শীর্ষ দুই নেতার পদচ্যুতি: ছাত্রলীগের অনৈতিকতার বিরুদ্ধে কঠোরতা অব্যাহত থাকুক

  সম্পাদকীয় ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ ২ বছর।
ফাইল ছবি

চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ ২ বছর।

২০১৮ সালের ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলনের পর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করেছিলেন।

দুঃখজনক হল, কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ ১ বছর পূর্ণ না হতেই সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ ওঠে।

তদুপরি এ দু’জন সম্পর্কে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা ছাড়াও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে স্বেচ্ছাচারিতা, অদক্ষতা ও অদূরদর্শিতা, নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করাসহ বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের কথা বলা হয়।

বলা চলে, এসব কারণেই বর্তমান কমিটির মেয়াদ আরও ১০ মাস বাকি থাকতেই ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাদের পদ হারালেন।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের শীর্ষ দু’জনের পদচ্যুতির ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন দীর্ঘ সাত দশকের ঐতিহ্যবাহী এ সংগঠনটির বিরুদ্ধে দেশের মানুষের অভিযোগের অন্ত নেই। স্মরণ করা যেতে পারে, আগের মেয়াদে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার গঠনের পর ছাত্রলীগ সাংঘাতিক রকমের বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল।

ছাত্রলীগের দুর্দমনীয় আচরণ ও কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সেসময় দেশব্যাপী নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠায় তাদের নিরস্ত করার বিভিন্ন উপায় ও ফর্মুলা উদ্ভাবিত হলেও বস্তুত কোনো ফর্মুলাই কাজে আসেনি। তখন এমন কোনো দিন ছিল না- দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের দুষ্কর্মের খবর পাওয়া যেত না।

বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন থেকে শুরু করে জাতির যে কোনো সংকট ও ক্রান্তিকালে বলিষ্ঠ ভূমিকা গ্রহণকারী সংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগ একসময় অনন্য মর্যাদা ও জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছিল। অথচ পরবর্তীকালে কিছু নেতাকর্মীর কার্যকলাপ সংগঠনটির ললাটে এঁকে দিয়েছে কলঙ্ক চিহ্ন- এ কথা বলাই বাহুল্য।

ছাত্রলীগের ২৮তম জাতীয় সম্মেলনের প্রায় সাত মাস পর ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হলে সংগঠনের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনসহ কমিটিতে অন্তর্ভুক্তদের বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ অন্যান্য অভিযোগ তোলা হয়েছিল।

ছাত্র সংগঠনের বেআইনি কর্মকাণ্ড বন্ধে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বও কম নয়। আমরা মনে করি, শুধু প্রকৃত শিক্ষার্থী ও মেধাবীদের হাতেই সংগঠনের নেতৃত্ব দেয়া উচিত।

এ প্রেক্ষাপটে নিয়মিত ছাত্র, মেধাবী, যোগ্য, দক্ষ ও জনপ্রিয়দের মধ্য থেকে নেতৃত্ব বাছাইয়ের কাজটি সম্পন্ন করা প্রয়োজন।

ক্ষমতার বৃত্ত-বলয়ে থেকে, তাদের নাম-ধাম ভাঙিয়ে সুবিধা আদায়কারীদের মুখে যতই দলীয় আনুগত্য প্রকাশ পাক না কেন, এতে প্রকারান্তরে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশ ও দেশের মানুষ। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দলীয় নেতাদের ভাবতে হবে।

আশার কথা, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী সভাপতি শেখ হাসিনা ‘ক্যাডার পলিটিক্স’ চিরতরে বন্ধ করতে দলীয় নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে দেশ ও সমাজের জন্য একটি শুভ প্রক্রিয়ার সূচনা ঘটেছে- এ বিশ্বাস আমরা করতে চাই।

পাশাপাশি শিক্ষাঙ্গনসহ দেশের যে কোনো জায়গায় সংঘটিত কোনো সন্ত্রাসী ঘটনার সঙ্গে যুক্তদের দলীয় পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে তাদের অপরাধী হিসেবে যথাযথ বিচারের সম্মুখীন করা উচিত। বলার অপেক্ষা রাখে না, এতে ভালো ফল পাওয়া যাবে এবং এটি দেশের মানুষের জন্য যেমন মঙ্গলজনক, তেমনি দল হিসেবে আওয়ামী লীগের জন্যও শুভ হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×