ঈদুল আজহার অর্থনীতি

  সেফাতুল করিম প্রান্ত ১০ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কোরবানির পশু

যে কোনো বড় উৎসবেই দেশের অর্থনীতি প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠে। তবে সবচেয়ে বেশি গতিশীলতা লক্ষ করা যায় বছরের দুই ঈদের সময়। এ সময় ব্যাপক মুদ্রা সরবরাহ, শিল্প উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার ঘটে। গোটা অর্থনীতি তথা দেশজ উৎপাদন ব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়ে।

ঈদুল আজহায় জামা-কাপড়ের ব্যবসা তেমন হয় না। মূলত কোরবানিযোগ্য পশু, আদা, পেঁয়াজ, রসুনসহ সব ধরনের মসলা, দুধ, চিনি, সেমাই, পোলাও চাল, আটা ইত্যাদি ভোগ্যপণ্যের ব্যবসা হয়ে থাকে। জানা যায়, শুধু এ সময়টাতেই মসলা বাবদ প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয়। এ সময় রেফ্রিজারেটর ব্যবসাও জমজমাট হয়ে ওঠে।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী, এ বছর ১ কোটি ১০ লাখ পশু কোরবানি হতে পারে, যার মধ্যে ৪৫ লাখ গরু ও ৭০ লাখ খাসি-ভেড়া। এ হিসাবে প্রতিটি গরুর দাম গড়ে ৩০ হাজার টাকা ধরলে গরু বিক্রিতেই লেনদেন হবে ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আর খাসি-ভেড়ার দাম গড়ে ২ হাজার টাকা ধরলে লেনদেন হবে ১ কোটি ৪০ কোটি টাকার।

কোরবানির পশুর সরবরাহ এবং কেনাবেচার পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায় চাঁদা, টোল, বকশিশ, ফড়িয়া, দালাল, পশুর হাট ইজারা, বাঁশ-খুঁটির ব্যবসা, পশুর খাবার, পশু কোরবানি ও মাংস বানানো, এমনকি পশুর সাজগোজ বাবদও বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতবদল হয়ে থাকে। অর্থাৎ অর্থনীতিতে ফর্মাল-ইনফর্মাল ওয়েতে আর্থিক লেনদেন তথা মুদ্রা সরবরাহ ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।

কোরবানিকৃত পশুর চামড়া আমাদের অর্থনীতিতে বিশেষত রফতানি বাণিজ্যে, পাদুকা শিল্পে, হস্তশিল্পে একটি অন্যতম উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এই চামড়া সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিক্রয় ও ব্যবহার উপলক্ষে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের কর্মযোজনা সৃষ্টি হয়।

ঈদুল আজহার আরেকটি অন্যতম অংশ হজ। এ বছর বাংলাদেশ থেকে হজের উদ্দেশে সৌদি আরব যাবেন ১ লাখ ২৭ হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমান। হজযাত্রায় মাথাপিছু গড়ে ৩ লাখ টাকা খরচ হলে মোট লেনদেন হবে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। গোটা ব্যাংকিং সেক্টরে এ উপলক্ষে লেনদেন ও সেবা-সূত্রে ব্যয় বেড়েছে।

বরাবরের মতো এ ঈদেও আপনজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের জন্য অনেক মানুষ গ্রামে ছুটে যায়। পরিবহন ব্যবস্থা বা ব্যবসায় কর্মতৎপরতা বেড়ে যায়। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, পরিবহন খাতে এ ঈদে ২ হাজার কোটি টাকার বাড়তি ব্যবসা বা লেনদেন হয়ে থাকে। এটিও অর্থনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করে।

তবে উৎসবের অর্থনীতিতে কিছু সমস্যাও পরিলক্ষিত হয়। ভারত থেকে অবৈধ উপায়ে গরু আনা, জাল টাকার দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়া, পকেটমার-অজ্ঞান পার্টি-মলম পার্টির কাছে গরু বিক্রেতার সর্বস্ব হারানো, চামড়া পাচার, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চামড়া বিক্রি ইত্যাদি সমস্যা প্রতিবার ঘটলেও এসবের সমাধানে আন্তরিকতা দেখা যায় না।

এছাড়া গরু বোঝাই ট্রাকে চাঁদা তোলার অভিযোগ বেশ পুরনো। এসব সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে উৎসবের অর্থনীতি জিডিপিতে আরও বেশি অবদান রাখতে পারবে।

সেফাতুল করিম প্রান্ত : শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×