টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের ক্যাডারভুক্ত করুন

  মো. রেদোয়ান হোসেন ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

তৈরি পোশাক খাতকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রাণশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বেকার সমস্যার সমাধান, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিশেষ করে নারীর কর্মসংস্থানে রয়েছে এ খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও জিডিপিতে অবদান রাখার পাশাপাশি এ শিল্পের সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে বস্ত্র, সুতা, আনুষঙ্গিক উপকরণ, প্যাকেজিং ইত্যাদি শিল্পেরও সম্প্রসারণ ঘটেছে। সব মিলিয়ে বলা চলে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি পোশাকশিল্প।

টেক্সটাইল শিক্ষা বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার একটি সম্ভাবনাময় দিক। এ শিল্পের বিকাশের লক্ষ্যে টেক্সটাইলে উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য রয়েছে ‘বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইল’ (বুটেক্স), যা একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়। এ ছাড়া ঢাকা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়- এই তিনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ছাড়াও চট্টগ্রাম, পাবনা, বরিশাল, নোয়াখালী আর ঝিনাইদহে রয়েছে একটি করে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, যেখানে টেক্সটাইলে গ্র্যাজুয়েট হওয়ার সুযোগ রয়েছে। ১৪টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি লাভ করে বস্ত্রশিল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়ে জাতীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার সুযোগ রয়েছে।

এরপরও দেখা যাচ্ছে বিসিএস ডিগ্রি লাভ, সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় কিংবা সাধারণ সরকারি চাকরি লাভের ক্ষেত্রে টেক্সটাইল প্রকৌশলীরা অবহেলিত। বর্তমানে সরকারি কাজের জন্য বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) রয়েছে সড়ক ও জনপথ, গণপূর্ত, জনস্বাস্থ্য, বন, স্বাস্থ্য, রেলওয়ে প্রকৌশল, পশুসম্পদ, মৎস্য, পরিসংখ্যান ও গবেষণা কর্মকর্তা, কারিগরি শিক্ষা, কৃষি, খাদ্য ও সাধারণ শিক্ষা এই ১৩টি পেশাগত ক্যাডার। অথচ যে শিল্প আয়ের সম্ভাবনার ওপর দাঁড়িয়ে স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা হচ্ছে, তাদের নেপথ্য কারিগর বস্ত্র খাতের প্রকৌশলীদের জন্য নেই পৃথক কোনো ক্যাডার সার্ভিস। টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের পৃথক ক্যাডার সার্ভিস না থাকায় টেক্সটাইল গ্র্যাজুয়েটদের দক্ষতা কার্যত অবমূল্যায়িত হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা অন্য ক্যাডারভুক্তদের অধীনতা গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে। একই গ্রেডভুক্ত হওয়ার পরও ক্যাডারভুক্ত না থাকায় গ্র্যাজুয়েটধারী ব্যক্তিটির একদিকে যেমন মেধার সঠিক মূল্যায়ন হচ্ছে না, অন্যদিকে সামাজিক মর্যাদার দিক থেকেও তিনি পিছিয়ে পড়ছেন। তাই টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের এসব বৈষম্য রোধে পৃথক ক্যাডার চালু করা উচিত। কিন্তু টেক্সটাইল ক্যাডার নিয়ে সরকারের উচ্চমহলের ভেতর তেমন কোনো মাথাব্যথা লক্ষ করা যায় না। মাঝে মধ্যে সরকারের উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বিভিন্ন আশার বাণী শোনালেও কার্যত এর বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের কোনো মহলেরই তেমন তোড়জোড় নেই। একাধিকবার উদ্যোগ নেয়া হলেও বিভিন্ন আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় থমকে আছে বাস্তবায়ন। তাই বিসিএসে স্বতন্ত্র ক্যাডার চালুসহ বিভিন্ন সরকারি জবে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী ২০২১ সাল নাগাদ দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে বস্ত্রশিল্পে ৫০ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আর বস্ত্র প্রকৌশলীরা তা বাস্তবায়নের নিরন্তর সহযোগিতা করে আসছে। আমার বিশ্বাস টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের ক্যাডারভুক্ত করা হলে দেশের উন্নয়নে টেক্সটাইল গ্র্যাজুয়েটরা সরাসরি অবদান রাখতে পারবে।

মো. রেদোয়ান হোসেন : শিক্ষার্থী, বঙ্গবন্ধু টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, টাঙ্গাইল

[email protected]

 

 

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.