প্রত্যাবাসনের দ্বিতীয় উদ্যোগও ব্যর্থ: রোহিঙ্গারা আদৌ ফিরে যাবে কি?

  সম্পাদকীয় ২৪ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রোহিঙ্গা

রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হলেও প্রত্যাবাসনের দ্বিতীয় উদ্যোগও ব্যর্থ হয়েছে। নিজ ভূমে ফিরে যাওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি না হওয়ায় রোহিঙ্গাদের কেউ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ফিরে যেতে রাজি হয়নি।

ফিরে যাওয়ার লক্ষ্যে রাখাইনে নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টিসহ বেশকিছু দাবি জানিয়েছে তারা। উল্লেখ করা যেতে পারে, গত বছরের ১৫ নভেম্বর প্রত্যাবাসনের তারিখ নির্ধারিত হয়েছিল। তখনও পুনরায় হামলার মুখে পড়ার আশঙ্কায় রোহিঙ্গারা অস্বীকৃতি জানিয়েছিল ফিরে যাওয়ায়।

নিজ ভূমে ফিরে যাওয়ার প্রশ্নে রোহিঙ্গাদের কেন এই অস্বীকৃতি? এ ব্যাপারে প্রশ্ন উঠেছে আশ্রয় শিবিরগুলোয় কর্মরত দেশি-বিদেশি এনজিওগুলোর ভূমিকা নিয়ে। প্রত্যাবাসন শুরুর নির্ধারিত দিনের আগে ৬১টি দেশি-বিদেশি এনজিও যুক্ত বিবৃতি দিয়ে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করেছে রোহিঙ্গাদের।

বলাবাহুল্য, তাদের এই চেষ্টার পেছনে বাণিজ্যিক মনোবৃত্তি রয়েছে। এনজিওগুলোর কর্মকর্তারা বর্তমানে রোহিঙ্গা ইস্যুতে কীভাবে লাভবান হচ্ছেন, তা খতিয়ে দেখা দরকার।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী অবশ্য ইতিমধ্যেই বলেছেন, যারা রোহিঙ্গাদের প্ল্যাকার্ড বা লিফলেট করে দিচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। এনজিওগুলো মিয়ানমারের পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা ব্যক্ত করে নিরাপদ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

আমাদের কথা হল, ২২ আগস্ট যাদের প্রত্যাবাসনের কথা ছিল, তাদের সংখ্যা নিতান্তই কম। তারা ফিরে গেলে কেমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতেন, তা দেখার চেষ্টা করা যেত। তা না করে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার প্রশ্নে তাদের নিরুৎসাহিত করা মোটেও সমীচীন হয়নি।

তবে এটা অস্বীকার করা যাবে না, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ বসবাসের পরিবেশ এখনও তৈরি করা হয়নি। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের বিষয়টিরও ফয়সালা হয়নি। এ অবস্থায় রোহিঙ্গারা জানিয়ে দিয়েছে, পাঁচটি শর্ত পূরণ না হলে তারা ফিরে যাবে না।

এমতাবস্থায় রোহিঙ্গারা আসলেই মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারবে কিনা, তা এক বড় প্রশ্ন হিসেবে দেখা দিয়েছে। অবস্থা এখন যা দাঁড়িয়েছে, তাতে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার প্রশ্নে তাদের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করাটাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী দ্বিতীয় দফার প্রত্যাবাসন উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টিকে ‘দুঃখজনক’ বলেছেন।

কিন্তু কথা হল, বর্তমান পরিস্থিতিকে দুঃখজনক বললেই কি সব প্রশ্নের মীমাংসা হয়ে যায়? বর্তমান পরিস্থিতিতে কী করা যায়, তা নিয়ে ভাবতে হবে। রাখাইন রাজ্যে প্রত্যাবাসনে যাবতীয় শর্ত পূরণের দায় মিয়ানমার সরকারের বলে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘ। তাই যদি হয়, তাহলে এ ব্যাপারে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধি করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে হবে। এ নিয়ে বিতর্কের অবকাশ নেই যে, বাংলাদেশে অবস্থানরত ১১-১২ লাখ রোহিঙ্গার ভার দিনের পর দিন বহন করা সম্ভব নয়। তাদের ফেরত যেতেই হবে। কোনো অজুহাতেই তাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা যাবে না।

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×