রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কেন ব্যর্থতা

  আব্দুল্লাহ সাদমান জামী ২৫ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রোহিঙ্গা

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আরেকটি ধাক্কা খেল বাংলাদেশ। চীনকে সঙ্গে নিয়ে বেশ তোড়জোড় করে নামলেও এবারও একটিও রোহিঙ্গা পরিবারকে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে রাজি করাতে পারেনি সরকার। যদিও প্রায় তিনশ’ রোহিঙ্গা পরিবার এবার সাক্ষাৎকার দিয়েছে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি দলের কাছে। তাদের মধ্যে কয়েকটি পরিবারকে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে প্রতীকীভাবে প্রক্রিয়াটি শুরু করার ব্যাপারে আশাবাদী ছিল সংশ্লিষ্ট পক্ষ। এজন্য তিনটি ট্রাক ও একটি বাসও প্রস্তুত করে রাখা হয়েছিল সীমান্তে। কিন্তু একজন রোহিঙ্গাকেও রাজি করানো যায়নি দিন শেষে।

রোহিঙ্গারা বলেছে, নাগরিকত্বসহ চারটি দাবির ব্যাপারে পূর্ণ নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত তারা ফিরবে না। শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন বিষয়ক কমিশনার আবুল কালাম বিকালে চীন ও মিয়ানমারের প্রতিনিধিদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, তারা জোর করে কোনো পরিবারকে ফেরত পাঠাতে চান না। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, রোহিঙ্গারা যদি মনে করে তারা এভাবে বাংলাদেশে আরামে দিনাতিপাত করবে, তাহলে তারা ভুল করছে। কারণ সরকার ইতিমধ্যেই তাদের পেছনে আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে ফেলেছে এবং এ খাতে ব্যয়ের বিষয়ে সরকারের আর কোনো চিন্তাভাবনা নেই। তার পরবর্তী কথাটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেছেন, দাতারাও আর বেশিদিন এই বিপুল জনগোষ্ঠীর ব্যয়ভার বহন করতে রাজি হবে না।

বাংলাদেশ থেকে বরাবর এ বিষয়ে সহিষ্ণু আচরণ করা হলেও এবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি এ অচলাবস্থার জন্য মিয়ানমারের অনীহাকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গারা না যাওয়ার পেছনে যে আস্থার সংকটের কথা বলছে সেটার জন্য মিয়ানমার দায়ী। অবাক করার মতো ব্যাপার হচ্ছে, বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে মিয়ানমারের কোর্টে সরাসরি বল ঠেলে দেয়া হলেও মিয়ানমার এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। বরং মিয়ানমার কেন আস্থার জায়গাটি নিয়ে কাজ করছে না, সাংবাদিকরা এ নিয়ে মিয়ানমারের প্রতিনিধিকে প্রশ্ন করলে তিনি নিশ্চুপ থেকেছেন।

মিয়ানমারের এই মৌনতা ঔদ্ধত্যের পর্যায়ে চলে যাচ্ছে কিনা তা আসলেই ভাবার বিষয়। কারণ কিছুদিন আগে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসে সরাসরি বলে গেছেন, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেয়ার বিষয়টি তাদের বিবেচনাতেই নেই। অথচ রোহিঙ্গাদের প্রধান দাবিটিই হচ্ছে নাগরিকত্ব। সেক্ষেত্রে মধ্যস্থতার দায়িত্ব নিয়ে চীন এ ব্যাপারে কতটুকু জোরালো পদক্ষেপ নিচ্ছে অথবা পদক্ষেপ নেয়ার ব্যাপারে তারা আসলেই আন্তরিক কিনা, তা নিয়ে সন্দেহের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। গুঞ্জন রয়েছে, এ ব্যাপারে আমেরিকাকে নাক গলাতে না দিতেই তারা মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে এত আগ্রহী।

পরিতাপের বিষয়, আমরা এ বিষয়ে বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী ভারতকেও পাশে পাইনি। বরং ভারত একে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে পাশ কাটিয়ে যেতে চেয়েছে। তবে বাংলাদেশকে আশার আলো জোগাচ্ছে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সফর। তিনি সরাসরি না হলেও আভাসে-ইঙ্গিতে বলেছেন, ভারত শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের পাশে থাকবে। বাংলাদেশের জন্য ভারতের এই সমর্থন খুবই জরুরি এবং বাংলাদেশকে এ বিষয়ে হার্ডলাইনে যেতে হবে বলেই মনে হচ্ছে।

সরকার রোহিঙ্গাদের অতিদ্রুত ভাসানচরে স্থানান্তর করতে চায়। এবং যেসব এনজিও প্রত্যাবাসনকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তাদের কঠোর নজরদারিতে রাখার বিষয়টিও সামনে চলে এসেছে। চট্টগ্রামের মতো বাণিজ্যিক ও পর্যটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকাকে অস্থিতিশীলতা ও জঙ্গিবাদের ঝুঁকি থেকে বাঁচাতে এবং বাকি সংরক্ষিত বনভূমিকে রক্ষা করতে এছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।

আব্দুল্লাহ সাদমান জামী : শিক্ষার্থী, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×