আগস্টের শোক পেরিয়ে

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আর কে চৌধুরী

এবার স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী পালন করবে জাতি। একাত্তরের পরাজিত শক্তির সুগভীর ষড়যন্ত্রে প্রাণ হারাতে হয় বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতিকে।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে প্রকারান্তরে খুনিচক্র বাঙালি জাতির আত্মাকে হত্যা করেছে। মীরজাফরের ষড়যন্ত্রে নবাব সিরাজউদ্দৌলার হত্যাকাণ্ডের পর ১৫ আগস্ট ইতিহাসের একটি মর্মান্তিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত। এ ঘটনার মাধ্যমে হত্যা ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি জাতির ঘাড়ে চেপে বসে।

বঙ্গবন্ধু বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম মহানায়ক। সেরা মুক্তি সংগ্রামী, সেরা রাষ্ট্রনায়ক। দেশের মাটি ও মানুষের প্রতি বঙ্গবন্ধুর ভালোবাসা ও দায়বোধ তাকে মহীরূহে পরিণত করেছিল।

ব্যক্তি শেখ মুজিব হয়ে উঠেছিলেন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু। বাঙালি জাতি, বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু সমার্থক শব্দে পরিণত হয়েছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অস্তিত্বের শত্রুরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে প্রকারান্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকেই হত্যা করতে চেয়েছিল।

১৫ আগস্টের ঘটনা জাতীয় রাজনীতিতে অসাংবিধানিক পন্থায় ক্ষমতা পরিবর্তনের যে কালো অধ্যায়ের সূচনা করে, তার পরিণতিতে বারবার বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধে যে সাম্প্রদায়িকতা ও দ্বিজাতিতত্ত্বের বিভেদনীতিকে বাংলাদেশের মানুষ কবর দিয়েছিল, তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলে ১৫ আগস্টের পর থেকে। শোকের মাস আগস্টে জাতির পিতার অমর স্মৃতির প্রতি জানাই শ্রদ্ধা।

২.

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাকে লক্ষ করে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের হত্যার সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে যে এ হামলা চালানো হয়েছিল তা দিবালোকের মতো স্পষ্ট।

তবে এ হামলায় অলৌকিকভাবে প্রাণে রক্ষা পান শেখ হাসিনা। দলের নেতাকর্মীরা মানবঢাল রচনা করে গ্রেনেড হামলা থেকে বঙ্গবন্ধুকন্যাকে যেভাবে রক্ষা করেছেন তা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। গ্রেনেড হামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী দলের সিনিয়র নেত্রী আইভী রহমানসহ ২৪ জন প্রাণ হারান এবং আহত হন শতাধিক মানুষ।

হত্যা ও ষড়যন্ত্রের যে রাজনীতি ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় মদদ জুগিয়েছে, তার শিকড় উপড়ে ফেলা দেশের সব গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষের কর্তব্য বলে বিবেচিত হওয়া উচিত। আরেকটি ২১ আগস্টের উদ্ভব যাতে কোনো দিন না হয়, তা নিশ্চিত করতেই হত্যা ও ষড়যন্ত্রের হোতাদের চিহ্নিত করা এবং তাদের শিকড় সমাজ ও দেশ থেকে উচ্ছেদ করা সময়ের দাবি।

৩.

২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় রক্ষা পাওয়ার পর নানা ঘাত-প্রতিঘাত ও বিপদসংকুল পথ পেরিয়ে শেখ হাসিনা এখন দেশের প্রধানমন্ত্রী। নানা সংকটময় পরিস্থিতির মাঝেও দক্ষ হাতে সরকার পরিচালনা করছেন তিনি। শেখ হাসিনা নিজেকে শুধু দক্ষ রাজনীতিক হিসেবেই গড়ে তোলেননি, সরকার পরিচালনাতেও তিনি যথেষ্ট বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন। তার দূরদর্শী পরিকল্পনায় দেশের বিদ্যুৎ সংকট অনেকটাই কেটে গেছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পাশাপাশি নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন তিনি। তার যোগ্য নেতৃত্বে কৃষি খাতের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে। শোকের মাসে বঙ্গবন্ধুর একজন সৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি শেখ হাসিনার সফলতা কামনা করি।

আর কে চৌধুরী : সাবেক চেয়ারম্যান, রাজউক; মুক্তিযুদ্ধে ২ ও ৩ নং সেক্টরের রাজনৈতিক উপদেষ্টা