ফল পুনঃনিরীক্ষণ

উত্তরপত্র মূল্যায়নে অবহেলা কাম্য নয়

  যুগান্তর ডেস্ক    ১৮ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গত শুক্রবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশিত হয়েছে। জানা গেছে, পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এক মাসের মধ্যে এর পুনঃনিরীক্ষণ ও ফল প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকায় শুক্রবার ছুটির দিনেই তা প্রকাশ করেছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। উল্লেখ্য, ১৭ জুলাই প্রকাশিত হয়েছিল এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল। এ বছর ১০ শিক্ষা বোর্ডে সব মিলিয়ে পরীক্ষার্থী ছিল ১৩ লাখ ৩৬ হাজার ৬২৯ জন। এদের মধ্যে পাস করেছে ৯ লাখ ৮৮ হাজার ১৭২ জন। পাসের হার ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৪৭ হাজার ২৮৬ জন। নিয়ম অনুযায়ী ফল প্রকাশের পরদিন থেকে এক সপ্তাহ পর্যন্ত সারা দেশ থেকে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদনপত্র গ্রহণ করা হয়েছিল।

পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ৯ শিক্ষা বোর্ডে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৬৬ জন। আর অকৃতকার্য থেকে কৃতকার্য হয়েছে ৫৫৫ জন। একইসঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত আলিম পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের ফলও প্রকাশিত হয়েছে। পুনঃনিরীক্ষণ শেষে ৬৩ শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন ও নতুন করে ৯ জনের জিপিএ-৫ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের যে ফল আমরা দেখছি, সেটাকে উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজে নিয়োজিত পরীক্ষকদের ‘চোখের ভুল’ কিংবা ‘মনের ভুল’ বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগ রয়েছে, উত্তরপত্র মূল্যায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত অনেকেই সেগুলো ফেলে রাখার পর শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে নিকটাত্মীয়, অধীনস্থ ছাত্র কিংবা অন্য কারও সাহায্যে ‘দায়িত্ব’ শেষ করতে গিয়ে ‘বড় রকমের গড়বড়’ করে ফেলেন।

মনে রাখা দরকার, উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজটি মোটেই হেলাফেলার বিষয় নয়। প্রতি বছর এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, প্রত্যাশিত গ্রেড না পেয়ে কিংবা অকৃতকার্য হয়ে অনেক শিক্ষার্থী আত্মহননের পথ বেছে নেয়। এ ধরনের ট্র্যাজেডির শিকার কোনো শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজটি পূর্ণ মনোযোগ ও যথাযথভাবে সম্পন্ন হলে হয়তো তাকে এ পথে পা বাড়াতে হতো না। এক্ষেত্রে শিক্ষা ও মাদ্রাসা বোর্ড কর্তৃপক্ষেরও দায়িত্ব রয়েছে বলে আমরা মনে করি। উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণে যেসব পরীক্ষকের গাফিলতি চিহ্নিত হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া উচিত। সমাজের কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে অবহেলার পরিণাম যদি কারও মৃত্যু অথবা অন্য কোনো দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তবে সেক্ষেত্রে অনুকম্পা দেখানো একেবারেই অনুচিত। আমরা আশা করব, ভবিষ্যতে উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজটি এমনভাবে সম্পন্ন করা হবে, যাতে এ নিয়ে কারও মনে কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহের উদ্রেক না হয়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×