে ব্যাপক ভিত্তিতে ডেইরি ফার্ম গড়ে তোলা প্রয়োজন। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত এ ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে। সেখানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দুধ উৎপাদিত হয়। আমরা এ ব্যাপারে তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারি।

তবে সবার আগে জরুরি দেশে ভেজাল প্রতিরোধের বিষয়টি। নয়তো পর্যাপ্ত পরিমাণ দুধ উৎপাদিত হলেও তাতে বিশুদ্ধ দুধের নিশ্চয়তা মিলবে না। আমরা মনে করি, খাদ্যে ভেজাল দেয়া কোম্পানিগুলো যতই প্রভাবশালী হোক, কাউকে ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই।

এটি শুধু মুনাফার বিষয় নয়, সুস্থ-সবল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার মতো মৌলিক বিষয় এর সঙ্গে জড়িত। ফলে খাদ্যদ্রব্যে ভেজালের উপস্থিতি কোনোভাবেই মেনে নেয়ার সুযোগ নেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ও বায়োমেডিকেল রিচার্স সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক আ ব ম ফারুক অ্যান্টিবায়োটিক রোধে যে দুটি পরামর্শ দিয়েছেন, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক. অবিলম্বে দুধ দেয়া গরুকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো বন্ধ করা, কারণ দুধের মাধ্যমে সেই অ্যান্টিবায়োটিক মানুষের শরীরে প্রবেশ করে।

দুই. সরকারের দায়িত্বশীল সংস্থাগুলো যেন সঠিক ও নৈতিকভাবে দায়িত্ব পালন করে। ক্ষতিকর দুধসহ সব ভেজাল পণ্য ও এর উৎপাদকদের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে, এটাই কাম্য।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×