মানবসভ্যতা সেদিন আঁতকে উঠেছিল

  চয়ন সেনগুপ্ত ১৫ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মানবসভ্যতা সেদিন আঁতকে উঠেছিল
শেখ রাসেল

ঘাতকরা শেখ রাসেলকে যখন হত্যা করে তখন তার বয়স প্রায় এগার বছর। ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর শেখ রাসেলের জন্ম।

বেঁচে থাকলে আজ ৫৫ বছর বয়স হতো তার।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট খুব ভোরে ফজরের আজানের মধুর ধ্বনি যখন আকাশ-বাতাসে মুখরিত হচ্ছিল, তখন রাসেলকে নির্মমভাবে হত্যা করে হায়েনারা। এ ধরনের নিষ্ঠুর হত্যাকে বলা হয়ে থাকে ‘mercy killing’।

শেখ রাসেল ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের নয়নমণি। বঙ্গবন্ধুর বড় আদরের, বড় বেশি স্নেহের সন্তান ছিল শেখ রাসেল। বঙ্গবন্ধু তার নাম রেখেছিলেন বিখ্যাত ব্রিটিশ দার্শনিক, যুক্তিবিদ, গণিতবিদ বার্ট্রান্ড রাসেলের নামানুসারে।

বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের বড় অংশ কেটেছে কারাগারে। স্কুলের রাজনৈতিক জীবন থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত নানা পর্বে, নানা ঐতিহাসিক ঘটনায় বঙ্গবন্ধু কারাগারের চার দেয়ালে বন্দি ছিলেন দীর্ঘ সময়।

তাই বলা হয়ে থাকে, বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ছিল তিনটি। একটি টুঙ্গিপাড়ায়, আরেকটি ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর রোডে, আর তৃতীয় বাড়িটি ছিল অবরুদ্ধ কারাগার। দিনের পর দিন কারাগারের আলো-অন্ধকারে বসে তার বিষণ্ণ বুকে অনুভূত হতো পরিবারের প্রতি অগাধ ভালোবাসা।

১৯৬৪ সাল। রাসেলের জন্মের বছরটি ছিল রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও টালমাটাল এক সময়। একদিকে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, বাংলা ভাষার অমর্যাদা, রবীন্দ্র-নজরুলের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার, অন্যদিকে বাঙালি সংস্কৃতির অবনমনসহ আইয়ুব খানের সব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর সাহসী অবস্থান, নির্বাচনের প্রস্তুতি। ১৯৬৬ সাল।

রাসেল তখন দেড়-দুই বছরের। কখনও তারা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় থাকে, আবার কখনও ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর রোডের বাড়িতে। বঙ্গবন্ধু তখন ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে।

মাসে দু’বার, বা পনের দিন অন্তর বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মাসুম বাচ্চা রাসেলসহ বাকি চার সন্তান নিয়ে জেলের গেটে সাক্ষাৎ করতে আসতেন।

বঙ্গবন্ধুকে দেখলেই রাসেল আব্বা, আব্বা বলে ডাকত, ইশারা করত। যতবার বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সন্তানদের নিয়ে জেল গেটে সাক্ষাৎ করতে আসতেন, ততবারই বঙ্গবন্ধু মুজিব পিতা হিসেবে এক নিস্তব্ধ বেদনায় আহত হতেন।

দুঃখ করে বলতেন : ‘২ বৎসরের ছেলেটা এসে বলে, আব্বা বালি চলো। কী উত্তর ওকে আমি দিব। ওকে ভোলাতে চেষ্টা করলাম, ও তো বোঝে না আমি কারাবন্দি। ওকে বললাম, তোমার মা’র বাড়ি তুমি যাও। আমি আমার বাড়ি থাকি।’

১৯৭১-এর মার্চে শেখ রাসেলের মুখে মুখে বাজত নিজের বানানো ছড়া : ‘জয় বাংলার জয়, সবুজ পাতা হয়’। পিতা মাথানত না করা সংগ্রামী, মুক্তির দিশারী, অবিনাশী এক বাঙালি নেতা। তাই হয়তো পিতার মতোই স্বপ্ন দেখত রাসেল।

অবশেষে মুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশে রাসেল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রূপকথার বরপুত্র হল। কিন্তু হায়! সেই রূপকথার বরপুত্র রাসেলকে ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট ভোরে হত্যা করা হল। মানবসভ্যতা সেদিন আঁতকে উঠেছিল সম্ভাবনাময় কিশোর রাসেলের অকাল মৃত্যুতে।

চয়ন সেনগুপ্ত : প্রাবন্ধিক

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×