রোহিঙ্গা ইস্যুতে সহায়তার আশ্বাস দিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

  যুগান্তর ডেস্ক    ২২ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর

সফররত ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একেএম আবদুল মোমেনের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন, আসামের নাগরিকপঞ্জি- ন্যাশনাল সিটিজেন রেজিস্ট্রার বা এনআরসি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলেছেন।

এর মধ্যে তিন দেশ তথা ভারত, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের স্বার্থেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। আমরা মনে করি, তার এ মন্তব্য রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়া ইস্যুতে ইতিবাচক অবস্থান তৈরি করবে। এই প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের মনোভাব স্পষ্ট হল।

আসামের নাগরিকপঞ্জি নিয়ে জয়শঙ্কর বলেছেন, এটি একান্তই তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমরা আশা করব, তার এ মন্তব্যের পর নিজ দেশের অবস্থান স্পষ্ট করার মধ্য দিয়ে নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পড়াদের ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দেয়া ও এ সংক্রান্ত পানি ঘোলা করা পরিস্থিতি তৈরি করা হবে না।

বাংলাদেশের বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি নিয়েও নিজেদের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার বক্তব্য- এ সংক্রান্ত একটি প্রতিশ্রুতি ভারতের রয়েছে এবং এতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। ফলে ভারত দ্রুত তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তিসহ অভিন্ন সব নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা বাংলাদেশকে দেয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি করবে।

এছাড়া দুই দেশের মধ্যে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত ও অন্যান্য ইস্যুতে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করার কথা এসেছে সংবাদ সম্মেলনে। এসব বিষয় কেবল আলোচনা ও সংবাদ সম্মেলনের প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত কার্যকর হলেই সবার মঙ্গল।

আশার কথা, বাংলাদেশ ও ভারত- দুই নিকটতম প্রতিবেশীর মধ্যকার সম্পর্ক বর্তমানে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ট্রানজিট, ট্রান্সশিপমেন্ট ও বন্দর ব্যবহারের সুবিধা, এমনকি ভারতের জন্য নিরাপদ সীমান্তের সব ব্যবস্থা বাংলাদেশ করেছে; কিন্তু তারপরও সীমান্তে আমাদের নিরীহ মানুষ হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা, পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধা দূর, ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে বন্ধুসুলভ সহযোগিতা ও তিস্তা চুক্তির মতো বিষয়গুলোতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতি এক্ষেত্রে খুব একটা কাজে আসছে বলে মনে হচ্ছে না। তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের পর এসব বিষয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আমরা আশাবাদী।

বস্তুত, প্রতিবেশী নিয়তির ঠিক করে দেয়া বিষয়। কেউ চাইলেই এতে পরিবর্তন আনতে পারে না। ফলে পারস্পরিক সুসম্পর্ক বজায় রেখে উভয়পক্ষ কীভাবে সর্বোচ্চ লাভবান হতে পারে, তা নিশ্চিত করাই বুদ্ধিমানের কাজ। আমাদের সরকার সে পথেই আছে। এর প্রমাণ মিয়ানমারের লাখো রোহিঙ্গাকে ঠেলে দেয়া ও নানা উসকানির পরও আমরা সংযম প্রদর্শন করে আসছি।

ভালো প্রতিবেশী ও বন্ধুপ্রতিম দেশ হিসেবে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দেয়াই আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল কথা। এ অবস্থায় অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য বণ্টন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ভারতের ইতিবাচক ও কার্যকর ভূমিকা এবং শান্তিপূর্ণ সীমান্ত নিশ্চিত করা, রফতানির ক্ষেত্রে দৃশ্যমান-অদৃশ্য সব বাধা দূর করে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও মজবুত হওয়ার পথে এগিয়ে নেয়ার এটাই সময়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×