বাসচালকের বেপরোয়াপনা: বিচারের আওতায় আনতে হবে

  সম্পাদকীয় ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাসচালকের বেপরোয়াপনা
বাসচালকের বেপরোয়াপনা। ফাইল ছবি

পরিবহন সেক্টরের অরাজকতা দূর করতে নানা পদক্ষেপ নেয়া হলেও বাস্তবে অবস্থার যে উন্নতি হয়নি তা প্রতিদিনের সড়ক দুর্ঘটনার চিত্র থেকেই স্পষ্ট। চালকের অদক্ষতা ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে অনেক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলেও চালকদের এসব দুর্বলতা দূর করার যথেষ্ট উদ্যোগ লক্ষ করা যাচ্ছে না।

সোমবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ৫ সেপ্টেম্বর সড়ক দুর্ঘটনায় সঙ্গীত শিল্পী পারভেজ রবের মৃত্যুর পর এ বিষয়ে সমঝোতার জন্য শনিবার রাতে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে সংশ্লিষ্ট পরিবহনের লোকজন তাদের বাসস্থান উত্তরার কামারপাড়া এলাকায় আসেন।

বাসার কাছেই রাস্তায় দাঁড়িয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ৫ সেপ্টেম্বরের দুর্ঘটনা নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছিল। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এর কিছুক্ষণ পরই দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ে; যে দুর্ঘটনায় পারভেজ রবের ছেলে আলভীর বন্ধু মেহেদী হাসান ছোটন নিহত হন এবং আলভী গুরুতর আহত হন।

পরিবারের সদস্যদের দাবি- সংশ্লিষ্ট পরিবহনের বাসচালক দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে ক্ষোভের বশে তাদের ওপর বাস উঠিয়ে দিয়েছে। আর বাসচালকের দাবি- এটি নিছক দুর্ঘটনা।

এটি কি হত্যাকাণ্ড নাকি নিছক দুর্ঘটনা, তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করতে হবে। দুর্ঘটনা হলে যে বা যারা এর জন্য দায়ী তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে নানা রকম প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও এসব প্রতিশ্রুতি রক্ষায় কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। বেপরোয়া প্রতিযোগিতা করে গাড়ি চালানো ছাড়াও পরিবহন সেক্টরে অন্যান্য অরাজকতাও বিদ্যমান।

দুর্ঘটনা ও বিশৃঙ্খলা রোধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরও সড়কে নৈরাজ্য বন্ধ না হওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। লক্ষ করা যায়, সড়কে প্রাণহানি বাড়লে দুর্ঘটনা রোধে তোড়জোড় শুরু হয়; কিন্তু এক সময় তা স্তিমিত হয়ে পড়ে।

দুর্ঘটনা বৃদ্ধির এটিও একটি কারণ। জানা যায়, গত ১৩২ দিনে সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন ১২৫৯ জন। লক্ষ করা যাচ্ছে, সড়কে এখনও চলছে লক্কড়-ঝক্কড় বাস। বেপরোয়া গাড়ি চালানোর প্রবণতাও বন্ধ হয়নি। সারা দেশে যানবাহনের তুলনায় লাইসেন্সধারী চালকের সংকট রয়েছে।

এ সমস্যার সমাধান জরুরি। দুর্ঘটনা রোধে মানুষকে সচেতন করার জন্য নিতে হবে নানামুখী পদক্ষেপ। বিদ্যমান ট্রাফিক ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি থাকলে তা দূর করতেও নিতে হবে পদক্ষেপ। পরিবহন সেক্টরের অরাজকতা দূর করতে কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, এটাই কাম্য।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×