কৃষি জমিতে বাঁধ, অসহায় কৃষকদের পাশে দাঁড়ান

  সম্পাদকীয় ২৩ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কৃষি জমি

রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার দাঁড়িয়ারবিল এলাকায় ঘটেছে এমন এক ঘটনা, যা এলাকার দু’শ কৃষকের সর্বনাশ ডেকে এনেছে। খনন করার কথা ছিল পুকুর; কিন্তু নিচু জমিতে বাঁধ দিয়ে সেখানে চাষ করা হচ্ছে মাছ আর এই বাঁধ দেয়া হয়েছে বিলের পানিপ্রবাহের মুখে। এতে এলাকার সাতটি গ্রামের প্রায় দুই হাজার একর জমি তলিয়ে গেছে পানির নিচে।

এ কারণে চলতি মৌসুমে ধানের চারা রোপণ করতে পারেননি দুই শতাধিক কৃষক। ফসল মার খাওয়ায় তাদের জন্য কী ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে সে চিন্তায় তাদের হাত উঠে এসেছে মাথায়।

দাঁড়িয়ারবিল এলাকার কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পুকুর খননের নামে প্রায় ৪ একর জমি বন্দোবস্ত নেন এলাকার একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। স্থানীয় মৎস্য অধিদফতরের কাছ থেকে ১৩ লাখ ৬২ হাজার টাকাও নেন তিনি পুকুর খননের জন্য। পরে তার সঙ্গে যোগ দেন স্থানীয় একজন ইউপি সদস্য ও আরেকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। তারা বিলের পানিপ্রবাহের মুখে ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণ করে সেখানে মাছের পোনা ছাড়েন। বাকি টাকা করেন পকেটস্থ।

আরও অভিযোগ রয়েছে, বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদ করায় তাদের দেয়া হয় নানা ধরনের হুমকি-ধমকি। নিরুপায় কৃষকরা জড়ো হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দ্বারস্থ হন। তার নির্দেশে যে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি হয়, সেখানেও পাওয়া গেছে ঘটনার সত্যতা।

বদরগঞ্জ উপজেলার দাঁড়িয়ারবিল এলাকার কৃষকদের বর্তমান অবস্থা বড়ই করুণ। তারা বিক্ষোভে নেমেছেন। গত সপ্তাহে তারা আরেক দফা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গেলে আন্দোলনকারীদের হয়রানি করতে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাও দায়ের করা হয়েছে। এমতাবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত হবে অসহায় কৃষকদের পাশে এসে দাঁড়ানো।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেছেন, বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে একটি ক্যানেল তৈরি করা যেতে পারে। কিন্তু কৃষকরা চাইছেন সরকার বাঁধ কেটে দেয়ার ব্যবস্থা করুক। আমরা মনে করি, কৃষকদের এই দাবি মেনে নেয়া উচিত। দ্বিতীয় যে কথা, তা হল ১৩ লাখ ৬২ হাজার টাকা নিয়ে ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণ করে যারা বাকি টাকা লোপাট করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। কৃষকদের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে, তা-ও প্রত্যাহার করতে হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×