বীমা গ্রাহকদের হয়রানি, নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে

প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সম্পাদকীয়

পলিসির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশের পাঁচ জীবন বীমা কোম্পানি তাদের গ্রাহকদের টাকা পরিশোধ করছে না বলে জানা গেছে। কোম্পানিগুলো হল- গোল্ডেন লাইফ, বায়রা লাইফ, সানলাইফ, হোমল্যান্ড লাইফ এবং সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি।

গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কাছে এসব কোম্পানির বিরুদ্ধে ৫ হাজার ৬০৯ গ্রাহকের পলিসির টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগ জমা পড়েছে। তবে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে যেসব অভিযোগ আইডিআরএ’র কাছে পৌঁছাতে পারেনি, সে সংখ্যা হিসাব করলে তা ২০-২৫ হাজার ছাড়িয়ে যাবে। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

বীমা গ্রাহকরা তাদের টাকা ফিরে পেতে প্রতিদিন আইডিআরএ অফিসে গিয়ে খালি হাতে ফিরে আসছেন। এটি হয়রানির পর্যায়ে পড়ে। সাধারণ মানুষ জীবনের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য তাদের স্বল্প আয় থেকে একটু একটু করে টাকা বীমা কোম্পানিতে জমা রেখেছেন দীর্ঘ সময় ধরে। পলিসির মেয়াদ শেষে সেই টাকা না পাওয়া দুর্ভাগ্যজনক। এটি বীমা আইনের লঙ্ঘনও বটে।

বস্তুত জীবন বীমা কোম্পানিতে পলিসিহোল্ডারের প্রিমিয়াম হল একটি আমানত। চুক্তি অনুযায়ী পলিসির মেয়াদ শেষে লাভসহ এ টাকা পরিশোধ করতে হয়। এজন্য বীমা আইনে কোম্পানির ব্যবসা সংগ্রহ ও কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যয়ের মাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। পরিতাপের বিষয়, অনেক কোম্পানি এ বিধান অমান্য করে পলিসিহোল্ডারদের আমানত ব্যয় করছে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বীমা গ্রাহকরা।

বীমা আইন অনুসারে পলিসির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে প্রতিশ্রুত টাকা দিতে হয়। আর ৯০ দিনের বেশি হলে বাকি দিনগুলোর সুদসহ টাকা পরিশোধ করতে হয়। অথচ কিছু বীমা কোম্পানি বছরের পর বছর টাকা পরিশোধ না করে গ্রাহকদের হয়রানি করছে, তাদের টাকা আত্মসাৎ করছে। এটি চলতে পারে না। এদিকে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দেয়া জরুরি বলে মনে করি আমরা।

কিছু বীমা কোম্পানির এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে আস্থা হারাচ্ছে গোটা বীমা খাত। ফলে এগোতে পারছে না এ শিল্প। কোম্পানিগুলোর মধ্যে যে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে, তা এ শিল্পের উন্নতির পথে একটি বড় অন্তরায়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে তাদের অনৈতিক ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। এ লক্ষ্যে বীমা আইনের যথাযথ প্রয়োগে আইডিআরএ-কে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

উল্লেখ্য, বীমা শিল্পে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং বীমা আইনকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে ২০১০ সালের মার্চ মাসে নতুন বীমা আইন প্রণয়ন করা হয়। এর আলোকে ২০১১ সালের জানুয়ারিতে গঠিত হয় আইডিআরএ। কিন্তু শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটিতে তীব্র জনবল সংকট রয়েছে।

তাছাড়া অভিযোগ আছে, প্রভাবশালী গোষ্ঠী মন্ত্রণালয়কে প্রভাবিত করায় অভিযুক্ত কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছে না আইডিআরএ। এসব সমস্যা অবিলম্বে দূর করা প্রয়োজন। বীমা কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম ডিজিটালাইজড করা, প্রশিক্ষিত জনবলের অভাব দূর করা, অভিযুক্ত কোম্পানিকে কঠোর শাস্তি প্রদান করা এবং এ খাতের সংস্কার কাজগুলো দ্রুত এগিয়ে নেয়ার মধ্য দিয়ে দেশের বীমা শিল্প তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেতে পারে।