বীমা খাতে হয়রানি: নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা বাড়াতে হবে

  সম্পাদকীয় ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বীমা
বীমা। প্রতীকী ছবি

দেশের বীমা খাতের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ প্রেক্ষাপটে রোববার এই খাতের চেয়ারম্যান ও এমডিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অর্থমন্ত্রী সব বাড়ি, ফ্ল্যাট, অফিস ভবন ও গাড়িকে অবশ্যই বীমাভুক্ত করতে হবে মন্তব্য করায় অনেকেই বীমা শিল্পের হয়রানি নিরসনের পদক্ষেপ নেয়ার ব্যাপারে যুগান্তরের কাছে তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

তারা বলেছেন, বীমা কোম্পানিগুলো শুধু জোঁকের মতো প্রিমিয়ামের কিস্তি হাতিয়ে নিতে চায়। কিন্তু ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিষয় সামনে এলে বেছে নেয় হয়রানির নানা পথ। তাই বীমার আওতা বাড়ানোর আগে সরকারকে গ্রাহকদের সময়মতো ক্ষতিপূরণের টাকা বুঝে পাওয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে। তা না হলে এটি হবে জনগণের পকেট সাবাড় করার আরেকটি হাতিয়ার।

বাস্তবিকই তা-ই। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য আইনে বীমা বাধ্যতামূলক থাকায় উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে উচ্চ প্রিমিয়াম নেয় ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলো। কিন্তু কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হলে বছরের পর বছর ঘুরেও ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায় না। জীবন বীমার অবস্থা আরও খারাপ।

সম্প্রতি যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কাছে পাঁচটি জীবন বীমা কোম্পানির বিরুদ্ধে ৫ হাজার ৬০৯ গ্রাহকের পলিসির টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগ জমা পড়েছে। তবে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে যেসব অভিযোগ আইডিআরএ’র কাছে পৌঁছাতে পারেনি, সে সংখ্যা হিসাব করলে তা ২০-২৫ হাজার ছাড়িয়ে যাবে।

বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বীমা গ্রাহকরা তাদের টাকা ফিরে পেতে আইডিআরএ অফিসে গিয়ে প্রায়ই খালি হাতে ফিরে আসেন। এটি হয়রানির পর্যায়ে পড়ে।

সাধারণ মানুষ জীবনের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য তাদের স্বল্প আয় থেকে একটু একটু করে টাকা বীমা কোম্পানিতে জমা রাখেন দীর্ঘ সময় ধরে। পলিসির মেয়াদ শেষে সেই টাকা না পাওয়া দুর্ভাগ্যজনক। এটি বীমা আইনের লঙ্ঘনও বটে। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

বস্তুত কিছু বীমা কোম্পানির গ্রাহক হয়রানির কারণে আস্থা হারাচ্ছে গোটা বীমা খাত। ফলে এগোতে পারছে না এ শিল্প। কোম্পানিগুলোর মধ্যে যে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে, তা এ শিল্পের উন্নতির পথে একটি বড় অন্তরায়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে তাদের অনৈতিক ব্যবসা বন্ধ করতে হবে।

এ লক্ষ্যে বীমা আইনের যথাযথ প্রয়োগে আইডিআরএ-কে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। উল্লেখ্য, বীমা শিল্পে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং বীমা আইনকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে ২০১০ সালের মার্চ মাসে নতুন বীমা আইন প্রণয়ন করা হয়।

এর আলোকে ২০১১ সালের জানুয়ারিতে গঠিত হয় আইডিআরএ। কিন্তু শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটিতে তীব্র জনবল সংকট রয়েছে। তাছাড়া অভিযোগ আছে, অনেক বীমা কোম্পানির মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় আইডিআরএ’র পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয় না।

প্রভাবশালী গোষ্ঠী মন্ত্রণালয়কে প্রভাবিত করায় অভিযুক্ত কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে না নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। আমরা মনে করি, বীমা খাতে আস্থা ফেরাতে এসব সমস্যা অবিলম্বে দূর করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×