বস্ত্র খাতে তীব্র সংকট: দেশীয় শিল্প রক্ষায় পদক্ষেপ নিন

  যুগান্তর ডেস্ক ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশীয় সুতা ও বস্ত্র শিল্প ধ্বংসের প্রায় দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। বন্ড সুবিধায় আনা বিদেশি সুতা-কাপড়ের কালোবাজারি বন্ধ না হওয়ায় এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে।
ফাইল ছবি

দেশীয় সুতা ও বস্ত্র শিল্প ধ্বংসের প্রায় দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। বন্ড সুবিধায় আনা বিদেশি সুতা-কাপড়ের কালোবাজারি বন্ধ না হওয়ায় এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে।

পরিস্থিতি এমন বাজে হয়ে পড়েছে, কালোবাজারির সুতার কারণে ছোট-বড় চার শতাধিক স্পিনিং মিলে অন্তত ৮ লাখ টন সুতা অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে আছে।

এ অবস্থায় কারখানাগুলো নিজেদের ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারছে না, ফলে নানা ধরনের সংকটের মুখে পড়তে হচ্ছে। এখনও ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিট তথা ৯ শতাংশে নামিয়ে না আনায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।

এ অবস্থায় দেশীয় গুরুত্বপূর্ণ শিল্পটিকে রক্ষায় সব ধরনের সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসার বিকল্প নেই।

জানা যায়, বস্ত্র ও সুতা শিল্পে বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশ ভারত, চীন ও মিয়ানমার। দেশগুলোর বস্ত্র ও সুতা খাত কাঁচামাল এবং দক্ষ মানবসম্পদের মাধ্যমে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পরও এ খাতের উন্নয়নে তারা নানা ধরনের প্রণোদনা ও সহায়তা দিয়ে থাকে।

বিপরীতে হুমকির মুখে থাকা আমাদের সুতা ও কাপড় উৎপাদনের খাতটি নানা সংকটে জর্জরিত হওয়ার পরও সংশ্লিষ্টরা উদাসীন। নামমাত্র কিছু প্রণোদনা থাকলেও সেটি পেতে ঘুরতে হয় বছরের পর বছর।

ঘুষ-দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্যের মতো জঘন্য অপরাধ তো রয়েছেই। তাছাড়া প্রণোদনা দেয়ার ক্ষেত্রেও প্রাপ্য প্রতিষ্ঠানকে না দিয়ে পছন্দের প্রতিষ্ঠান বাছাই করার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে বিভিন্ন সময়।

উদ্বেগের বিষয়, বন্ড সুবিধায় আনা সুতা খোলাবাজারে বিক্রি করা অসাধু ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সময় ভুয়া এলসি খুলে বিপুল পরিমাণ মুদ্রা পাচারের মতো অপকর্মও করে থাকে।

এতে একদিকে বন্ডের সুতা কালোবাজারির মাধ্যমে বিক্রি করায় অবৈধ মুনাফা অর্জন ও দেশীয় শিল্পকে সংকটে ফেলার পাশাপাশি দেশের অর্থ বাইরে পাচার করে দেয়ার মতো গর্হিত অপরাধও সংঘটিত হচ্ছে একই চক্রের মাধ্যমে।

বস্ত্র খাতে এ সংকটের কারণে দেশজুড়ে স্পিনিং মিল ও কাপড় কারখানায় কাজ করা লক্ষাধিক শ্রমিকের জীবন-জীবিকাও হুমকির মুখে পড়েছে।

তাছাড়া লাখ লাখ টন সুতা অবিক্রীত পড়ে থাকার কারণে উৎপাদনে মন্দাভাবসহ নানা জটিলতায় ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগকৃত টাকা সময়মতো ফেরত না পাওয়ায় তাদেরও সংকটের মধ্যে পড়তে হচ্ছে। ফলে দেশীয় শিল্পের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া দরকার।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নানা দেনদরবার করার পরও বস্ত্র খাত রক্ষায় সরকার কর্ণপাত করছে না। আমরা মনে করি, দেশীয় শিল্প, বিশেষত বস্ত্রের মতো কাঁচামাল আমদানিনির্ভর শিল্পের বেলায় উদাসীন হওয়ার সুযোগ নেই।

ফলে দেশে উৎপাদন হয় এমন সুতা আমদানির ওপর অন্তত সুনির্দিষ্ট মেয়াদে নিষেধাজ্ঞা আরোপ, ১০-১৫ শতাংশ নগদ সহায়তা দিয়ে বস্ত্র খাতকে লাইফলাইন দেয়া দরকার। অন্যথায় স্পিনিং মিলগুলো ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।

কারণ বর্তমানে কেজিপ্রতি দেশি সুতা যেখানে আড়াই ডলার, সেখানে আমদানি করা সুতার কেজি ২ দশমিক ৩০ ডলার, যদিও এলসি খোলার সময় ৩ ডলার দাম দেখানো হয়।

এভাবে দামের প্রতিযোগিতায় দেশীয় স্পিনিং মিল তথা বস্ত্র খাতের টিকে থাকা দুরূহ। আমাদের দুর্ভাগ্য, সময় থাকতে কোনো খাতে ভালোভাবে দৃষ্টি দেয়া হয় না। ফলে শেষ সময়ে এসে কার্যকর কিছু আর হয়ে ওঠে না। বস্ত্র খাতের ক্ষেত্রে সময় থাকতে মনোযোগী হতে হবে।

ঋণ পুনর্গঠনসহ প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিয়ে দেশীয় সুতা ও কাপড়ের বস্ত্র শিল্প রক্ষা এখন সময়ের দাবি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×