সড়কে অব্যাহত বিশৃঙ্খলা: সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে
jugantor
সড়কে অব্যাহত বিশৃঙ্খলা: সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে

  সম্পাদকীয়  

১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সড়ক-মহাসড়কে শৃঙ্খলা না ফেরার বিষয়টি হতাশাজনক। যদিও ইতিমধ্যে মামলা ও জরিমানার হার উভয়ই বেড়েছে অনেক; তারপরও কেন এ খাতে বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে এর উত্তর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই দিতে হবে।

দেখা যাচ্ছে রাস্তা পারাপারের ক্ষেত্রে যাত্রীদের সচেতনতা যেমন বাড়েনি, তেমনি বন্ধ হয়নি বাসগুলোর মধ্যে রেষারেষি। এ অবস্থায় কখনও বাস উঠে যাচ্ছে ফুটপাতে; এতে কেউ মারাত্মক আহত হচ্ছেন, আবার কারও জীবন যাচ্ছে।

৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর উত্তরায় ভিক্টর পরিবহনের একটি বাসের চাপায় প্রাণ হারান জনৈক সঙ্গীত পরিচালক ও কণ্ঠশিল্পী। এর দু’দিন পর একই পরিবহনের বাসের চাপায় গুরুতর আহত হন প্রয়াত শিল্পী ও সঙ্গীত পরিচালকের ছেলে ও তার বন্ধু। বন্ধুটি পরে হাসপাতালে মারা যান।

ওইদিন রাজধানীর মহাখালী-বিমানবন্দর সড়কে বনানীতে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা কর্মজীবী এক নারীকে একটি বাস চাপা দিলে তিনি প্রাণ হারান। এছাড়া সম্প্রতি রাজধানীর ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা একজন নারী বাস চাপায় পা হারিয়েছেন। প্রশ্ন হল, ফুটপাতও যদি পথচারীদের জন্য নিরাপদ না হয় তাহলে তারা হাঁটবে কোথায়?

মামলা ও জরিমানার হার বৃদ্ধি সড়কে শৃঙ্খলা ফেরার মানদণ্ড হতে পারে না, যা বলাই বাহুল্য। অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীসহ সারা দেশে মূলত যেসব গাড়ির কাগজপত্র ঠিক থাকে, সেসব গাড়ির ক্ষেত্রেই মামলা ও জরিমানা বেশি হয়।

অথচ যেসব গাড়ি ভাঙাচোরা, যেগুলোর কাগজপত্র ঠিক নেই; সেসব গাড়িকে মামলা ও জরিমানা গুনতে হয় না। কারণ তারা আইন প্রয়োগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নিয়মিত অর্থ প্রদান করে থাকে। যানবাহনের ক্ষেত্রে মামলা ও জরিমানা একটি সাধারণ বিষয়। উন্নত বিশ্বেও এর প্রচলন রয়েছে।

তবে পার্থক্য হল- উন্নত বিশ্বে চালককে মামলার টাকা পরিশোধ করতে হয়; অথচ আমাদের এখানে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন মালিকপক্ষ। যতক্ষণ চালকদের লাগাম টেনে ধরা না যাবে, ততক্ষণ এর কোনো সুফল যে পাওয়া যাবে না তার প্রমাণ হল, মামলা-জরিমানার হার বহুগুণ বাড়লেও সড়ক-মহাসড়কে অনিয়ম, নৈরাজ্য ও অরাজকতা আগের মতোই বিরাজ করছে।

আমরা মনে করি, মামলা ও জরিমানা কোনো সমাধান নয়। চালক, পথচারী তথা মানুষের মধ্যে নিয়ম-নীতি মেনে চলার শিক্ষা, নৈতিকতা ও শৃঙ্খলাবোধ জাগ্রত করা জরুরি। মানুষ সচেতন হলে অনেক অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা হ্রাস পাবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

অবশ্য একইসঙ্গে সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষাকারী ট্রাফিক পুলিশসহ অন্যদের দায়িত্বশীল হতে হবে; অহেতুক ক্ষমতা প্রদর্শনের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে তাদের জনবান্ধব হতে হবে। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থা যুগোপযোগী করা প্রয়োজন।

সড়কে অব্যাহত বিশৃঙ্খলা: সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে

 সম্পাদকীয় 
১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সড়ক-মহাসড়কে শৃঙ্খলা না ফেরার বিষয়টি হতাশাজনক। যদিও ইতিমধ্যে মামলা ও জরিমানার হার উভয়ই বেড়েছে অনেক; তারপরও কেন এ খাতে বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে এর উত্তর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই দিতে হবে।

দেখা যাচ্ছে রাস্তা পারাপারের ক্ষেত্রে যাত্রীদের সচেতনতা যেমন বাড়েনি, তেমনি বন্ধ হয়নি বাসগুলোর মধ্যে রেষারেষি। এ অবস্থায় কখনও বাস উঠে যাচ্ছে ফুটপাতে; এতে কেউ মারাত্মক আহত হচ্ছেন, আবার কারও জীবন যাচ্ছে।

৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর উত্তরায় ভিক্টর পরিবহনের একটি বাসের চাপায় প্রাণ হারান জনৈক সঙ্গীত পরিচালক ও কণ্ঠশিল্পী। এর দু’দিন পর একই পরিবহনের বাসের চাপায় গুরুতর আহত হন প্রয়াত শিল্পী ও সঙ্গীত পরিচালকের ছেলে ও তার বন্ধু। বন্ধুটি পরে হাসপাতালে মারা যান।

ওইদিন রাজধানীর মহাখালী-বিমানবন্দর সড়কে বনানীতে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা কর্মজীবী এক নারীকে একটি বাস চাপা দিলে তিনি প্রাণ হারান। এছাড়া সম্প্রতি রাজধানীর ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা একজন নারী বাস চাপায় পা হারিয়েছেন। প্রশ্ন হল, ফুটপাতও যদি পথচারীদের জন্য নিরাপদ না হয় তাহলে তারা হাঁটবে কোথায়?

মামলা ও জরিমানার হার বৃদ্ধি সড়কে শৃঙ্খলা ফেরার মানদণ্ড হতে পারে না, যা বলাই বাহুল্য। অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীসহ সারা দেশে মূলত যেসব গাড়ির কাগজপত্র ঠিক থাকে, সেসব গাড়ির ক্ষেত্রেই মামলা ও জরিমানা বেশি হয়।

অথচ যেসব গাড়ি ভাঙাচোরা, যেগুলোর কাগজপত্র ঠিক নেই; সেসব গাড়িকে মামলা ও জরিমানা গুনতে হয় না। কারণ তারা আইন প্রয়োগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নিয়মিত অর্থ প্রদান করে থাকে। যানবাহনের ক্ষেত্রে মামলা ও জরিমানা একটি সাধারণ বিষয়। উন্নত বিশ্বেও এর প্রচলন রয়েছে।

তবে পার্থক্য হল- উন্নত বিশ্বে চালককে মামলার টাকা পরিশোধ করতে হয়; অথচ আমাদের এখানে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন মালিকপক্ষ। যতক্ষণ চালকদের লাগাম টেনে ধরা না যাবে, ততক্ষণ এর কোনো সুফল যে পাওয়া যাবে না তার প্রমাণ হল, মামলা-জরিমানার হার বহুগুণ বাড়লেও সড়ক-মহাসড়কে অনিয়ম, নৈরাজ্য ও অরাজকতা আগের মতোই বিরাজ করছে।

আমরা মনে করি, মামলা ও জরিমানা কোনো সমাধান নয়। চালক, পথচারী তথা মানুষের মধ্যে নিয়ম-নীতি মেনে চলার শিক্ষা, নৈতিকতা ও শৃঙ্খলাবোধ জাগ্রত করা জরুরি। মানুষ সচেতন হলে অনেক অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা হ্রাস পাবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

অবশ্য একইসঙ্গে সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষাকারী ট্রাফিক পুলিশসহ অন্যদের দায়িত্বশীল হতে হবে; অহেতুক ক্ষমতা প্রদর্শনের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে তাদের জনবান্ধব হতে হবে। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থা যুগোপযোগী করা প্রয়োজন।