যে পদ্ধতিতে বাড়বে দুগ্ধ উৎপাদন

  মো. শরিফুল ইসলাম ২২ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গরু

দুটি প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা যাক। প্রেক্ষাপট এক : ১০টি গাভী থেকে দৈনিক ৫ কেজি করে মোট ৫০ কেজি দুধ পাওয়া যায়। প্রেক্ষাপট দুই : পাঁচটি গাভী থেকে দৈনিক ১০ কেজি করে মোট ৫০ কেজি দুধ পাওয়া যায়। আমরা কোনটিকে বেশি গুরুত্ব দেব? প্রশ্নটি সহজ; কিন্তু এর উত্তর ও বিশ্লেষণ অনেক বিষদ।

আমরা যদি অল্পসংখ্যক গাভী থেকে অধিক পরিমাণ দুধ পেয়ে থাকি, তাহলে কেন অধিকসংখ্যক গাভী লালন-পালন করব? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ প্রশ্নটি গুরুপূর্ণ এই কারণে যে, সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দুধ উৎপাদন নিয়ে একটি আশার জায়গায় যাচ্ছি; কিন্তু সেই সঙ্গে দেশে খামারি ও গাভীর সংখ্যাও বাড়ছে, যা অপ্রত্যাশিত। আমাদের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত গাভীর সংখ্যা না বাড়িয়ে গাভীপ্রতি দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি করা ।

ডেইরি ফার্মিং মিথেন নিঃসরণের একটি উল্লেখযোগ্য উৎস। বৈশ্বিক উষ্ণতার জন্য দায়ী এই মিথেন গ্যাস নিঃসরণ হ্রাসে সারা পৃথিবীতেই গবেষণা চলছে। সব অর্থনৈতিক সেক্টর থেকেই অল্প পরিমাণে হলেও মিথেন নিঃসরণ কমানোর জন্য গবেষণা হচ্ছে। ডেইরি ফার্মিং থেকেও মিথেন নিঃসরণ কমানোর জন্য বহির্বিশ্বে বিভিন্ন ধরনের গবেষণা চলমান।

আর এ ক্ষেত্রে মিথেন নিঃসরণ কমানোর অন্যতম একটা উপায় হল ডেইরি ফার্মে গাভীর উৎপাদনশীলতা বাড়ানো। এর ফলে কমসংখ্যক গাভী থেকে বেশি দুধ উৎপাদন নিশ্চিত করা যাবে। ফলে তুলনামূলকভাবে অল্পসংখ্যক গাভী থেকে একই পরিমাণ দুধ পাওয়া যাবে।

এ নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৮০-২০০৬ সালের দুগ্ধ উৎপাদনকারী গাভীর সংখ্যা ও দুগ্ধ উৎপাদন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এই ২৬ বছরে সে দেশে দুগ্ধ উৎপাদনকারী গাভীর সংখ্যা প্রায় ১৭ শতাংশ কমেছে; কিন্তু গাভীর দৈনিক গড় উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ১৫৮ শতাংশ। অপরদিকে দুগ্ধ উৎপাদনকারী মোট খামারির সংখ্যা কমেছে প্রায় ৭৪ শতাংশ; কিন্তু খামারপ্রতি গাভীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩২৫ শতাংশ, যা ওই দেশের প্রেক্ষাপটে খুবই প্রত্যাশিত ছিল।

অর্থাৎ গাভীর দৈনিক উৎপাদনশীলতা বাড়লে মোট গাভী কিংবা খামারির সংখ্যাও কমতে পারে; তবে এটা সত্য যে, খামারপ্রতি গাভীর সংখ্যা বাড়বে। মোট গাভীর সংখ্যা কমে গিয়েও খামারপ্রতি গাভীর সংখ্যা বাড়লে প্রান্তিক খামারির সংখ্যা কমে যাবে এটা সত্য; কিন্তু টিকে থাকা খামারগুলো আকারে বৃহৎ ও নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় ডেইরি শিল্প একটি বৃহৎ ইন্ডাস্ট্রিতে পরিণত হবে। পাশাপাশি গ্রিন হাউস মিথেন গ্যাসের নিঃসরণও এই শিল্পে কমে যাবে।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের দুধে অ্যান্টিবায়োটিক উপাদান নিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। একজন খামারির ১০ থেকে ১৫টি গাভী থাকে। এগুলোর মধ্যে একটি অসুস্থ থাকা খুবই স্বাভাবিক। সেই অসুস্থ গাভীর কেমিক্যাল ট্রিটমেন্টের প্রয়োজন হতেই পারে।

খামারিকে অবশ্যই অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো গাভীর দুধ কিছুদিনের জন্য বিক্রি থেকে বিরত থাকতে হবে, যা একজন ক্ষুদ্র খামারির আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে যায়। অপরদিকে খামারপ্রতি গাভীর সংখ্যা বেশি হলে বড় খামারি অসুস্থ গাভীর দুধ বিক্রি না করলেও তা তেমন বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয় না। সুতরাং দেশে শুধু গাভী ও খামারির সংখ্যা না বাড়িয়ে কিভাবে গাভীপ্রতি দুধ উৎপাদন বাড়ানো যায় তা নিয়ে গবেষণা করতে হবে।

মো. শরিফুল ইসলাম : শিক্ষার্থী, কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়, ডেনমার্ক

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×