ভেজালবিরোধী আন্দোলন হোক সবখানে

  জয়নুল আবেদীন স্বপন ৩০ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভেজালবিরোধী আন্দোলন
ভেজালবিরোধী আন্দোলন। ছবি: সংগৃহীত

তাস খেলা আমি বুঝি না। কোনোদিন বোঝার চেষ্টাও করিনি। তাস খেলায় নাকি টেক্কা মারা হয়। কীভাবে টেক্কা মারা হয় তা মুখে মুখে শুনেছি। টেক্কা মানে প্রতিযোগিতা বা পাল্লায় জেতা অথবা পরাজিত করা।

শহর থেকে গ্রামে টেক্কা মারা বা সুবিধা নেয়া মানুষের অভাব নেই। আমাদের দেশে বর্তমানে মানুষ সবচেয়ে বেশি সুবিধা নিচ্ছে খাদ্যে ভেজাল দিয়ে। আমার বাড়ির পাশেই কাঁঠালের আড়ত। এখান থেকে প্রতিদিন ট্রাক ভরে কাঁঠাল ঢাকায় নেয়া হয়। কাঁঠাল ট্রাকে ভরার আগে এর বোটায় (মুখে) ছিদ্র করে কার্বাইড ঢোকানো হয়।

ঢাকায় পৌঁছার আগেই কাঁঠাল পেকে যায়। ঢাকাবাসী কৃত্রিমভাবে পাকানো কাঁঠাল খায়। একদিন বাড়ির কাছে পেঁপে বাগানে গিয়ে দেখি বাগানের বড় বড় পেঁপের ওপর কেমিক্যাল স্প্রে করা হচ্ছে।

পরদিন আবার পেঁপে বাগানে গিয়ে দেখলাম আগের দিন স্প্রে করা পেঁপেগুলো গাছে হলুদ রং (পাকার রং) ধারণ করেছে। গাছের হলুদ রং ধারণ করা পেঁপেগুলো ছিঁড়ে কাগজে প্যাঁচিয়ে ট্রাক ভরে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।

এখানে দুটি অপরিপক্ব ফল কীভাবে পাকানো হয় জানলাম। এভাবে প্রায় সব ফলই পাকানো হয় কেমিক্যাল দিয়ে। শুধু ফল নয়, বাজারের প্রায় সব খাবারেই ভেজাল রং মিশিয়ে আকর্ষণীয় করা হয়। এক দোকানে রং করা জিলাপি, কটকটি দেখে দোকানিকে বললাম- ভাই, খাবারে রং মিশিয়েছেন কেন?

উত্তরে দোকানদার বলল, রং না মেশালে সাদা খাবার কেউ খায় না। দেখতে সুন্দর না হলে মানুষ কেনে না। তাহলে কি বলব আমরাই ভেজাল ছাড়া খাদ্য পছন্দ করি না? দোষ কেউ নিতে না চাইলেও বাঁচার অধিকার সবারই আছে।

ফুসকা, আচার, কেক, জুস এমনকি আইসক্রিমও দেখেশুনে খেতে হবে। অধিক লাভের লোভেই খাদ্যে ভেজাল মেশানো হচ্ছে। খাদ্যে ভেজাল দেয়াও দুর্নীতি।

বাজারের অনেক ভোগ্যপণ্যই মানবদেহের জন্য বিপজ্জনক ও ঝুঁকিপূর্ণ। ভোগ্যপণ্যের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এর ৭০ ভাগই ভেজাল। ভোক্তারা ভেজাল খাদ্য থেকে মুক্তি চায়। বর্তমানে রাসায়নিক পদার্থের ব্যাপক অপব্যবহার হওয়ায় হুমকিতে আছে মানুষ। ফরমালিন মিশ্রিত পানিতে চুবিয়ে বিক্রি হচ্ছে মাছ।

ফলমূলে কেমিক্যাল, শাকসবজিতে কীটনাশক, মুড়িতে ইউরিয়া, ফার্মের মুরগিতে ক্রোমিয়াম পাওয়া যাচ্ছে। নকল ওষুধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধে বাজার ভরে গেছে। উল্লেখযোগ্য ১১ কোম্পানির দুধে অতিরিক্ত মাত্রায় সিসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। প্রসাধনী সামগ্রীসহ শিশুখাদ্যেও ভেজাল।

বেশিরভাগ হোটেল ও রেস্তোরাঁয় বাসি-পচা খাবার পরিবেশিত হচ্ছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুত করায় বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হচ্ছি আমরা।

দেশে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন আছে। কোনো পণ্য কেনার আগে পণ্যটি কবে, কোথায় উৎপাদিত হয়েছে, কাঁচামাল কী কী ইত্যাদি জানার অধিকার আমাদের রয়েছে। প্রতারণা থেকে রক্ষার জন্য আইন থাকলেও আইনের সঠিক ব্যবহার হয় না এ দেশে।

স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য নিরাপদ খাদ্য আইনের প্রয়োগ চাই। খাদ্যে ভেজাল দেয়ার পেছনে যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য নিরাপদ খাদ্যের বিকল্প নেই।

শুধু আইন করে নয়, ভেজালবিরোধী আন্দোলন ঘরে-বাইরে সবখানেই চালু করতে হবে। সময়োপযোগী স্লোগান হোক- ‘আমরা নিরাপদ খাদ্য চাই, ভেজালমুক্ত নিরাপদ খাদ্যের বিকল্প নাই।’

জয়নুল আবেদীন স্বপন : শিক্ষক ও শিশু সংগঠক, শ্রীপুর,গাজীপুর

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×