অর্থনীতি সমিতির সেমিনার

সুপারিশগুলো আমলে নিন

  যুগান্তর ডেস্ক    ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অর্থনীতি সমিতির সেমিনার
ফাইল ছবি

অর্থনীতি সমিতির সেমিনারে উপস্থাপিত ‘বাংলাদেশের আয় ও ধন বৈষম্য’ শীর্ষক প্রবন্ধে দেশ থেকে বছরে ৭৫ হাজার কোটি টাকা পাচার হওয়ার তথ্য দিয়ে বলা হয়েছে, প্রতিবছর ব্যাংক খাত থেকে ঋণের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হচ্ছে এবং লুট হওয়া অর্থের সিংহভাগই পাচার হচ্ছে বিদেশে। দেশের ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ হিসেবে নেয়া টাকা এভাবে বিদেশে পাচারের ঘটনা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। প্রবন্ধে আরও বলা হয়েছে, দেশে আয় বৈষম্য ও ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং এ থেকে উত্তরণের জন্য ১৩ দফা সুপারিশও পেশ করা হয়েছে।

ব্যাংক খাতে ‘শনির দশা’ কাটাতে হলে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণমুক্ত শক্তিশালী ও কঠোর মনিটরিং পদ্ধতি গড়ে তোলা উচিত। একইসঙ্গে কার্যকর ও দুর্নীতিমুক্ত বিচার ব্যবস্থাও প্রতিষ্ঠা করতে হবে। উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবর মাসে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) একটি ‘ত্বরিত মূল্যায়ন জরিপ’-এর আয়োজন করেছিল। জরিপে অংশ নেয়া ব্যবসায়ীদের ৬১ শতাংশ দেশ থেকে টাকা পাচার বাড়ছে- এ অভিমত ব্যক্ত করে সে সময় বলেছিলেন, ব্যাংক ও শেয়ারবাজারে (আর্থিক খাত) বিশৃঙ্খলা নিয়েও তারা চিন্তিত এবং এসব থেকে পরিত্রাণ পেতে সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দরকার।

বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে, সেইসঙ্গে দুর্নীতির মাত্রা কমিয়ে আনা গেলে বিদেশে অর্থ পাচার হ্রাস পাবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এ ব্যাপারে রাজনৈতিক সদিচ্ছা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ বছরের জুন শেষে অবলোপন বাদে খেলাপি ঋণের পরিমাণ অন্তত ১ লাখ ১২ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা। আশঙ্কাজনক হল, ব্যাংকগুলো নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর দখলে চলে গেছে। ব্যাংক খাতে বিশৃঙ্খলার বিষয়টি বর্তমানে গোপন কোনো বিষয় নয়; এটি দৃশ্যমান, যা থেকে পরিত্রাণের উপায় খোঁজা জরুরি। উন্নয়নশীল দেশগুলোর অবৈধ আর্থিক প্রবাহ বা মুদ্রা পাচার নিয়ে গবেষণা ও বিশ্লেষণকারী ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির (জিএফআই) তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে ৬ লাখ কোটিরও বেশি টাকা পাচার হয়েছে এবং প্রতিবছর টাকা পাচারের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিদেশে অর্থ পাচার একটি গুরুতর অপরাধ। এজন্য শাস্তির বিধান রেখে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। তারপরও টাকা পাচারের ঘটনা কেন বন্ধ হচ্ছে না, এ প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। অভিযোগ রয়েছে, টাকা পাচারের বিষয়টি ক্ষমতাসীনরা অবহিত থাকলেও মূলত রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অনেকেই অর্থ পাচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। বিদেশে টাকা পাচার বন্ধে সরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে পিছপা হবে না বলেই আমাদের বিশ্বাস। অর্থনীতি সমিতির সেমিনারে ঋণখেলাপি সংস্কৃতি থেকে মুক্ত হতে ব্যাংক ও আর্থিক খাত সংস্কার এবং দেশে আয় ও ধন বৈষম্য হ্রাসে যেসব সুপারিশ করা হয়েছে, তা আমলে নেয়া উচিত।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×