রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অনিশ্চয়তা: কূটনৈতিক প্রয়াস জোরদার করতে হবে

  সম্পাদকীয় ৩০ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রোহিঙ্গা
রোহিঙ্গা। ফাইল ছবি

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে দেরি হলে যেসব সমস্যা সৃষ্টি হবে তা বহুল আলোচিত। বাংলাদেশ মানবিক কারণে লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। এখন তারা যাতে দ্রুততম সময়ে মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারে সে জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

রোববার ঢাকায় এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে না যেতে বিভিন্ন মহল থেকে উসকানি দেয়া হচ্ছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেছেন, এর মধ্যে স্বার্থান্বেষী গ্রুপও কাজ করছে।

যারা এ সমস্যা জিইয়ে রাখতে চায়, তারা যে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে চায় তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কাজেই মিয়ানমারে ফিরে না যেতে যারা রোহিঙ্গাদের উসকানি দিচ্ছে তাদের চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

রোহিঙ্গা সমস্যাটি অনেক দিনের পুরনো। গত শতকের নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে মিয়ানমার থেকে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল এবং এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোহিঙ্গা ফিরে গেছে। স্বাভাবিকভাবেই আমরা আশা করেছিলাম, অতীতের মতোই রোহিঙ্গারা ফিরে যাবে।

কিন্তু এবার রোহিঙ্গা ক্যাম্প স্থাপন করায় এখানে রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে অনেক সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে। এ সমস্যা জিইয়ে রাখতে পারলে এসব সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখানে বছরের পর বছর সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। এসব প্রসঙ্গও উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

রোহিঙ্গাদের অর্থনৈতিক সচ্ছলতার জন্য ভাসানচরে যেতে বলা হয়েছিল। সেখানে বিভিন্ন কাজে যুক্ত থাকার সুযোগ পেত তারা। কিন্তু তারা সেখানে যেতে রাজি নয়। এটা কি তাদের মত, নাকি উসকানিদাতাদের শিখিয়ে দেয়া?

লক্ষ করা যাচ্ছে, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা একের পর এক আবদার করে যাচ্ছে। তাদের এসব আবদার কারা শিখিয়ে দিচ্ছে, তাও খতিয়ে দেখা দরকার।

যতই দিন যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তা কমে আসছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে এক সময় বাংলাদেশ সরকারকেই এ দেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সব খরচ বহন করতে হবে। কিন্তু এভাবে কতদিন চলবে?

রোহিঙ্গাদের অবশ্যই মিয়ানমারে ফিরে যেতে হবে। সেখানে ফিরে না গেলে তাদের দাবি আদায় হবে কী করে? তারা যাতে দ্রুত মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারে, সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক প্রয়াস আরও জোরদার করতে হবে।

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×