সিসি ক্যামেরা অকেজো করে হত্যা

জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে

  যুগান্তর ডেস্ক    ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর মহাখালীতে একজন ঠিকাদারকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতের পরিবারের ধারণা, বিরোধ ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে। উদ্বেগের বিষয় হল, যে স্থানে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে, সেখানকার পুরো এলাকা গত দুই বছর ধরে ২৬টি ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হলেও ঘটনার দিন সেগুলো অকেজো করে রাখা হয়েছিল। এ থেকে স্পষ্ট, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং খুনিরা সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ঘটনাটি ঘটিয়েছে। পুরো ঘটনা বিশ্লেষণ করে গোয়েন্দারাও বলেছেন, ঘাতকরা প্রশিক্ষত এবং অস্ত্রচালনায় পারদর্শী। তবে তারা ভাড়াটে খুনিও হতে পারে। এ ঘটনায় জনমনে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে, সন্দেহ নেই। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ থাকলে হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা এবং তাদের পরিচয় শনাক্ত করা অনেকটা সহজ হতো। এখন খুনিদের গ্রেফতার এবং আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিকল্প পথে অনুসন্ধান করতে হবে।

দুই বছর আগে রাজধানীর গুলশানে একজন ইতালীয় নাগরিক খুন হওয়ার পর নগরীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কয়েক দফায় ঢেলে সাজানো হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশি কার্যক্রম, আইপি ক্যামেরা, ই-স্ক্যানার ইত্যাদি ভেদ করে হলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর গুলশান, বনানী ও বারিধারাসহ আশপাশের এলাকা ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হলেও এটি যে নিশ্ছিদ্র ছিল না, সাম্প্রতিক সময়ে বনানী এলাকায় একজন ব্যবসায়ী এবং বাড্ডায় নৃশংসভাবে বাবা ও মেয়ের খুনের ঘটনায় তা প্রমাণিত হয়। এবার মহাখালীতে ঠিকাদার খুনের ঘটনায় বিষয়টি আবারও স্পষ্ট হল। প্রকাশ্য দিবালোকে অপরাধ সংঘটনের পর হত্যাকারীরা নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাওয়ায় এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

দেশে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির কারণগুলো হল, ক্রাইম ম্যাপিংয়ে ‘হট স্পট’ চিহ্নিত না করা, খুনি বা অপরাধীকে ভয় দেখানোর ক্ষেত্রে ব্যর্থতা, দুর্বল মামলা ও তদন্ত রিপোর্ট এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাব। এ ছাড়া রাজনৈতিক প্রভাবে শাস্তি এড়িয়ে যাওয়ার সংস্কৃতিও অপরাধ বৃদ্ধির একটি বড় কারণ। যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে মূল অপরাধীকে চিহ্নিত করে তাকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে বিভিন্ন অপরাধ, বিশেষ করে নৃশংস হত্যাকাণ্ডসহ অন্যান্য সামাজিক অপরাধ কমে আসবে। শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার অন্যতম শর্ত হল জবাবদিহিতা। দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমানে রাষ্ট্রে এ প্রক্রিয়ার ঘাটতি রয়েছে। জাতীয় সংসদে কার্যকর কোনো বিরোধী দল নেই। সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকলে সরকারের ভুলত্র“টিগুলো চিহ্নিত করার মতো কেউ থাকে না। এর সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, দেশে কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ খুন ও গুমের শিকার হয়েছেন। কারও কারও লাশ উদ্ধার হলেও অধিকাংশের কোনো খোঁজ মেলেনি। গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, শিক্ষা এবং সুশাসন ছাড়া উন্নয়নের ধারা বজায় রাখা সম্ভব নয়- এ সত্য উপলব্ধি করে সরকার দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে অধিকতর মনোযোগী হবে, এটাই প্রত্যাশা।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter