ডেঙ্গু পরিস্থিতি: এডিস নির্মূলে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে

  সম্পাদকীয় ১৯ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এডিস নির্মূলে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে
ফাইল ছবি

গত শনিবার আরও তিনজন ডেঙ্গু রোগী মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ নিয়ে চলতি আগস্ট মাসের ১৭ তারিখ পর্যন্ত ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেল ৬৮ জন। অবশ্য সরকারি হিসাবে ৪০ জন মারা যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে তা বুঝতে আরও সাত দিন লাগবে- এমন মন্তব্য করা হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা থেকে। বোঝাই যাচ্ছে, আবহাওয়া আমাদের অনুকূলে নয়। এ অবস্থায় এডিস মশা নির্মূলে যেসব কর্মসূচি জোরদার করা প্রয়োজন, তা যথাযথভাবে সম্পন্ন করা উচিত।

তা না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আশার কথা, ডেঙ্গুজ্বরের লার্ভা প্রতিরোধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি পরিবেশ মন্ত্রণালয়ও সক্রিয় হচ্ছে।

এ লক্ষ্যে কোমলপানীয় ও পানির বোতল, ক্যান, চিপসের প্যাকেটসহ পরিবেশ দূষণকারী যে কোনো ক্যান ও পলিব্যাগ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যে ভোক্তার কাছ থেকে ফেরত নেয়ার বিধান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, যত্রতত্র পড়ে থাকা ব্যবহৃত কোমলপানীয় ও পানির খালি বোতল, বিভিন্ন ধরনের ক্যান ও পলি প্যাকেট এডিস মশার বংশবিস্তারের জন্য অনেকাংশে দায়ী।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের বোতল ও ক্যানে জমে থাকা পানি পরীক্ষা করে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ডেঙ্গুর লার্ভা পাওয়া গেছে।

এ বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে অনেকগুলো বিষয়ের পাশাপাশি দেশে পেডিয়াট্রিক আইসিইউর (পিআইসিইউ) সংখ্যা যে একেবারেই কম, তা স্পষ্ট হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ‘পিআইসিইউ ইউনিট’ করা উচিত বলে মনে করি আমরা।

একইসঙ্গে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য একটি হটলাইন বা ওয়েবসাইট চালু করাও জরুরি। এর ফলে কোন হাসপাতালে শয্যা খালি আছে, কোথায় আইসিইউ আছে ইত্যাদি আগেভাগেই জানা সম্ভব হবে বিধায় দ্রুত চিকিৎসাসেবা পাওয়া নিশ্চিত হবে।

এ কথা এখন আর কারও অজানা নয়, ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজনন ও বংশবিস্তার হয় পরিষ্কার পানিতে। ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্তদের উপযুক্ত চিকিৎসা প্রদানের পাশাপাশি ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্রগুলো ধ্বংস করার কাজে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

যেহেতু ডেঙ্গুজ্বর থেকে রক্ষা পাওয়ার কোনো প্রতিষেধক বা টিকা নেই; তাই সুরক্ষিত থাকার একমাত্র উপায় হল, মশার কামড় থেকে নিজেকে রক্ষার ব্যবস্থা করা। এজন্য কোথাও যাতে পানি জমে থাকতে না পারে, সেদিকে প্রত্যেকের খেয়াল রাখা উচিত।

পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব হল- নগরীর সর্বত্র, বিশেষ করে যেসব স্থানে মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে; সেসব স্থানে জমে থাকা পানি অপসারণ ও মশা নিধনের কার্যকর ওষুধ ছিটানোর ব্যবস্থা করা।

যেসব জায়গায় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই, সেখানে স্বভাবতই কয়েকদিন ধরে পানি জমে থাকে। বিশেষত নির্মাণকাজ চলছে- এমন জায়গায় এটি বেশি দেখা যায়। এসব জায়গায় জমে থাকা পানি অপসারণের পাশাপাশি নিয়মিত কার্যকর মশার ওষুধ ছিটাতে হবে।

খেয়াল রাখতে হবে, এডিস মশা যেন কোনোভাবেই ডিম পাড়ার সুযোগ না পায়। নিরাপদ ও সুস্থ থাকার জন্য সরকারের পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিক এডিস মশা ও এদের বংশবিস্তার রোধে সচেতন ও সতর্ক থাকবে, এটাই প্রত্যাশা।

ঘটনাপ্রবাহ : ভয়ংকর ডেঙ্গু

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×